Popular Post

ক্বওমান তাজহালুন, তরিকায়ে জাহান্নাম এবং আল্লামা ইবলিস ।

By : Maruf Al Berunee
‘জাহেল’ এবং এ থেকে জাত শব্দসমূহ পবিত্র কুরআনে এসেছে মোট ২৪ বার। অজ্ঞ, মূর্খ অর্থে ব্যবহৃত শব্দটি বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে সবারই প্রায় জানা। আরবী এই শব্দটি হিন্দি-উর্দু বলয়েও ব্যাপক ব্যবহৃত।

কুরআন থেকে জেনে নিতে চেষ্টা করি কতরূপে ‘জাহেল’ শব্দটি এসেছে- জাহিলিন (২.৬৭; ৬.৩৫; ৭.১৯৯; ১১.৪৬; ১২.৩৩; ২৮.৫৫); জাহিল (২.২৭৩); জাহিলিয়্যা (৩.১৫৪; ৫.৫০; ৩৩.৩৩; ৪৮.২৬); জাহালাহ (৪.১৭; ৬.৫৪; ১৬.১১৯; ৪৯.৬); ইয়াজহালুন (৬.১১১); ক্বওমুন/ক্বওমান তাজহালুন (৭.১৩৮; ২৭.৫৫; ১১.২৯; ৪৬.২৩); জাহিলুন/আয়্যুহাল জাহিলুন (১২.৮৯; ২৫.৬৩; ৩৯.৬৪); জাহুলা (৩৩.৭২)। 

হযরত ইয়াকুবের (তাঁর প্রতি শান্তি) প্রিয়পুত্র হযরত ইউসুফ (তাঁর প্রতি শান্তি) নিজের ব্যাপারে ‘জাহালাতের’ আশংকা করে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। যে সমস্ত নারীরা তাঁর সৌন্দর্যে মু্গ্ধ হয়ে সম্ভ্রান্ত ফেরেশতা (মালাকুন কারীম-১২.৩১) মনে করে নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল তাদের এবং জুলেখার উদ্দেশ্যে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন: “আমার প্রভু! তারা আমাকে যার প্রতি আহ্বান করছে তার চেয়ে কারাগারই আমার কাছে অধিক প্রিয়। আর তুমি যদি আমার থেকে তাদের ছলনা দূরীভূত না কর তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব, ফলে আমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব (আকুম্ মিনাল জাহিলিন)”।-১২.৩৩

আল্লাহ তা’য়ালা স্বয়ং দুটি জায়গায় কুরআনে হযরত নূহ (তাঁর প্রতি শান্তি) এবং খাতামুন্নাবিয়্যিন হযরত মুহম্মদ (তাঁর প্রতি শান্তি)-এর প্রতি অজ্ঞতা বা নির্বুদ্ধিতার সম্ভাব্যতার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।

নিজ সন্তানকে নৌকায় উঠতে বলার পরও যখন সে তা প্রত্যাখ্যান করল, তখন নূহ নবী কাকুতি প্রকাশ করে স্বীয় প্রভুর কাছে বলেছিলেন - হে পরওয়ারদেগার, আমার পুত্র তো আমার পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত (রব্বি ইন্নাবনি মিনাল আহলি..)। তখন আল্লাহ জবাব দিলেন -''হে নূহ! নিঃসন্দেহে সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়। নিঃসন্দেহে তার কাজকর্ম সৎকর্মের বর্হিভূত, কাজেই আমার কাছে সওয়াল কর না যে-সন্বন্ধে তোমার কোনো জ্ঞান নেই। আমি অবশ্যই তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি-পাছে তুমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড় (ইন্নি আইজুকা আন তাকুনা মিনাল জাহিলিন)।’’- ১১.৪৬

আল্লাহর এই একান্ত বাধ্য, অনুগত নবী তাতক্ষণিকভাবেই নিজেকে সংশোধন করে নেনঃ “হে আমার পালনকর্তা আমার যা জানা নেই এমন কোন দরখাস্ত করা হতে আমি আপনার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, দয়া না করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব”।-১১.৪৭

গোত্রবাদী, বর্ণবাদী কুরাইশ কাফেররা দিব্যচোখে আল্লাহর মহান কালাম না দেখে তার শেষ নবীর কাছে ম্যাজিক (প্রচলিত মোজেযা/কুরআনে আয়াহ হিসেবে উল্লিখিত) দেখতে চাইত; তাদের ফরমায়েশের প্রেক্ষিতে রাসূলও চাইতেন যদি কোন উপায়ে তারা ঈমান গ্রহণ করে অথচ তা মহান, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর অভিপ্রেত ছিলনা। তাই এ ব্যাপারে তাঁর শক্ত অবস্হান নবীকে জানিয়ে দেনঃ “আর যদি তাদের ফিরে যাওয়া তোমার কাছে কষ্টকর হয়, তবে যদি সমর্থ হও তো ভূগর্ভে সুড়ঙ্গপথ খোঁজো অথবা আকাশে উঠবার একটি মই, এবং তাদের কাছে নিয়ে এস কোনো নিদর্শন! আর যদি আল্লাহ্ ইচ্ছা করতেন তবে তিনি তাদের সকলকে অবশ্য সৎপথে সমবেত করতেন, কাজেই তুমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না (ফালা তাকুনান্না মিনাল জাহিলিন)।-৬.৩৫

ক্বওমান তাজহালুন

‘ক্বওমান তাজহালুন’ অর্থাৎ জাহেল বা নির্বোধ সম্প্রদায়-এর কথা হযরত মূসা (তাঁর প্রতি শান্তি), হযরত লূত (তাঁর প্রতি শান্তি), হযরত হুদ (তাঁর প্রতি শান্তি) এবং হযরত নূহ (তাঁর প্রতি শান্তি) তাঁদের দাম্ভিক সম্প্রদায়কে বলেছিলেন যারা আল্লাহর বাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিল। 

জাহেল যেমন আমরা বুঝি, তেমনি আ্ইয়ামে জাহিলিয়্যাও বুঝি। যে সময়ের মানুষগুলোকে জাহিলিয়্যা যুগের বলে আমরা নিন্দা করি তারা কিতাবের জ্ঞানের অধিকারী ছিলনা। কিন্তু স্কন্ধে কিতাব বহন করে কেউ যদি বিশ্বাস করে এবং সেই বিশ্বাসকে খোলাখুলি বিপণন করে যে, কুরআন সুর করে তিলাওয়াতেই বহুত সওয়াব আর কুরআন বুঝে পড়তে নিবৃত্ত করে এই বলে যে তাতে করে গোমরাহ হয়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে –তবে তাদেরকে কী বলা যাবে? ‘জামাতে তাবলীগের’ নিবেদিতপ্রাণ অনেক কর্মীর সাথে কথা বলে এই ধারণাই পাওয়া যায়।

যে লোকগুলো জীবনের বহু ‘তিনদিন’ পার করল মসজিদে মসজিদে পিকনিক করে, চিল্লা দিয়ে দেশ-দেশান্তর ঘুরল, জীবনচিল্লার মত চূড়ান্ত কসরত করল, তাদেরই তৌফিক হলনা কুরআনের একটা আয়াতকে তার দাবী অনুযায়ী তিলাওয়াত করার, তার মতলব-মর্ম অনুধাবনের। সেই দায়িত্ব তারা দিয়ে রাখল তাদের কথিত ‘মুরব্বী’দের হাতে। যারা দ্বীনকে একেবারেই খেলো বিষয় এবং সস্তা সমাবেশে রূপান্তরিত করেছে। আর সস্তার বাজারে খদ্দের সমাবেশ সবকালেই বেশি। 

‘জামাতে তাবলীগের’ নামে ধর্মের এই যে বাজার কায়েম করা হয়েছে সেখানে কৌশলে সাধারণ মুসলমানদের কুরআন-বিমুখ করে রাখা হয়। জোর করে তারা নির্বোধ থাকতে চায়, এবং সারাজীবন তাদের এই নির্বুদ্ধিতা লালন করে থাকে। মসজিদে বসে কুরআন সরিয়ে গীতা-বাইবেল পাঠ করলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে, কিন্তু কেউ যদি একইভাবে ‘ফাজায়েলে আমল’ বা তাবলীগি কুতুবখানা প্রকাশিত অন্য কোন কিতাব দলবদ্ধ হয়ে পড়ে তবে তা সম্পূর্ণ সিদ্ধ। অথচ সবাই মিলে মসজিদে কুরআন পড়া একদম হারাম(?)। মসজিদের ‘ইমাম’ পদবীর যে চাকুরীজীবী তাকেও এই কুরআন-চর্চার বিরুদ্ধেই অবস্থান নিতে দেখা যাবে। এটাই ‘জামাতে তাবলীগের’ দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্রের নতিজা। যদি জানতে চাওয়া হয়, এই সুগভীর ষড়যন্ত্রের হোতা কে, চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় -প্রফেসর আল্লামা ইবলিসে আযম এবং তার দোসররা।

মনগড়া, আজগুবী এবং দলিলবিহীন কথার ফুলঝুড়ি নিয়ে তারা মানুষকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তির জালে আবদ্ধ করছে। “কতদিন সময় লাগানোর পর আপনারা কুরআন-চর্চা শুরু করবেন”- এ জাতীয় প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে কোন তাবলিগার থেকেই আমি কোন উত্তর পাইনি। দেশে দেশে ইসলামের নামে নির্বুদ্ধিতার এইযে মহোৎসব, এইসব মহাসম্মেলন অতিসত্বর বন্ধ হোক!

তরিকায়ে জাহান্নাম

“আল্লাহ তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তিনি তা সজ্ঞানেই করেছেন, সে ব্যাপারে আল্লাহ নিজেও সাক্ষী এবং ফেরেশতাগণও সাক্ষী। আর সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। যারা (সেই নাযিলকৃত বাণী) প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সত্য চাপা দিয়ে রেখেছে, আল্লাহ কখনও তাদের ক্ষমা করবেন না এবং সরল পথ দেখাবেন না -জাহান্নামের পথ ব্যতীত(ইল্লা তরিকায়ে জাহান্নাম)। সেখানে তারা বাস করবে অনন্তকাল। আর এমন করাটা আল্লাহর পক্ষে সহজ”।-৪.১৬৭-১৬৯

মানুষের মত জ্বীন সম্প্রদায়ও বিভিন্ন তরীকায় বিভক্ত (তরায়িকা ক্বিদাদা-৭২.১১); কিন্তু তাদের মধ্যকার যারা জ্ঞানবান তারাও স্বীকার করে এই কুরআনই একমাত্র সঠিক পথের (তরীকিম্ মুস্তাকীম) দিশা দেয়ঃ “তারা বলল, হে আমাদের সম্প্রদায়, আমরা এমন এক কিতাব শুনেছি, যা মূসার পর অবর্তীণ হয়েছে। এ কিতাব পূর্ববর্তী সব কিতাবের প্রত্যায়ন করে, সত্যধর্ম ও সরলপথের দিকে পরিচালিত করে”-৪৬.৩০। ইসলামের আপাত পোশাক পরিয়ে আমরা যত ‘তরিকা’র উদ্ভব ঘটিয়েছি সবইতো তরিকায়ে জাহান্নাম- জাহান্নামে যাওয়ার সহজতম পথ।

দ্বীন অবিভাজ্য। দ্বীনকে খন্ডিত করলে তা আর দ্বীন থাকে না, আল্লাহর কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়না। “তারা আল্লাহর নামে হলফ করে বলে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়, বরং তারা হচ্ছে ফারাককারী সম্প্রদায়-৯.৫৬ (ক্বওমুই ইয়াফরকুন-দ্বীনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী)”। খেদ ব্যক্ত হয়েছে: “আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল তারা বিভক্ত হয় নি যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছিল।-৯৮.৪

‘ফারাক করা’ আমরা কে না বুঝি? ‘ফারাক’ কুরআনে বহু ব্যবহৃত একটি শব্দই শুধু নয়, অতিগুরুত্বের সাথে দ্বীনকে খন্ডিত না করার জন্য ব্যাবহৃত। সেই গুরুভার বাণীগুলো কি আমরা পড়েছি? কোন তাগিদ কি আমাদের আছে সূরা আল-ইমরান (৩.১০৩), সূরা আনআম (৬.১৫৯), সূরা রূম (৩০.৩২), সূরা শূরা (৪২.১৩), সূরা মূমিনুন (২৩.৫৩)- এর এই আয়াতসমূহে কোন বিষয়ের প্রতি জোর দেয়া হয়েছে? 

‘কতায়া’ (কেটে ফেলা অর্থে) শব্দটিও একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন- ফাতাকত্তায়ু আমরহুম যুবুরা, কুল্লু হিযবিম বিমা লাদাইহিম ফারিহুন (কিন্ত তারা নিজেদের মধ্যে তাদের অনুশাসন টুকরো-টুকরো ক’রে কেটে ফেলল। প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে সন্তষ্ট)।অতপর বলা হয়েছে, ‘আন আক্বিমুদ্দিনা ওয়ালা তাতাফার্রাকু ফিহি’ (দ্বীনে কায়েম থাক, আর তাতে ফারাক করো না)। সেই অখন্ড দ্বীন পালন করতে গিয়ে যদি আল্লাহর দ্বিতীয় কোন বান্দা আশেপাশে না পাওয়া যায়, তবুও দ্বীনের খাতিরে একা হতে হবে। জাহেল বা মূর্খদের মজমায় শামিল হওয়া যাবে না।

যারা দ্বীনে ফারাক সৃষ্টি করে তাদের চরিত্র চিত্রন করা হয়েছে ব্যাপক ভাবেঃ হে মুসলমানগণ, তোমরা কি আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? তাদের মধ্যে একদল ছিল, যারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত; অতঃপর বুঝে-শুনে তা পরিবর্তন করে দিত এবং তারা তা অবগত ছিল।-২.৭৫ (আরও-২.৮৫, ২.৮৭, ২.১০০-১০১, ২.৪৬, ৩.২৩, ৩.৭৮, ৪.৭৭, ৪.১৫০-১৫১, ৫.৭০, ৬.৮১, ৭.৩০, ৯.১০৭, ১৬.৫৪, ২৪.৪৭-৪৮, ২৭.৪৫, ৩০.৩৩, ৩৩.১৩, ৪২.১৪)

ঈমান আনয়নে নবীগণের মধ্যেও ফারাক বা পার্থক্য রচনা থেকে হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে (লা নুফার্রিক বাইনা আহাদিম মিনহুম-২.১৩৬, ২.২৮৫, ৩.৮৪)। যারা ফারাক করেনি তাদের প্রশংসা করা হয়েছে: “আর যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর রসূলের উপর এবং তাঁদের কারও প্রতি ঈমান আনতে গিয়ে কাউকে বাদ দেয়নি, শীঘ্রই তাদেরকে প্রাপ্য সওয়াব দান করা হবে। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু”।-৩.১৫২

দ্বীনে ফারাক সৃষ্টিকারী এই ফেরকাবাজ, মুনাফিকদের সহজে চিহ্নিত করার জন্যই যুগে যুগে আল্লাহ তায়ালা সত্য-মিথ্যার ফারাক নির্ণয়কারী ‘ফুরকান’ দান করেছেন। “আর (স্মরণ কর) যখন আমি মূসাকে কিতাব এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বিধানকারী নির্দেশ (ফুরকান) দান করেছি, যাতে তোমরা সরল পথ প্রাপ্ত হতে পার”-২.৫৩; ২১.৪৮। সর্বশেষ নাযিলকৃত আল-কুরআন হচ্ছে সেই আল্টিমেট ফুরকান (২.১৮৫, ৩.৪, ৮.২৯, ২৫.১)।

ঈমানদারকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে, দ্বীনে ফারাক সৃষ্টিকারীদের অনুসরণ করলে তারা তাদেরকে কাফিরে পরিণত করে ফেলবে: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আহলে কিতাবদের কোন ফেরকার কথা মান, তাহলে ঈমান আনার পর তারা তোমাদিগকে কাফেরে পরিণত করে দেবে”।-৩.১০০

দ্বীনে বিভেদ সৃষ্টির ব্যাপারে নবীকে উদ্দেশ্য করে কঠিনতম সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে: “নিঃসন্দেহে যারা তাদের ধর্মকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দল হয়ে গেছে, তাদের জন্য তোমার কোনো দায়দায়িত্ব নেই। নিঃসন্দেহে তাদের ব্যাপার আল্লাহ্র কাছে, তিনিই এরপরে তাদের জানাবেন যা তারা করত”-৬.১৫৯। এর বিপরীতে কঠোর নির্দেশ দেয়া হচ্ছে: “আর তোমরা সকলে (জামিয়া’) আল্লাহর রজ্জুকে (কুরআন) সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না (ওয়ালা তাফার্রকু)”।-৩.১০৩ 

একটু বাদেই তাম্বিহ ঘোষিত হয়েছে: আর তাদের মত হয়ো না, যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নিদর্শন সমূহ আসার পরও বিরোধিতা করতে শুরু করেছে (ওয়ালা তাকুনু কাল্লাজিনা তাফার্রকু ওয়াখতালাফু মিম বা’দি মাযা আহুমুল বায়্যিনাহ্)-তাদের জন্যে রয়েছে ভয়ঙ্কর আযাব।-৩.১০৫

সুনির্দিষ্টভাবে আল-কুরআনকে (হাজা) সরল পথ উল্লেখ করে আল্লাহ ঘোষণা করেন: “তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব তোমরা ইহারই অনুসরণ করবে (ফাত্তাবিয়ুহু) এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করবে না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও।-৬.১৫৩

এক আয়াত পরেই সেই ‘ফাত্তাবিয়ুহু’ যোগে আবারও বলা হয়: এটি এমন একটি গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি, খুব মঙ্গলময়, অতএব, এর অনুসরণ কর (ফাত্তাবিয়ুহু) এবং ভয় কর-যাতে তোমরা করুণাপ্রাপ্ত হও।-৬.১৫৫

আল্লাহর শেষনবীকেও এত্তেবা করার কথা বলা হয়েছে (৭.১৫৮); বহু জায়গায় আতিউল্লা, ওয়া আতিউর্ রাসূলও এসেছে। কুরআন বর্জনকারী ধূর্ত এবং নির্বোধ লোকেরা ঠিক এই জায়গাটিতে রাসূলের নামে চালু হওয়া শতশত মিথ্যা কথাগুলোকে (হাদীস) ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আম-মুসলমানকে বিভ্রান্ত করে।

আল্লাহ পাক নবী এবং মু’মিনদের সান্তনা দান করেনঃ “অথবা তুমি কি মনে কর যে তাদের অধিকাংশই শোনে অথবা বোঝে? তারা তো গরু-ছাগলের মতো (কাল আনআম) ছাড়া আর কিছু নয়, বরং তারা পথ থেকে অধিক পথভ্রষ্ট”।-২৫.৪৪

দ্বীনের দাওয়াহ

আর কে তার চাইতে কথাবার্তায় বেশী ভাল যে আল্লাহ্র প্রতি আহ্বান করে (ওয়ামান আহসানু ক্বওলাম মিম্মান দায়া ইলাল্লহ..) এবং সৎকর্ম করে আর বলে- ''আমি তো নিশ্চয়ই মুসলিমদের মধ্যেকার একজন’’-৪১.৩৩

সেই আহবান কিভাবে করতে হবে তা সূরা নাহলে বলা হয়েছে: “তোমার প্রভুর রাস্তায় আহ্বান করো জ্ঞান ও সুষ্ঠু উপদেশের দ্বারা (উদয়ু ইলা সাবিলি রব্বিকা বিল হিক্বমাতি ওয়াল মাওয়িজাতিল হাসানাহ…), আর তাদের সাথে পর্যালোচনা কর এমনভাবে যা শ্রেষ্ঠ। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু স্বয়ং ভাল জানেন তাকে যে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে, আর তিনি ভাল জানেন সৎপথাবলন্বীদের।-১৬.১২৫

কুরআনেরই আর এক নাম হিকমাহ (হিকমাতুম বালিগাহ-৫৪.৫); কুরআন ব্যতীত উত্তম ওয়াজ বা মাওয়িজাতিল হাসানাহ আর কী হতে পারে (২.২৩১, ২.২৭৫, ৩.১৩৮, ১০.৫৭, ৫.৪৬)?

ওরা যা বলে আমরা তা ভাল জানি, আর তুমি তাদের উপরে জবরদস্তি করার লোক নও। অতএব তুমি কুরআন দিয়ে স্মরণ করিয়ে চলো তাকে যে আমার প্রতিশ্রুতিকে ভয় করে।-৫০.৪৫

“হে গ্রন্থধারিগণ! কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার পোশাক পরিয়ে দিচ্ছ, আর তোমরা জেনেশুনে সত্যকে লুকোচ্ছ”-৩.৭১। “নিঃসন্দেহ যারা গোপন করে রাখে পরিস্কার প্রমাণাবলী ও পথনির্দেশের যে-সব আমরা অবতারণ করেছিলাম এগুলো জণগণের জন্য ধর্মগন্থে সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করার পরেও, তারাই! যাদের আল্লাহ্ লানৎ দেন, আর তাদের বঞ্চিত করে লানৎকারীরা”।–২.১৫৯

অবশ্যই যারা ধর্মগ্রন্থের মধ্যে থেকে আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন তা লুকিয়ে রাখে আর এর দ্বারা তুচ্ছ বস্তু কিনে নেয়,- এরাই তাদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছু গেলে না, আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাদের সাথে কথাবার্তা বলবেন না, বা তাদের শুদ্ধও করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে ব্যথাদায়ক শাস্তি। এরাই তারা যারা কিনে নেয় হেদায়তের বিনিময়ে ভ্রান্তপথ ও পরিত্রাণের পরিবর্তে শাস্তি। কাজেই কতো তাদের ধৈর্য আগুনের প্রতি!-২.১৭৪-১৭৫

খাতামুন্নাবিয়্যিনের ওফাতের পর থেকে কুরাইশ রাজতন্ত্রী থেকে শুরু করে এই সেদিন পর্যন্ত সুচতুর, ধুরন্ধর মুনাফিকেরা (লেবাসী মুসলিম) হরেক রকম ব্রান্ডের ইসলাম (কুরাইশী ইসলাম, আল-হামরা ইসলাম, অটোম্যান ইসলাম, মোঘলাই ইসলাম, ইত্যাদি) ভেল্কিবাজী দেখিয়ে আল্লাহর লানতে ধ্বংস হয়েছে– যদিও তার প্রেতাত্মারা এখনও সুযোগ পেলেই ফোঁস ফোঁস করে। সেই কায়েমী গোষ্ঠীর হাত থেকে ‘পোশাকী ইসলাম’ গত পৌনে এক শতাব্দীকাল ধরে নির্বোধদের কবলে এসে পড়েছে। 

আফালা ইয়া তাদাব্বারুনাল কুরআন? “কি! তারা কি তবে কুরআন সন্বন্ধে ভাববে না? বস্তুত তা যদি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে হতো তবে তাতে নিশ্চয়ই তারা পেতো প্রচুর গরমিল”।-৪.৮২

“এরাই তারা যাদের প্রতি আল্লাহ্ ধিক্কার দিয়েছেন, ফলে তিনি তাদের বধির বানিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টি অন্ধ করে দিয়েছেন। কি! তারা কি তবে কুরআন সন্বন্ধে ভাববে না, না কি হৃদয়ের উপরে সেগুলোর তালা দেয়া রয়েছে? নিঃসন্দেহ যারা তাদের পিঠ ফিরিয়ে ঘুরে যায় তাদের কাছে সৎপথ সুস্পষ্ট হবার পরেও, শয়তান তাদের জন্য হাল্কা করে দিয়েছে এবং তাদের জন্য সুদীর্ঘ করেছে। এইটাই! কেননা আল্লাহ্ যা অবতারণ করেছেন তাতে যারা ঘৃণা করে তাদের কাছে তারা বলে, ''আমরা তোমাদের মেনে চলব কোনো-কোনো ব্যাপারে।’’ আর আল্লাহ্ জানেন তাদের গোপনীয়তা। কিন্ত কেমন হবে যখন ফিরিশ্তারা তাদের মুখে ও তাদের পিঠে আঘাত হানতে হানতে তাদের মৃত্যু ঘটাবে? এইটিই! কেননা আল্লাহ্কে যা অসন্তষ্ট করে তারা তারই অনুসরণ করে আর তাঁর সন্তষ্টিলাভকে তারা অপছন্দ করে, সেজন্য তিনি তাদের ক্রিয়াকলাপ ব্যর্থ করে দেন। অথবা, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা কি ভাবে যে আল্লাহ্ কদাপি তাদের বিদ্বেষভাব প্রকাশ করবেন না?”-৪৭.২৩-২৯

আল্লামা ইবলিস

মানবজাতির আদি, চীরকালীন ও চূড়ান্ত দুষমন শয়তান সবদিক বিবেচনায়ই মানুষের চেয়ে অধিকতর জ্ঞানী, প্রাজ্ঞ। আল্লাহর বানী হাতের নাগালে থাকার পরও যে মানুষ সেই কিতাব পড়েনা, কুরআন বুঝে পড়তে অন্যদেরকে নিরুৎসাহিত করে বিভ্রান্ত ও হালাক হয়ে যাবার ভয় দেখিয়ে – নিশ্চয়ই এই কর্মযজ্ঞ সম্পাদনে শয়তানকে অনেক কুশলী হতে হয়। জ্ঞানের যে স্তরের জন্য আমরা কাউকে ‘আল্লামা’ তকমায় অবিহিত করে থাকি, শয়তান অবশ্যই তারচে অনেক বেশি জ্ঞান রাখে।

যারা আল্লাহর প্রদত্ত কিতাবের অনুসরণ করেনা সূরা জুমুয়ায় বলা হয়েছেঃ “তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে গাধার মতো (কাল হিমার), যে গ্রন্থরাজির বোঝা বইছে। কত নিকৃষ্ট সে-জাতির দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহ্র নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে। নিকৃষ্ট। আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না”।

ডেভিলকে তার প্রাপ্য ‘ডিউ’ দিয়ে দিতে হয়। যে শয়তান তার মেধা-মনন দিয়ে কুরআন-ধারীদেরক গাধা বানিয়ে রেখেছে, সে বর্তমান দুনিয়ার বড় আল্লামা। আমাদের জাহিলিয়াতকে প্রকটিত করে বুঝতে ও বুঝাতে হলেও শয়তানকে তার ক্যাপাসিটি বা যোগ্যতায় আমাদের অনুধাবনে আনতে হবে। ‘আল্লামা’সহ আরও যত বাজারী লকব চালু আছে, তা করা হয়েছে পারস্পরিক হীন স্বার্থ উদ্ধারে, তা স্রেফ মতলবী। আর কাজটি স্বয়ং শয়তান ‘হিযবুশ্ শয়তানদের’ প্ররোচনা দিয়ে করিয়ে নেয়। সময় এসেছে শয়তানের শয়তানীকে তারই কাছে প্রত্যার্পনের। শয়তানকে তার এই প্রাপ্য স্বীকৃতটুকু দিলে আমাদের দায়-দায়িত্বগুলো অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যায়।

বাড়া ভাতে যেমন ছাই পড়ে, শ্রম যেভাবে পন্ড হয় তেমন আমলও বিনষ্ট হয়। জানবাজ তাবলিগ কর্মীদের মত আমরা যারা বস্তা বস্তা আমলের পিছনে ছুটে চলছি, কুরআনের সেই সুনির্দিষ্ট আয়াতগুলো খুঁজে বের করে বিশ্লেষণ সহকার পড়তে হবে, বুঝতে হবে, অন্য মু’মিন ভাইকে তার দাওয়াত দিতে হবে কী কী কারণে আমল বিফলে যায় – যেভাবে নাকি প্রচন্ড ঝড়ো বায়ু স্তুপীকৃত ধুলিকনাকে মুছে ফেলে। “এটা এজন্যে যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা পছন্দ করে না। অতএব, আল্লাহ তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন (ফাআহবাতা আ’মালাহুম)”।-৪৭.৯

“আগে ঈমান, পরে কুরআন”

তাবলীগ জামাতের তালিমগুলোতো ‘স্লো পয়জন’-এর মত এই বিষাক্ত কথাটি সংক্রামিত করে দেয়া হয় যে, ‘আগে ঈমান, পরে কুরআন’। একথা বলে সুকৌশলে কুরআনুল কারীমকে অন্ধ প্রকোষ্ঠে ছুড়ে ফেলা হয়। কুরআনকে সংঘবদ্ধভাবে পরিত্যক্ত করে রাখা হয়েছে গত পৌনে এক শতাব্দীর অধিক কাল ধরে। একথার ভিত্তি কী? জবাব: জানিনা, মুরব্বী জানেন। মুরব্বীকে ধরা হয়, এটি কার কথা, ‘কোন এক সাহাবী বলেছেন’, নাম কী তার। ‘এই মূহুর্তে মনে নেই’। দ্বিতীয়তঃ এই যে ‘পরে কুরআন’, সেই পরেটা কবে, কত জনম চিল্লা দেবার পরে। কোন জবাব নেই।

ইতিহাসের পাতা থেকে জনৈক জুনদুব ইবন আব্দুল্লাহ আল-বাজালী’র এ জাতীয় একটি উদ্ধৃতি পাওয়া যায়- “আমরা ঈমান আনলাম এবং তারপর কুরআন শিখলাম এবং তা আমাদের ঈমানকে বৃদ্ধি করল”। এটি আল্লাহর সেই বান্দার ব্যক্তিগত ভাষ্য – তবে তা অসাধারণ, সুন্দর উক্তি। কুরআনে মু’মিন বান্দার যে বৈশিষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যশীল। “আর যারা জ্ঞানে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত তারা বলে- ''আমরা এতে বিশ্বাস করি, এ-সবই আমাদের প্রভুর কাছ থেকে।’’ আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না”-৩.৭। অতএব যারা ঈমানদার, এ সূরা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়েছে। ৯.১২৪

বলুনঃ তোমরা কোরআনকে মান্য কর অথবা অমান্য কর; যারা এর পূর্ব থেকে এলেম প্রাপ্ত হয়েছে, যখন তাদের কাছে এর তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা নতমস্তকে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে। এবং বলেঃ আমাদের পালনকর্তা পবিত্র, মহান। নিঃসন্দেহে আমাদের পালকর্তার ওয়াদা অবশ্যই পূর্ণ হবে। তারা ক্রন্দন করতে করতে নতমস্তকে ভুমিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের বিনয়ভাব আরো বৃদ্ধি পায়।-১৭.১০৭-১০৯

“আমি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাই রেখেছি। আমি কাফেরদেরকে পরীক্ষা করার জন্যেই তার এই সংখ্যা করেছি-যাতে কিতাবীরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়, মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবীরা ও মুমিনগণ সন্দেহ পোষণ না করে এবং যাতে যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা এবং কাফেররা বলে যে, আল্লাহ এর দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছেন”।-৭৪.৩১

অথচ ঈমানের সর্বোত্তম শর্ত আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন এই বলে যে, “যাদের আমরা গ্রন্থ দিয়েছি তারা উহার তিলাওতের ন্যায্যতা মোতাবেক উহা অধ্যয়ন করে (হাক্কা তিলাওয়াহ), তারাই এতে ঈমান এনেছে। আর যারা তা প্রত্যাখ্যান করে তারাই হয় ক্ষতিগ্রস্ত”।-২.১২১

“তোমাদের কিছু লোক নিরক্ষর। তারা মিথ্যা আকাঙ্খা ছাড়া আল্লাহর গ্রন্থের কিছুই জানে না। তাদের কাছে কল্পনা ছাড়া কিছুই নেই। অতএব তাদের জন্যে আফসোস! যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ-যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে।“-২.৭৮-৭৯

আহমদ দীদাত তাঁর গ্রন্থ ‘দি চয়েস’-এ উল্লেখ করেছেন, কীভাবে খ্রীস্টান বিশ্বে প্রতিবছর বাইবেলকে পরিবর্তন, পরিমার্জন সাপেক্ষে লক্ষ লক্ষ কপি নতুন সংস্করণ প্রকাশ ও বিক্রির চক্রান্তের বিস্তৃত বর্ণনা দিয়েছেন। একই চক্রান্তে জামাতে তাবলীগ একধাপ এগিয়ে এবং এ পর্যন্ত সার্থক। কুরআনের পরিবর্তন সম্ভব নয়, আল্লাহ তায়ালা নিজে সেই দায়িত্ব নিয়ে (১৫.৯) আমাদেরকে অথর্ব বানিয়ে রেখেছেন। অতএব ভিন্ন পন্থা অবলম্বন। কী সেটা, কুরআনকে প্রতিস্থাপিত কর। কী দিয়ে, এর মত কিছু একটা দিয়ে। লক্ষ লক্ষ মসজিদকে প্রতিবছর তাবলিগী কুতুবখানার লক্ষ লক্ষ ‘কিতাব’ কেনান হয় আর বলা হয়: এতে কুরআনেরই কথা লেখা আছে। ঝকঝকে ‘ফাজায়েলে আমলে’র পাশেই পড়ে থাকে ময়লায় আকীর্ণ কুরআন- অবহেলিত, পরিত্যক্ত। সহজ যুক্তিটা আমাদের মাথায় আসেনা, এতে যদি কুরআনের কথাই লেখা আছে তবে খোদ কুরআনটাকেই কেন আমরা গ্রহণ করছি না?

না, এতে কুরআন নেই, শুধুমাত্র কিছু আয়াতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আর সেই সত্যের সাথে মিথ্যা মিশিয়ে তাকে করা হয়েছে এক শয়তানী কাব্য। আর যখন সত্যের সাথে মিথ্যা মেলান হয় এবং সত্যকে লুকান হয় তখন তা আর সত্য থাকে না তা হয়ে যায় আল্লাহর লা’নতের যোগ্য (২.১৫৯, ৩.৮৭, ৯.৬৮, ১১.১৮)। দাওয়াতে তাবলিগের দোহাই দিয়ে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নামে এমন অনেক কথা, আক্বীদা-বিশ্বাস চালু করা হয়েছে যা তাঁরা বলেন নাই। “আর কে তার চাইতে বেশী জালিম যে আল্লাহ্-সন্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে অথবা তাঁর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে? নিঃসন্দেহ অন্যায়কারীরা সফলকাম হবে না।”-৬.২১; ৭.৩৭; ১০.১৭

“সুতরাং কে বেশি অন্যায়কারী তার চাইতে যে আল্লাহ্র বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, যেন সে লোককে বিভ্রান্ত করতে পারে জ্ঞানহীনভাবে?”-৬.১৪৪। “অতঃপর সে ব্যক্তির চাইতে অধিক অনাচারী কে যে আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে এবং গা বাঁচিয়ে চলে।……..-জঘন্য শাস্তি তাদের গা বাঁচানোর কারণে।”-৬.১৫৭

“তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।”-১৮.৫৭

আল্লাহর রাসূলের কথা থেকেও আমরা জানতে পারি যে, তাঁর নামে যে কেউ মিথ্যা কথা চালু করে সে তার বাসস্থান জাহান্নামে করে নিল। লাখো ‘মুসলমান’ তাদের যে সময়-শ্রম-অর্থ প্রতিনিয়ত ব্যয় করছেন তা কুরআনের আলোয় ঝালিয়ে নেয়া জরুরী। কেননা কুরআনের নূর দেওয়া হয়েছে সকল জুলুমাতের (অন্ধকার) কালিমা থেকে আলোর জগতে উত্তরণের জন্য। যদি সেই উত্তরণ না ঘটে, তবে জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে সেই ব্যক্তি নিজের উপর এবং অন্যের উপর জুলুম করে, সে পরিগনিত হয় জালেমে। জুলমাত এবং জুলম একই রুট থেকে উদ্ভূত। 

“এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথরূপে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস স্থাপন করবে। প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর দুর্ভোগ। সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন সে আয়াত শুনেনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন”।-৪৫.৬-৮

তাবলিগের এই লক্ষজনতা হল সেই ‘বোকার বেহেস্তর’ খদ্দের যারা মনে করে যে তারা কথিত ‘নবী-ওয়ালা’ কাজ করে হেদায়েতের উপর আছে। “যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর জিকর (কুরআন) থেকে অন্ধ সাজে, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী। তারাই মানুষকে সৎপথে বাধা দান করে, আর মানুষ মনে করে যে, তারা সৎপথে রয়েছে”।-৪৩.৩৬-৩৭

এরা হল ধর্মের সেই আচমকাসুন্দরী যাদের লেবাস আর বাহ্য কিছু আমল দেখে সবারই ভ্রম হয় দ্বীনদার, ধার্মিক বলে, অথচ তাদের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা-সৌন্দর্য অনুপস্থিত যেহেতু তারা কুরআন বর্জন করেছে।

মাকরান কুব্বারা

আল্লাহর দ্বীনের এবং দ্বীনদারদের বিরুদ্ধে ঘরে-বাইরে যত ষড়যন্ত্র এযাবতকাল সার্থকভাবে বা্স্তবায়িত হয়েছে তার মধ্যে ‘জামাতে তাবলিগ’ সম্ভবত সবচে’ বড়। দরবারী মৌলভী আর মতলবী মৌলানার দ্বীন কেনাবেচা অনেকের চোখেই ধরা পড়ে, ইসলামের নাম ব্যবহার করে দুনিয়া কামানোর জন্য যারা রাজনীতি করে- তাদের কপটতাও আমাদের অনেকের দৃষ্টি এড়ায় না, আর পীর-মোজাদ্দেদের ভণ্ডামী-শঠতা তো অতি-আলোচিত বিষয়। ‘তাবলিগের’ ভেল্কি সেইভাবে পরিদৃষ্ট হয়না। আপাত নিরীহ এই মানুষগুলোর মসজিদে ঘুরে বেড়ানো অনেকের অপছন্দ হলেও এর বিরুদ্ধে বলার মত কোন শক্ত কোন যুক্তি খুঁজে পায় না। পাবার কথাও নয়। কেননা সে নিজেও সেই একই দোষে দুষ্ট- তা হচ্ছে কুরআন বিমুখতা। তিনি হয়ত কুরআন পড়েন না, তবে কুরআনকে বুঝে পড়ার বিরোধিতা করার মত ঔদ্ধত্যও দেখান না। অথচ একজন সাধারণ মুসলমান যেই না তাবলিগে যাতায়াত শুরু করে, তারপর থেকেই মুরব্বীর দোহাই দিয়ে কুরআন-চর্চার বিরোধিতা করার মত দুঃসাহস দেখায়- অথচ নিজেকে দ্বীনের দাঈ ভেবে পরিতৃপ্তির পান চিবোয়।

‘গায়েবী মদদ’ আর ‘যবের যাতার’ রসালো গল্প দিয়ে কুরআন-বিমুখ মানুষকেই মোহাবিষ্ট করা যায়, কুরআন পড়নেওয়ালাই কেবল শুভংকরের ফাঁকিটা আঁচ করতে পারে।

তাবলিগের কর্মীরা জনপ্রিয় যুক্তি প্রদর্শন করে থাকে, তাদের কারণে অনেক মানুষ ‘নামাজী’ হচ্ছে। না, বরং তাবলীগের ফাঁদে পড়ে সাধারণ মুসলমানেরা ভেজাল ইসলামের পক্ষাবল্বন করতে গিয়ে অজ্ঞাতসারেই কুরআনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে- তারা আল্লাহ এবং রাসূলের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করছে।

নবীর কপট দরদী (আবু জাহল-এর ভালবাসা)

আবু জাহল কে এবং তার নামের হাকীকত কী, সাধারণ মুসলমান মাত্রই তা অবগত। সেই আবু জাহল একদিন স্বীয় ভাতিজা হযরত মুহম্মদকে (তাঁর প্রতি সালাম ও শান্তি) বলল, আমরা অবশ্য তোমাকে অবিশ্বাস করিনা, কিন্তু যেই ধর্ম এবং কিতাব তুমি এনেছ তা আমরা বিশ্বাস করতে পারিনা। ‘নবী-ওয়ালা কাজের’ এই কপট দরদীরা, আল্লাহর যমীনে নবীর আদর্শ কায়েমের রাজনৈতিক কুশীলবেরা, ‘নবীর সুন্নতের’ ফরমাবরদার দাবীদার ভন্ড পীর-মোজাদ্দেদরা আবু জাহলের মতই আল্লাহর কিতাব কুরআনকে বাদ দিয়েই নবীর প্রতি তাদের কথিত বিশ্বাস-ভালবাসার আদিখ্যেতা জাহির করতে চায়। কুরআনের পরতে পরতে কপট, মুনাফিকের চরিত্রের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে মু’মিনদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে

আফসোস! আফসোস!! আফসোস!!! (হাসরাহ্)

যাবতীয় বিভ্রান্তির মোকাবেলায় আমাদের আক্বল প্রয়োগের সময় এসেছে। কুরআনে বহু বহুবার আমাদের উদ্দীপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে এই বলে যেঃ আফালা তা’ক্বিলুন-তোমরা কি উপলব্ধি কর না। আক্বল সংক্রান্ত আয়াত রয়েছে মোট ৪৯টি। আর তারা বলবে-“আমরা যদি শুনতাম অথবা বুদ্ধি (আক্বল) প্রয়োগ করতাম তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দাদের মধ্যে হতাম না।’’-৬৭.১০

যে বিচার-বিবেচনা বোধ আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের দিয়েছেন তা প্রয়োগ না আমরা যে ক্ষতির মধ্যে নিপতিত হচ্ছি তার জন্য আল্লাহ্ স্বয়ং আমাদের অবস্থার উপর আফসোস করেন। লাও কানু ইয়া’লামুন (হায়, যদি তাদের বিবেকবুদ্ধি থাকত)-২.১০২, ২.১০৩, ১৬.৪১, ২৯.৪১, ২৯.৬৪, ৩৯.২৬, ৬৮.৩৩। হায়! আফসোস বান্দাদের জন্য (ইয়া হাসরতান আলাল ইবাদ)! তাদের কাছে এমন কোনো রসূল আসেন নি যাঁকে নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করেছে!-৩৬.৩০

যদি যুক্তির খাতিরে ‘তাবলিগের’ দাওয়াতের পদ্ধতিগত বিষয়টিকে ধরেও নেই, সেক্ষেত্রেও তা কুরআন-চর্চার এক অভূতপূর্ব মাধ্যম হতে পারত। প্রতি বছর দেশের একটি সরকার যেমন বাজেট ঘোষণা করে, তেমনিভাবে বিশ্বএজতেমা সারা বিশ্বের সকল মুসলমানের জন্য বাৎসরিক কুরআন-চর্চার সিলবাস ঘোষণা করতে পারত। সকল মুসলমান জানত কোনদিন তার পাঠের তালিকায় কী আছে। কুরআনের একই আয়াত একই সাথে যমিনের এক বিশাল জনগোষ্ঠী যখন অভিনিবেশ সহকারে তিলাওয়াত করত তার সুফল কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হত তা আমরা ভাবতেও পারিনা। ফজর এবং মাগরিবের সালাতের পর যদি যমিনের আনাচে-কানাচে কোন এক সূরার একটি রুকুর আলোচনা হত, তাহলে আল্লাহর কত সহস্র বান্দা কুরআনের আলোয় সিক্ত হয়ে তা অন্যত্র ছড়িয়ে দিতে পারত। বিশ্বের মসজিদে মসজিদে সারা বছরে পঠিত কুরআন-চর্চার সর্বজনিন পর্যালোচনার আসর হতে পারত এই মহাসম্মেলন। অথচ একজন মানুয় চল্লিশ বছর তাবলিগ করার পরও গৎবাঁধা আজগুবী, কুরআনের সত্য বর্জিত কথা ব্যতীত আর কিছুই বলতে পারে না। তারা যুক্তি-তর্ক করে ‘বিগইরি ইলম, ওয়ালা হুদা’। “আর মানুষদের মধ্যে এমনও আছে যে আল্লাহ্ সন্বন্ধে বিতর্ক করে কোনো জ্ঞান না রেখে আর কোনো পথনির্দেশ ছাড়া আর কোনো দীপ্তিদায়ক গ্রন্থ ব্যতিরেকে”।-২২.৮, ৩১.২০

অতএব শয়তানের তাবেদারী বয়কট করে অনতিবিলম্বে বন্ধ হোক কুরআন-বিরুদ্ধ এই কপট আয়োজন– একে পরিণত করা হোক পাক-কুরআনের নূরে আলোকিত হবার মহান অভিযাত্রায়। নইলে আমাদেরকে তাঁর ‘ক্বওম’ হিসেবে স্বীকার করে নিয়েও ক্বিয়ামতের সুকঠিন দিনে আমাদের থেকে আল্লাহর শেষনবী (তাঁর প্রতি সালাম ও শান্তি) নির্দায় হবেন এই বলেঃ “হে আমার প্রভু! নিঃসন্দেহে আমার সম্প্রদায় এই কুরআনকে পরিত্যজ্য বলে সাব্যস্ত করেছিল।’’-২৫.৩০

মহিমান্বিত কুরআনের কতিপয় আয়াত উল্লেখ করে আমাদের বদ্ধমূল নির্বুদ্ধিতা, জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসা কুপমন্ডুকতাকে তুলে ধরার যে চেষ্টা এখানে করা হয়েছে তা নিশ্চিতভাবেই অকিঞ্চিতকর, আংশিক। একমাত্র বিকল্প, সবাই মিলে সারাজীবনের জন্য কুরআনের আলোর অভিযাত্রায় নিজেকে শামিল করার জন্য নিয়ত করা, উদ্যোগী হওয়া। নইলে আল-কুরআন নিজেও ক্বিয়ামতের দিন এর অবহেলাকারীদের জন্য ‘হাসরাহ’ বা আফসোসের কারণ হয়ে দাড়াবে –“আর নিঃসন্দেহে এটি (কুরআন) প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য বড় অনুতাপের বিষয়।-৬৯.৫০

জীবন সায়ান্থে নবজীবনের সন্ধান

By : Maruf Al Berunee
জনাব বদরুদ্দীন ওমর 

শুভেচ্ছা নিন

১৯৬১ সালে আপনার পিতার সাথে আমার প্রথম সাক্ষাত হয়। তখন সবে মাত্র আপনার পিতা আইউব খাঁর আশীর্বাদে “ইসলামী একডেমী” নামে একটি ধর্মের নাম ফলকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার আখড়া গড়েন। সেটিই আজ ইসলামিক ফাউন্ডেশন নামে ধর্মপ্রান মানুষকে “ঘুমের বড়ি” সরবরাহ করছে, এবং তন্দ্রাচ্ছন্ন মানুষকে রাজনৈতিক বাটপার ও ধর্মবেসাতীরা ধর্মের নামে শোষণ করছে। সুবিধাবাদী বর্গীদের “ডানপন্থী” আখ্যা দিয়ে আপনারা কল্পনাবিলাসীরা যে “বামের” ধারা বহাতে সচেষ্ট, তার প্রতি বিধি বাম। নাস্তিকতার প্রেতাত্মা সৃষ্টিজীবে চমক ও আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারে না। মানবের ইহলৌকিক জীবনে প্রাপ্তির আশার চমক চাই। পরকালেও মুক্তির দিশা চাই।

স্রষ্টার সৃষ্টি চমৎকার। শয়তানের প্রতিক্রিয়া কদাকার। ডান-বামের আলাপ চারিতা ইবলিসের দ্বিচক্রযানের দু’চাকা। এতে মানবজনতা পিষ্ঠ। সড়কের দু’পার্শ্বে গভীর খাদ সৃষ্টি করা চাকা দু’টির এক্সেলের মাঝপথে পায়ে হেটে চলা মানুষেরা রুটি বেলা বেলুনের নিচে চাপা পড়ে চ্যাপ্টা হয়ে, পিষ্ট হয়ে রুটি হচ্ছে। যানে আরোহী ডান-বামের পিশাচেরা পিষ্ঠ জনতাকে ভাগ করে খাচ্ছে।

সরল পথে জনতাকে বাঁচাতে সে দ্বিচক্রযানের এক্সেল বা অক্ষদন্ড ভাঙ্গতে আমি আদিষ্ট। তা’ না হলে ভূ-পৃষ্ঠের মহাসড়কে মহাকালের যাত্রী মানব প্রজন্ম পিষ্ট হয়ে পিষ্টক হতেই থাকবে, এবং নারকীয় ডান-বামের পিশাচরা তাদের এভাবে পৈশাচিক উল্লাসে নিঃশেষ করে যাবে।

সত্য, সততাই জীবন ও জীবনের প্রবাহ। এ জীবন প্রবাহই ধর্ম। এ ধর্মের বিধায়ক বিধাতা। মানুষ নয়।

মিথ্যা কপটতা। কপট জীবন নরক। অধর্ম। এর প্রবর্তক নারকীয় শয়তান। প্রতারক শ্রেণীই শয়তানের প্রজন্ম। ডান-বাম এদের জীবন চক্র। এর কোনো বিধাতা বিধায়ক নেই। যেমন অবৈধের কোনো পিতৃ স্বীকৃতি হয় না।

আপনার পিতার দ্বিচারী চরিত্রে আমি তাকে এক পথ বেছে নিতে বলেছিলাম। তাতে তিনি অপারগ হলে তাকে আমি ১৯৪৪ সালে তার প্রতি আমার পিতার সাবধান বানী স্মরণ করিয়ে দিই। তাতেও তিনি পথ মত পরিবর্তনে অস্বীকৃতি জানালে সত্য ও জনমানবতার স্বার্থে আমি পত্র-পত্রিকায় আইউব, মোনেম, সবুর, ফজলুল রহমান সহ আবুল হাশেম চক্র নিয়ে বলিষ্ঠ বক্তব্য তুলে ধরি। এ নিয়ে খাজা নাজিমুদ্দীন ও ফজলুর রহমান সহ আপনার পিতার সাথে একটি আলোচনা বৈঠকও হয়। তাতেও আমি মুসলমান জাতীয়তাবাদের মুনাফেকী ও পাকিস্তানী জিন্নাহবাদী মিথ্যাচার ও পাকিস্তানের পরিণাম পরিনতি সম্পর্কে চরম সতর্কবানী তুলে ধরি। তখন বয়সে এদের সামনে এক তৃতীয়াংশ ছিলাম বলা চলে। কিন্তু সত্যের স্বাক্ষ্যে আমি বাবা আদমের সনাতনী অঙ্গিকারে অনড় থাকি। ফলে এক পর্যায়ে আপনার পিতা আমার হাত ধরে বলে উঠেন “আমার দৃষ্টিশক্তি থাকলে আমি চোখ ভরে তোমাকে দেখতাম। ১৯৪৪ সালে তোমার বাবা-যা শুনিয়েছিলেন, আজ দু’দশক পরে তুমি তা শোনালে। তোমার মতো যুবক সম্ভবতঃ প্রথম পেলাম। তুমি তোমার পিতার স্বাক্ষ্য। আমার বড়ছেলের নাম রেখেছিলাম বদরুদ্দীন ওমর। সে আমার আক্ষরিক মেধা পেয়েছে। ধর্মীয় দর্শন পায়নি। আমার স্বভাব দোষও পায়নি। কিন্তু আমার ছোটছেলে আমার পান্ডিত্য পায়নি। কিন্তু চারিত্রিক বৈচিত্র তার মাঝে পরিলক্ষিত। জানিনা পরিনামে কার অবস্থান কোথায় দাঁড়ায়”। আপনার চাচা বাসেত সাহেব সে বৈঠকে আপনার অন্ধ পিতার সঙ্গী ছিলেন। 

আজ প্রায় দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দী পরে আমার এ পত্র লিখা আপনাকে কোনো হারানো বা অজানা পথের সন্ধান দিবে কিনা জানিনা। তবে আপনার মঙ্গলের আশা নিয়েই লিখলাম।

বিশ্ব আজ সত্য থেকে নিঃস্ব। এক বাচনিক সত্য বলার কেউ নেই। সত্য বলায় আমি একা। যেমন আমার স্রষ্টা একা। তাই আমি নির্ভীক সত্য বলায় আনন্দ পাই।

নাস্তিক রাশিয়া ধর্মের দুয়ারে শান্তি ভিক্ষার হাত বাড়িয়েছে, চীনও ঘুরঘুর করছে। ভারত হিন্দুত্ববাদের ত্রিশুল উঁচিয়ে। বুশ যীশুর নব অবতার। শ্যারনরা ঈশ্বরের একমাত্র বৈধ সন্তানদের জাত ও জাতি?! খৃষ্টানরা ওদের মতে ব্যভিচারীনীর জারজ সন্তানের অনুসারী। বদরুদ্দীনরা হলো ইবরাহীমের কাজের বুয়া, বাঁদি হাজেরার পুত্র, ইশ্মাইলের বংশোদ্ভুত মুহাম্মাদের অনুসারী অস্পৃশ্য জাতি। এ মুসলমানদের কি হবে? বাঙ্গালী, বাংলাদেশীদেরই বা ভবিষ্যত কী?

মানব সন্তান তার বাপদাদার চরিত্রে প্রভাবান্য ধর্মাবলম্বী হয়। বাপদাদা ধর্মাচরণে কপট হলে সন্তানরা ধর্মদ্রোহী হয়। আলোচনা প্রসঙ্গে আপনার পিতা তার জমিদার পরিবারের সে নষ্টামীর বর্ননা দিয়েছিলেন, তাতে আপনার মতো সাত্ত্বিক সন্তানের পিতৃধর্ম বিরোধী হওয়াই স্বাভাবিক। আমার বাপদাদাও পূর্বপুরুষ ধর্মে নিষ্ঠাবান না হলে আমিও হয়তো চরম ধর্মদ্রোহী হতাম।

আপনি কি আহমদ শরীফের ন্যায় মৃত্যুর পর আপনার মরদেহ কাটাছেড়ার জন্য শকুন কুকুরকে দান করতে পারবেন? না কমরেড ফরহাদের মতো আপনার জানাযা কুলখানী হবে? আমার মনে হয়, তার চেয়ে বেশী হবে। ইসলামে বংশ বৈষম্য নেই। বংশ বৈশিষ্ট ও ঐতিহ্য আছে। আপনার তা’ আছে বলে মনে করি।

আরব বেদুঈনরা আল্লাহর পূর্ন নবীর চরিত্র বিকৃত করে বর্ণবাদী ইয়াহুদীদের চেয়েও অভিশপ্ত। মধ্যপ্রাচ্যে বর্ণবাদী ইয়াহুদী ও বর্ণবাদী বর্বর আরব স্বৈরাচারী শাসক শোষকদের ক্বেয়ামত আরম্ভ হয়েছে। ওতেই ওদের মরুভূমিতে কবর হবে।

এখন ভারতবর্ষ থেকে বদরূদ্দীন ও বদরুদ্দোজাদের সত্যের পথে চমকপ্রদ তওবার মাধ্যমে বিস্ময়কর চমক সৃষ্টি করে গন মানুষের কাফেলায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। জন সাধারণ চমক চায় । সত্যের চমক “মোজেযা”। মিথ্যার চমক নর-নারীর অবাধ পাশবতার হাটবাজার ও মঞ্চমেলা। পর্নোগ্রাফী।

বর্তমান বাংলাদেশ দু’ ঘর ভাঙ্গা নারীর দেবর-ভাসুরদের “আদম-হাওয়া” ভবন। এ প্রসঙ্গে বদরুদ্দোজা কামাল হোসেনদের নিয়ে লেখা পত্রের অনুলিপি পাঠালাম।

অপর মেরুতে বিশ্ব মানবের জন্য আল্লাহর প্রেরীত শেষ নবী, মরু রাখাল মুহাম্মাদ সা: এর মূল আদর্শ তুলে লেখা বইয়ের এক কপি পাঠালাম। বাংলাদেশে ধর্মবেসাতি রাজনীতিকদের ধর্মও নেই চরিত্রেও নেই। এরা নাকি “ডানপন্থী”! কথিত বামপন্থীদের তুলনামূলক চরিত্র আছে। ধর্ম নেই। চরিত্রবানদের সত্যধর্মের মুখ দেখাতে আমার এ পত্র। তবেই হাসিনা খালেদার অভিশাপ দূর হবে।

আর খন্ডিত রাম মোহন রায়, লালন শাহ, রবি ঠাকুর ও গান্ধিবাদী “ঈশ্বর ও আল্লাহর” জপতপ নয়। সরাসরি বিশ্ব সত্যের এক স্রষ্টা, এক বিশ্ব ও এক অভিন্ন মানবতার বিশ্বায়নের চমক ও তার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাংল সূর্যসম থেকে উদিত হতে হবে। তবেই বিশ্বে চারবার “নষ্ট” বলে ঘৃনিত বাংলাদেশ, মক্কা, মদীনা ও আকসার বিস্ময় অর্জন করবে। 

আপনার জন্মদাতা পিতার মুখ থেকে শোনা ও কখনো সখনো পত্র পত্রিকায় আপনার লেখার শিরোনামা পড়া ব্যতীত আপনাকে আমি কখনো দেখিনি। আমার লেখা তিন কাল দর্শনের। আÍিক অতীত, দৈহিক বর্তমান ও পরকালিন ভবিষ্যতের জবানবন্দী আমার লেখা। পড়ার পর কোন মিল হলে সাক্ষাৎ কাম্য। আমার পক্ষ থেকে আপনি আমন্ত্রিত। শেষ কথা “শেষ ভালো যার, সব ভালো তার”।

* সৃষ্টিগত ভাবেই মানুষ ধর্মপ্রাণ। ঘুষ, সুদ ও কালো টাকায় জন্মানো, কুশিক্ষিত কিছু শহুরে হারামজাদা ব্যতীত বাংলার মানুষ ধর্মপ্রান। বাংলার আল্লাহপ্রদত্ত উর্বর মাটিতে ফলা ধানের শীষের ন্যায় বাঙ্গালীর নাড়ীর সম্পর্ক আল্লাহর সাথে। তারা খাঁটি ধার্মিকের সরকার-শাসন চায়। খাঁটি ঈমানদার না পেয়ে অগত্যা প্রতারনাচ্ছলে “বিসমিল্লাহ”,“আল্লাহ মহান” বলা দু’বেহায়া মহিলার দালালদের জনগন ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাচ্ছে। এরাও তাদের প্রতারনার দোসর রূপে দাড়ি টুপি ওয়ালা অতিরিক্ত পশম সম্পন্ন কিছু নরপশুর সাথেও জোট বাঁধছে। নবী আদর্শের মূর্ত প্রতীক দাড়ি পাগড়ী ওয়ালা সিংহ পুরুষদের কোনো দল পেলেই বিশ্বময় স্রষ্টা ধর্মের মানবজাতী তাদের বিশ্ব শাষনের সিংহাসনে অভিষিক্ত করবে।

* দাড়িমোচ কামানো আধা পুরুষ আধা নারী নপুংসক নাস্তিক ধর্মহীনদের প্রতি নারীপুরুষ কারোরই আস্থা নেই। তুলনা মূলক ত্যাগী বাম পন্থীদের মধ্যে আমি বহু লোককে জানি যারা দেহ-যোনির সেচ্ছাচারী বউদের মোটা বেতনে বহুজাতিক এনজিও দের কাছে ভাড়া খাটায় । ওদের পয়সায় ও মুরোদহীন মরদগুলো প্রগতিবাদী (?) রাজনীতি করে। জনগন তাদের পাতে ভাত দেয়না, কখনো দিবেনা।

ভিনদেশী পর পুরুষের দামী গাড়ি ও এসি অফিসে অভিসার শেষে উষ্ণ হওয়া ও বহু ক্ষেত্রেবীজ নেওয়া ম্যাডামরা ঘরে ফিরে তাদের মাংস দাবানো ও ওদের পেটে জন্মানো সন্তাদের পিতৃ পরিচয় দেয়ার জন্য ওরা ওদের প্রগতীবাদী দুঃস্থ নরদের সাথে এক বিছানায় রাত কাটায়। এটা আসলে পশুপাশবীর “লিভ টুগেদার”। মানব স্বামী স্ত্রীর সংসার নয়। বাম হাতে ভিক্ষা চাইলে যেমন লোকে ভিক্ষাও দেয়না, তেমন বামপন্থীদের কখনো জনগণ ভোট দিবেনা। ভোট চাইলেও ডান হাতে ভোট ভিক্ষা চাইতে হবে।

* দেশে মানুষ গড়ার কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা সকল বৈধতা হারিয়েছে। পান বিড়ির দোকানের মতো রাস্তা ঘাটে ইউনিভার্সিটির সাইনবোর্ড ছেয়ে যাচ্ছে । সরকারী বিদ্যালয় সমূহের শিক্ষক নামের ইতররা কোচিং সেন্টার খুলে মাসে লাখ টাকা লুটছে।

* এ অবস্থায় করনীয় হচ্ছে নগরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লুটেরা শিক্ষকদের হাতে ছেড়ে দেয়া। সরকার শুধুমাত্র মান নিয়ন্ত্রক পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রন করবে। যেমন দ্রব্য সামগ্রীর মান নিয়ন্ত্রক টেস্টিং ল্যাবোরেটোরি থাকে।

* অপর দিকে নগর উন্নয়ন সম্পূর্ন বন্ধ করে পল্লী গ্রামে গ্রামীণ অভিভাবকদের কঠোর নিয়ন্ত্রনে পিতা মাতা ও গুরু ভিত্তিক সহ দেশসেবার গনশিক্ষা প্রবর্তন করতে হবে। সে জন্য বদরুদ্দীন ওমরদের গ্রামে হিজরত করতে হবে প্রকৃত ধার্মিক হয়ে। আরও বহু অমূল্য উপদেশ। যদি সাক্ষাত হয়.....। 

শেষ প্রহরের মুয়াযযিন।

প্রতিহিংসা, প্রতিশোধপরায়ন শোষক সরকার ও বিরোধীদলের সন্ত্রাসে জর্জরিত মজলুম বাংলাদেশের মুক্তি ও দেশবাসীর নাজাতের তওবা, দোয়া ও মোনাজাত। জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের ফরিয়াদে আল্লাহর আরশ কাঁপে।

By : Maruf Al Berunee
আউযু বিল্লাহি মিনাশ্ শাইতানির রাজীম।

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

# ইয়া আল্লাহ্! আপনি ব্যতিত কোনো উপাস্য নাই। আমরা বাবা আদম ও মা হাওয়ার সন্তান নরনারী। শয়তান আমাদের বিপথগামী করে বহু জাতিতে বিভক্ত করেছে। আমরা সে শয়তান ও তার মানব সন্তান শোষক-শাসকদের বর্জন করে তওবা করে আপনাকে সিজ্দা করলাম। আর কারো কাছে মাথা নত করবোনা। আপনি আমাদের ক্ববুল করুন।

# ইয়া আল্লাহ্! আপনার নবী হজরত মুসার নামে মিথ্যা দাবীদার ইয়াহুদি ইস্রাঈল, হজরত ঈসার নামে অপবাদকারী খৃষ্টান ও শেষ নবী মুহাম্মাদ সাঃ এর নামে মিথ্যাবাদী আরবরা বিশ্বে ধর্মের নামে সন্ত্রাসের আগুন জ্বালিয়েছে।আমরা হজরত ইব্রাহীমের অনুসারী। নমরুদের আগুনের ন্যায় আপনি সন্ত্রাসের আগুন নিভিয়ে দিন। আপনি আমাদের দোয়া ক্ববুল করুন।

# ইয়া আল্লাহ্! ১৯৪৭ সালে আপনার নবী সঃ এর আদর্শে অর্জিত পাকিস্তানের শোষক, শাসকরা বাংলাদেশের জনগনকে নিপীড়ন করে তাদের অর্জিত পাপে, ১৯৭১ সালে পরাজিত ও লাঞ্চিত হয়। তাদের অত্যাচার চলেছিলো ২৩ বছর ধরে। পকিস্তানিদের হাত থেকে মুক্তির পর দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে যারা এ দেশকে লুট করে বিশ্বের এক নম্বর দরিদ্র ও এক নম্বর দুর্নীতি পরায়ন রাষ্ট্রে পরিনত করেছ, তাদের কে সবংশে নির্মূল করে জাতিকে মুক্তিদান করুন। আপনি ক্ববুল করুন। আপনি আমাদের একমাত্র প্রভু ও আশ্রয়।

# ইয়া আল্লাহ্! আল ক্বোরআনে আপনার ওয়াদা, পৃথিবীর নির্যাতিত তম জাতিকে বিশ্ব মুক্তির নেতৃত্ব দানে ধন্য করবেন। বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ পয়লা নম্বর দরিদ্র ও পয়লা নম্বর দুর্নীতি পরায়ন দেশ। বাংলাদেশ সরকার ও তার নির্বাহী আমলা ও তার রক্ষা কারী সামরিক, আধা সামরিক ও পুলিশ বাহিনী পরষ্পরের সম্পূরক ও সহায়ক হয়ে দেশ ও জাতিকে এ পর্যায়ে এনেছে।

# ইয়া আল্লাহ্! এ অক্টোপাসদের হাত থেকে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে মুক্ত করে বিশ্বের শোষিত নির্যাতিত বাবা আদম ও মা হাওয়ার সন্তানদের মুক্তকারী ও মুক্তিবাহিনী বানিয়ে দিন। এদের নেতৃত্বের জন্য এমন এক নেতা দিন, যার আবির্ভাবের জন্য বিশ্বের নির্যাতিত নরনারী ও শিশুরা আপনার দরবারে কাতর আর্তনাদ করছে। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

# ইব্লিস শয়তানের সন্তান, বিশ্বের শোষক-শাসকদের যাঁতা কলে পিষ্ট আদম সন্তান নরনারীদের পক্ষে:-

মানব জাতের উৎস, তার বিকাশ ও নাশ ।

By : Maruf Al Berunee
মানবজাত আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, আশরাফুল মাখলুকাত। সে স্বনাম ও স্বকর্মে সার্থক হলে স্রষ্টার পরই সে শ্রেষ্ঠ। ফেরেশতারা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে আল্লাহ্কে সিজ্দা করে তার স্বীকৃতি দিতে হয়। এদের নিম্নশ্রেণী মানবজাত। মধ্যম শ্রেণী জাতকজাত। শ্রেষ্ঠ শ্রেণী মহাজাতক। এদের সবার শত্রু জারজরা। এরা আকারে মানুষ। মূলে শয়তান বা ইবলিসের মানস পুত্র। মানুষ জাতির জাতশত্রু ইব্লিস এদের মাতা-পিতার মিলনে অংশিদার হয়ে এদের গর্ভসঞ্চার থেকে, ভূমিষ্ট, খাদ্য, শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবনমরণে সঙ্গী। কিন্তু ক্ববর ও হাশরের দিন একজন আরেক জনের শত্রু। স্বামী স্ত্রীর, স্ত্রী স্বামীর, মাতা পিতার, পিতা মাতার, সন্তান পিতামাতার, পিতামাতা সন্তানের ও শাসক শাসিতের এবং শাসিত শাসকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে। পরস্পর পরস্পরকে দোষারোপ করে দ্বিগুন শাস্তির জন্য আবেদন জানাবে। আল্লাহ্ বলবেন, “তোমাদের উভয়কেই দ্বিগুন শাস্তিদেয়া হলো"।

رَبَّنَا هَٰؤُلَاءِ أَضَلُّونَا فَآتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِّنَ النَّارِ (সূরা আরাফ-৩৮) 

অপর দিকে জাত, জাতক ও মহাজাতক মানবরা পৃথিবীতে জাত জাতককে অনুসরণ করতে চাইবে, এবং এরা উভয়শ্রেণী মিলে উত্তম মহাজাতক শ্রেণীকে জানমাল সমর্পণকরে তাদের ইমামতে পার্থিব জীবন যাপন করবে। মৃত্যুর পর একে অপরের জানাযা পড়ে দাফন করে তাদের জন্য দোয়া করবে প্রত্যেক সালাত শেষে। রোজ কেয়ামতে এরা পরস্পরকে সালাম করবে تَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ এবং একজন অপর জনের পক্ষে স্বাক্ষ্য দিয়ে মর্যাদা বৃদ্ধির দোয়া করবে। (সূরা ইব্রাহীম-২৩)। স্বংয় আল্লাহ্ ক্বেয়ামতের দিন সালাম জানাবেন তাঁর এ জাত, জাতক ও মহাজাতক বান্দাদের। سَلَامٌ قَوْلًا مِّن رَّبٍّ رَّحِيمٍ (সূরা ইয়াসীন-৫৮) এর বিপরীত মানব জাতের কুলাঙ্গার, জারজদের, আল্লাহ্ হাশরের মাঠেই জাত, জাতক ও মহাজাতক বান্দাদের থেকে পৃথক হতে হুকুম জারী করে বলবেন وَامْتَازُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ “তোরা জারজরা পৃথক হয়ে যা" (ইয়াসিন-৫৯) তারপর মানব জাতের এ জারজ শ্রেণীর অপকর্মের চার্জশীট দিবেন আল্লাহ্। (সূরা ইয়াসীন ৬০-৬৭)। তারপর এ জারজ শ্রেণী করজোড় করে কৈফিয়ত পেশ করে আল্লাহর সাথে একটু কথা বলে দয়া ভিক্ষা করতে চাইবে। قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ- رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ (সূরা মু'মিনুন ১০৬-১০৭)

তদুত্তরে আল্লাহ্ তাদের বলবেন, “তোরা অভিশপ্ত হয়ে এ জাহান্নামেই থাক। আমার সাথে কোনো কথাই বলবিনা।" (সূরা মু'মিনুন-১০৮) তারপর পুনঃ তাঁর জাতক ও মহাজাতক বান্দাদের গুণাবলী তুলে ধরবেন জারজদের সামনে। সে দিন আল্লাহ তাদের বিজয় ঘোষণা করে তাদের পুরষ্কার দিবেন (সুরা মু'মিনূন ১০৯-১১১)। 

তথাকথিত বাইবেল বিশ্বাসীদের প্রতি একটি খোলা চিঠি

By : Maruf Al Berunee
“মিথ্যা ত্যাগ করে সত্যের দিকে আসো”

সকল সত্যবাদী ও সত্যান্বেষকদের প্রতি, এক মহাসত্যের অনুসারির আবেদন।

জনাব নিবারণ দাস,

বিশপ,ঢাকা মেথিডিস্ট চার্চ,

২৫০/১ দ্বিতীয় কলোনী, মাজার রোড, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

প্রিয় প্রতিবেশি,

আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিন।

আপনি ও আমি প্রতিবেশি। আমাদের দৈহিক অবস্থানের মাঝে মাত্র একটি ছ’ইঞ্চি দেয়ালের দুরত্ব। আমারই ৬ ফুট দেয়ালের উপর আরো তিন ফুট ইট গেথে আপনার দেয়াল। যেমন হযরত ঈসা রুহুল্লাহ স: এর আনীত অসম্পন্ন রিসালাতের উপর হয়রত মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ (সHappyআল্লাহর দ্বীনের অবশিষ্ট ইট গেঁথে সকল নবীদের আনীত আল্লাহর একমাত্র ধর্মকে পূর্ণ করেছেন।

কি আশ্চর্য মিল দেখুনতো! ভাবুনতো!

প্রথম মানুষ, বাবা হযরত আদম থেকে শেষনবী মুহাম্মাদ সঃ সবাই আল্লাহর রাসুল। তাঁরা সবাই “একমাত্র ধর্মের” প্রবর্তক। সবার একমাত্র ধর্ম ও বাণী, “এক আল্লাহ ব্যতিত কোন উপাস্য নেই।এ ব্যাপারে নবীদের মধ্যে কোন বিরোধ ছিলোনা।

শয়তান মানব সৃষ্টির বিরোধী ছিল। তাই শয়তান মানুষের জাতশত্রু । শয়তানের কাজ মানুষকে ধর্ম, বর্ণ,গোত্র ও রাষ্ট্রে বিভক্ত করা। আল্লাহ তার প্রিয়তম সৃষ্টি মানব জাতীকে তাঁর একমাত্র সত্য সনাতন ধর্মে ঐক্যবদ্ধ করা ও রাখার জন্য তাঁর নবীদের পাঠান।

নবীদের মধ্যে নূহ, ইব্রাহীম,মূসা, ঈসা ও মুহাম্মদ সঃ গণ কে আল্লাহ বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে হযরত ঈসা ও মুহাম্মদ সঃ দু’জন পিঠাপিঠি। হযরত ঈসা বলেছেন,“ আমার পর হযরত মুহাম্মদ সঃ আসবেন”। হযরত মুহাম্মদ সঃ বলেছেন,“ আমার পর হযরত হযরত ঈসা আসবেন”। কেমন মিল দেখেছেন? একে অপরের সম্পূরক!

হযরত ঈসার পর মুহাম্মদ সঃ কেন আসলেন এবং পুনঃ মুহাম্মদ সঃ এর পর ঈসা আঃ কেন আসবেন? তা পত্যেক মানুষের ভাববার বিষয় নিশ্চয়।

আল্লাহর নবীদেও মধ্যে হযরত ইব্রাহীম আল্লাহর প্রিয় বন্ধু “খলিল”। তারই বংশ হতে হযরত মূসা,ঈসা ও মুহাম্মদ সঃ গণ নবীরূপে প্রেরিত হয়েছেন।

হযরত ইব্রাহীম আঃ বেবিলোনিয়ার বর্ণবাদী পৌত্তলিক সমাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দেশ ত্যাগ করে আল্লাহর নিদের্শে তাঁর বড় ছেলে হযরত ঈসমাঈল কে নিয়ে মক্কায় বিশ্বমানব সাম্যবাদের কেন্দ্র মক্কা নির্মাণ করেন। হযরত ইব্রাহীম আঃ এর প্রথমা স্ত্রী সারা ঈমানদার হওয়া সত্বেও নারীসুলভ স্বভাবের ফলে জাত্যাভিমানিনী ছিলেন। আল্লাহ সারার অমূলক জাত্যাভিমান দূর করার জন্য সত্বীনের ঘর করান এবং তার পূর্বে তার সত্বীন বিবি হাজেরার গর্ভে ইব্রাহীম আঃ এর প্রথম সন্তান হযরত ঈসমাইল আঃ কে দান করেন। বিবি হাজেরা ও বিবি সারা উভয়ই আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ তার প্রিয় ইব্রাহীম খলিল আঃ দুই পত্নীর সন্তানের দ্বারা দুই পবিত্র নগরী মক্কা ও জেরুজালেমের পত্তন করেন।

হযরত ইব্রাহীমের মৃত্যুর পর মানব জাতীর শত্র তাঁর নাতি ইয়াকুব, যাঁর অপর নাম “ঈসরাইল” তাঁর সন্তানদের মধ্যে ঢুকে পড়ে বর্ণবাদী ইয়াহুদীবাদের জন্ম দেয়।

সর্ব প্রথম শয়তান তাদেও মধ্যে এ ধারণা সৃষ্টি করে যে প্রত্যেক পুরুষের একমাত্র স্ত্রী হতে হবে। যেমন বাবা আদমের এক স্ত্রী ছিল। হযরত ইব্রাহীম সন্তান কামনায় অধীর হয়ে তার স্ত্রীর কথায় সারার দাসী হাজেরার সাথে ব্যভিচার করে ঈসমাইলের জন্ম দেন। কত জঘন্য মিথ্যা কথা!

অথচ বিবি হাজেরা ও বিবি সারার দাসী ছিলেননা। মা হাজেরা মা সারার চেয়েও পরীক্ষীত অসাধারন মহিয়সী নারী ছিলেন। মিসরীয় র্দুবৃত্ত রাজা কতৃক অপহৃত হওয়ার পর বন্দী হয়ে কয়েদ খানায় নিক্ষিপ্ত হলে সেখানে গিয়ে দেখতে পান মিসরীয় র্দুবৃত্ত রাজা কতৃক অপহৃত হয়ে আরেক অপরূপা নারী বন্দি হয়ে আছে। র্দুবৃত্ত রাজা শত চেষ্টা করেও তার সতীত্ব হরণ করতে পারেনি। স্বয়ং আল্লাহ র্দুবৃত্ত রাজার পা মোচড়ে ও প্রসাদে ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে সে মহিয়সীর সতীত্ব রক্ষা করেন।পরে দুর্বৃত্তরা তাকে জেলখানায় নিক্ষেপ করে।

তার পর সারাকে অপহরণ করার পরও আল্লাহ তার খলিল ইব্রাহীম আঃ এর স্ত্রী রূপে উক্ত মহিলার মতো অলৌকিকভাবে সারার সতীত্ব রক্ষা করেন।পরে বিবি সারা ও উক্ত মহিলার মধ্যে বন্দি দশায় নিক্ষিপ্ত হন। বন্দীশালায় আল্লাহতায়ালা তাঁর দুই মহিয়সী দাসী কে একত্রিত করেন। প্রথম মহিয়সী মা হাজেরা, যাঁর সান্নিধ্যে বিবি সারা আশ্রয় ও প্রবোধ পান।

দুবৃত্ত রাজা আযাবে নিপতিত হয়ে উভয় মহিলাকেই মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তখন বিবি সারা অনুনয় করে বিবি হজেরাকে সঙ্গে করে নিয়ে তাঁর স্বামী হযরত ইব্রাহীমকে তাঁকেও বিবাহ করার প্রস্তাব দেন।হযরত ইব্রাহীম সে প্রস্তাব গ্রহন করে মা হাজেরা কে বিবাহ করেন। এভাবে আল্লাহ তাঁর প্রিয় খলিলের ঘরে নারীকুলের দুই মহিয়সী দিকপালকে একত্রিত করেন।

শয়তানের প্ররোচনায় নিপতিত হয়ে ইহুদীরা তাদের পূর্ব পুরুষ হযরত ইব্রাহিমের আদর্শ ত্যাগ করে কাফের ও অভিশপ্ত হয়ে নবুওত ও রিসালাত হতে বহিস্কৃত হয়। তারপর তারা

তারপর ইহুদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মানুষররূপী শয়তান হয়ে মানব জাতির সর্বনাশে লিপ্ত হয়। নবীদের অমান্য করে তারা বহু নবীদের হত্যা করে। ব্যভিচার, সমকামিতা, সুদ ও দাস প্রথা এ ইহুদীরা সর্বপ্রথম পৃথিবীতে চালু করে।

আল­াহর খেলাফত ত্যাগ করে শয়তানের শিষ্যত্ব গ্রহন করে ইহুদীরা যখন মানবতার সকল সীমা লঙ্ঘন করে তখন তাদেও পুনঃ সৎপথে ফেরৎ আনার জন্য আল­াহ দ্বিতীয় আদম হযরত ঈসাকে পিতা ছাড়া মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করে পাঠান। হযরত ঈসা আঃ ইহুদী বংশোদ্ভুত ইহুদী ছিলেন না কারন, পিতা থেকে বংশের উৎপত্তি হয়্ মা থেকে নয়। এ ব্যবস্থা আল­াহ এ জন্য করেন য়ে বর্ণ ও গোত্রবাদী ইহুদীরা যাতে বর্ণবাদ ত্যাগ করে পুনঃ এক ও অবিভাজ্য মানব ধর্মে ফেরত আসে।

কিন্তু যে জাতি ও স¤প্রদায় এক্বার আল­াহকে ত্যাগ করে শয়তানকে তাদেও প্রভু ও অভিভাবক বানায়, শয়তান তাদের ফেরত আসার সকল পথ বন্ধ করে দেয়।

ইহুদীদের ব্যাপারেও তাই ঘটলো। তারা হযরত ঈসা রুহুল­াহ কে মেনে সৎপথে ফেরৎ না এসে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে শয়তানের প্ররোচনায় একদল তাঁর পিত্রমাধ্যমহীন জন্মের জন্য তাঁকে জারজ সন্তান হওয়ার অপবাদে প্রত্যাখান করলো।এবং অপর ভাগ তাঁকে আল­াহর সন্তান এবং স্বয়ং ঈশ্বর বা আল­াহই বানিয়ে ফেললো।

ক্ষমতাশালী শক্তিধর ইহুদীরা ঈসা আঃ কে অবৈধ সন্তান ও ধর্মদ্রোহী বলে ক্রুশ বিদ্ধ করে হত্যা করা প্রয়াস নিলে আল­াহ জুডাসনামক একজন বিশ্বাসঘাতক ইহুদীকে হযরত ঈসায রূপান্তরিত করে হযরত ঈসাকে জীবন্ত ও অক্ষত আকাশে উঠিয়ে নিয়ে যানএবং বশ্বাস ঘাতক জুডাসকে শূলী বিদ্ধ করে হত্যা করা হয়। কিছু নির্বোধ ও সরল মনা ইহুদীদের মঝে শয়তান জুডাসকে ঈসা বা ক্রুশবিদ্ধ যীশু রূপে প্রচারিত করে বিশ্বে আজ পর্যন্ত খৃষ্টানধর্ম নামে ইহুদীদেও পাশাপাশি আরেকটি ধর্ম চালু করে মান্ জাতিকে বিভক্ত করে রেখেছে। হযরত ইব্রাহীম ও হযরত মূসা যেমন ইহূদী ছিলেন না, তদ্রুপহযরত ঈসাও ইহুদী বা খৃষ্টান ছিলেন না । তাঁর একাগ্রচিত্তে আত্মসমর্পকারী বিশ্ব প্রভু আল­াহর দাস ও রাসুল ছিলেন।

পরম ঈশ্বর বা আল­্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূলও ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসা আঃ গণের ধর্ম ত্যাগকারী ইহুদীরা আদম সৃষ্টিকালে দেয়া শয়তারের চ্যালেঞ্জ অনুযায়ী মানবজাতি সর্বনাশ করার জন্য র্সপপ্রথমআল­াহর নবী ও রাসুরদেও চরিত্র হননের কাজ আরম্ভ করে। তারা সর্ব প্রথ আল­াহর কিতাব তাওরাতকে বিকৃত করে তাতে লিখেঃ

# নূহ মদ্যপান করে বেহূশ হয়ে উলঙ্গ হয়ে পড়ে থাকতেন।

# ইব্রাহীম তিথ্যা বলে তাঁর স্ত্রীকে বোন পরিচয় দিয়ে অন্যকে দান করে তার বিনিময়ে মেষ, উট, গর্দভ ও সম্পদ গ্রহন করে।

# লুত তার দুইকণার সাধে ব্যভিচার করে সন্তান উৎপাদন করেন।

# ইয়াকুবের বড় ছেলে সৎমায়ের সাথে ব্যভিচার করেন।

# ঐীহুদা তার পুত্রবধুর সাথে ব্যভিচার করে সন্তান উৎপাদন করেন

# দাঊদ তার সেনাপতির স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করে হযরত সুলাইমানকে জন্ম দেন।

# সুলাইমানের পুত্র ভগ্নীর সাথে ব্যভিচর করে।

# যীশু মেরির অবৈধ সন্তান।

এধরনের অসংখ্য জঘন্য মিথ্যা নিজহাতে লিখে ইহুদীরা তা তাওরা ও বাইবেলে ঢুকিয়ে দেয়। যাতে মানুষ ভাবে নবী ও রাসূলরা যখন মদ্যপান করতেন, পর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করতেন, এমন কি আপন কন্যা, মাতা ও ভগ্নীর সাথেও নির্বিচারে ব্যভিচার করতেন, তা হলে সাধারণ মানুয় কেন এসমস্ত পাপ করবেনা?

এজন্য আল­াহ তাঁর দুই নবী দাউদ আঃ ও হযরত ঈসার মুখে ও ভাষায় ইহুদীদেও উপর অভিসম্পত করিয়েছেন। বিশ্বময় যে পাশব যৌনাচার এইডস নামক ঘাতক ব্যাধিতে মানব জাতি ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে,পারিবারিক জীবন বিধ্বস্ত এবং মানব সভ্যতা যে মহা প্রলয়ের মুখোমুখি, এ সবের পেছনে একমাত্র কারণ হলো, ইহুদীরাও আল্লাহ ও তাঁর নবীদের অবাধ্য হয়ে অভিশপ্ত শয়তানের অনুসরণে মানব সমাজে পাপাচার ও ব্যভিচারের প্রচলন।তাও পবিত্র চরিত্রের নবীদের নামে কুৎসা ও মিথ্যা সৃষ্টি করে।

নিবারণ বাবু, পরম ঈশ্বর , বিশ্ব বিধাতার এক ধর্ম, সনাতন ধর্ম। যা আদম, নূহ, ইব্রাহীম , মূসা, ঈসা ও মুহাম্মদ সঃ গণের ধর্ম।ক্বোরআনের পরিভাষায় তাকে “আল ইসলাম” বলা হয়েছে। আপনার ঠাকুর দাদা সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে খৃস্ট ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আপনার স্ত্রীকে একদিন জিজ্ঞাসা করে ছিলাম, কোন বা ক’পুরুষ থেকে তিনি খৃষ্টধর্মালম্বী। উত্তরে তিনি বলেছিলেন “চৌদ্দ পুরুষ থেকে”। শুনে আমি কিছুটা হতবাক হয়ে ছিলাম। বলে কি? মহিলা চৌদ্দ পুরুশ থেকে খৃষ্টান!তা হলে তো হযরত ঈসার কাছা কাছি সময়ের খৃষ্টান! উত্তরে আপনার বন্ধু, যিনি আপনার সাথে এক সঙ্গে একই স্কুলে শিক্ষকা করেছেন এবং আপনান বিয়ের ব্যপারে যিনি মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, সে হরষিত বাবি বলরেন যে আপনার স্ত্রীর পরিবারও তার ঠাকুরতা খেকে খৃষ্টান। তাই স্বাভাবিক।এদেশে ভাত কাপড়ের অভাব পূর্বে ছিলনা যার তাড়নায় মানুশ ধর্মান্তরিত হবে! তা ছাড়া মূল সনাতন ধর্ম থেকে দেব দেবীর পূজা দ্বারা বিকৃত হিন্দু ধর্ম থেকে নিরাকার আল্লাহর পুত্র(?) যীষুর নামে প্রবর্তিত অমূলক ধর্মে পার্থক্য কোথায়?

পুঁজিবাদ, সমাজবাদ, কম্যুনিজম,, রাজতন্ত্র প্রভৃতি তো প্রায় পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে যাচ্ঠেছ। খন্ডিত রাষ্ট্রীয সীমানাও প্রায় বিলুপ্ত হয়ে মুক্তবাজার, এক বিশ্ব, এক পরিবারও ভিসাহীন বিশ্ব ইত্যাদিও দাবি উঠছে। অচীরেই বিশ্ব থেকে খন্ডিত ধর্মসত্বা বিদায় নিয়ে বিশ্ব স্রষ্টার বিশ্ব ধর্মেও সূর্য় উদিত হবে এবং তা সূর্যোদয়ের দিক, পূর্ব থেকে হবে, তাও পূর্ব বাংলা তথা, বাংলাদেশ থেকে হওয়ার ঐশি ইংগিত বইছে।

পৃথিবীর নামসর্বস্ব হলেও তিনটি ঐশি ধর্মালম্বীরা এক বিশ্ব মুক্তিদাতার অপেক্ষার প্রহর গুণছে। সে মহামানবের আর্বিভাব এমন এক ভূ খন্ড তেকে হবে, য়েখাবে তুলনামূলকভাবে বর্ণ ও গোত্র বৈষম্য কম। ইহুদী ও ব্রাম্ভান্যবাদ বিশ্বেও বর্ণ বৈষম্যেও আদি পিতা । তাই বর্ণবাদী ইসরাইল ও ব্রাহ্মন্যবাদী ভারত থেকে তাঁর আর্বিভাব ভাবা যায়না। শেষ নবী মুহাম্মদ সঃ এর সংস্কার খেকে বিচ্যুত আরব জাতি আজ ইজুদী-খৃষ্টানদেও তাবেদার আরেক অভিশপ্ত বর্ণবাদী জাত। মধ্যপ্রাচ্যে এরা তিন জাতি পরস্পরের বিরুদ্ধে ত্রিশূল হয়ে পরস্পরের বিনাশের জন্য সুযোগের প্রহর গুণছে।

ইসলামের নামে প্রতারণা করে সৃষ্ট পাকস্তান বিজেদেও গোষ্ঠিদ্বন্দে যেনো স্বীয় মৃত্যুর প্রহর গুণছে। ইরানী-আফগানীরা আর্য-অনার্যেও দ্বন্দেও মতো শিয়াসুন্নীর সংঘাতে লিপ্ত। দূও প্রাচ্যেও মালেশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় সংখ্যাতত্বেও নামধারী মুসলমান হলেও ভুমিপুত্র ও অভূমিপুত্রের বৈষম্যে জর্জরিত্

পৃথিবীতে এক চিলতা বেলা ও পলিভুমি রয়েছে, যেখানে গোত্রবৈষম্য নাই বললেই চলে দারিদ্র আছে কিন্তু গোষ্ঠি দ্বন্দ্ব নেই। হিমালয়ের গা ধোয়া পলি হমে এ ক্ষুদে দেশটির জন্ম। দেশটির নাম বাংলাদেশ। এখানে সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি অনন্য। এখানকার জনগোষ্ঠি কখনো অন্যেও উপর রাজ্য বিস্তার করে শোষণ করেনি। শুধু শোষিত ও বঞ্চিত হয়েছে। এখনো হচ্ছে। পূর্বে উপনিবশবাদীদেও দ্বারা শোষিত ও শাসিত হয়েছে। এখন উপনিবেশবাদীদের পরিত্যাক্ত আমলা, কেরাণী, খানসামা ও ধোপা মালীদের নাতী নাতনীদের দ্বারা শেষবারের প্রতারিত ও শোষিত হচ্ছে। অচীরেই এ উপেক্ষিত দারিদ্রপীড়িত দেশ থেকে ইব্রাহীম, মূসা, ঈসা ও মহাম্মদ সঃ গণের আদর্শের পতাকা বাহিদেও মিছিল শুরু ও সূচনা হবে বলে সংকেত বইছে। যেমন অনুর্ববরা ও দারিদ্রের লীলা ভূমি আরব মরু থেকে ইব্রাহীম, মূসা, ঈসা ও মুহাম্মদ স: গণের আদর্শে ও সূর্যোদয় ঘটছে।

নিবারণ বাবু ! আপনি ইহুদীদেও যে শাখার প্রতিনিধিত্ব করছেন , তা মোটেও মানবজাতীর মানবীয গুণাবলীর সহায়ক ধর্ম নয়। পশ্চিমা ইহুদী-খৃষ্টান দুষ্টচক্র তাদেও বস্তুতান্ত্রিক উন্নয়ন ও বিকৃত শিক্ষা দিয়ে মানবজাতিকে ইতরবৃত্তির চরম গহবরে নিক্ষিপ্ত করে হানাহান ও বিশ্বলুটেরা বৃত্তিতে পরিণত করেছে ও করছে। তারা মানবজাতিকে দুটি বিশ্ব মাহাযুদ্ধেও অভিশাপ দান করেছে ।

তৃতীয় মহাযুদ্ধ হতে দেয়া যায়না । ঐ নরপিশাচদেও হাতে আনবিক বোমাসহ সকল মরনাস্ত্র রয়েছে।

বিশ্বেও লুণ্ঠিত ধরণের এইড নামের সাহায্য নিয়ে আমাদেও মাঝে অনুপ্রবেশ করছে। মূলে এ সাহায্য ওদেও ভোগবাদেও উচ্ছিষ্ঠ। ওদেও এ উচ্ছিষ্ঠ দিয়ে যে সমস্ত মসজিদ, মন্দিও, সেনাগণ, গীর্জা ও চার্চ হচ্ছে তা সাহায্যেও এইডের আড়ালে এইডস জীবাণু ছড়ানো। ওদেও সাহায্যে মানুষকে পরভূক, পরজীবি ও ভোগবাদী বানিয়ে পরিনামে ঘাতক এইডস জীবাণুর খাদ্যে রূপান্তরিত করতে কালথাবা নিয়ে এগুচ্ছে।

ওরা মানবতার শত্র“, মানবতা ওদেও শত্র“।উভয়ের সহ-অবস্থান অকল্পনীয়। ওদেও আনবিক অস্ত্রেও একমাত্র প্রত্যুত্তর মানবিক অস্ত্র, বা “আণবিক বোমার প্রতিরোধক মানবিক বোমা। এ মানবিক বোমার উপাদান একমাত্র মহাপ্রভু ঈশ্বর , বা আল­াহর ধর্ম, যার রাসূল নূহ, ইব্রাহীম, মূসা , ঈসা ও মহাম্মদ সঃ গণ।

আল­াহর মহান নবীদের নামে যারা অবমাননাকর জঘন্য মিথ্যা লিখেছে, যারা পড়ছে এবং ধর্মের নামে যারা তা প্রচার করছে, তাদেও শিক্ষা ও প্রচার কেন্দ্রে কখেনো মানব সন্তানদের শিক্ষার নামে ধ্বংস যজ্ঞে তুলে দেয়া যায়না ।

জনার নিবারন দাস আসুন বর্ণবাদহীণ বাংলার মাটি , তথা ঢাকার মিরপুর থেকে হযরত ইব্রাহীম, মূসা , ঈসা, ও আখেরি নবী মুহাম্মদ সঃ গণের পুতপবিত্র আদর্শে ও বিশ্বআন্দোলনের সূচণা করি, যা আরমাগেড্ডন(Armageddon) হয়ে বিশ্বেও শয়তানী শক্তির বিলুপ্তি ঘটাবে।

জায়ানবাদী- ইহুদী খৃষ্টানরা বলে, ওড হযরত ইব্রাতহীম যেহেতু দাসীর পেটে তাঁর বড় ছেলে ইসমাঈল আঃ কে জন্ম দিয়েছেন্ এবং সে ইসামইল এর বংশ থেকে শেষ নবী মুহাম্মদ সঃ এর জন্ম তাই মুহাম্মদ সঃ নবী হওয়ার যোগ্য ছিলেনাএ বং নবও ছিলেননা। তাঁর নুওত দাবীই মিথ্যা। কারণ তিনি নিম্ন বর্ণেও অকুলীন! নবীকুলের আদিপিতা ইব্রাহীম আঃ পিতা হওয়া ওত্বেও যদি হযরত ইসাইল ও মুহাম্মদ সঃ মায়ের কারণে অকুলীন ও নিম্ন হন তাহলে আপনি ও আপনারা কারা যারা পিতৃমাতৃ উভয় কুলেই নিম্ন বর্ণেও হিন্দু, সাঁওতাল ও অন্যান তথা কথিত নিম্ন জাত থেকে খৃষ্টান হয়েছেন ও হচ্ছেন? আপনারাতো খৃষ্টান হতে পারেননা। কারণ খৃষ্টান হবে তো উচ্চবর্ণেও রক্তের মানুষেরা।

আমার এ পত্র পেয়ে আসুন, আমরা সকল সভ্য মানুষেরা একত্র হয়ে ঘোষণা করি যে, নবী ও রাসুল গনের বিরুদ্ধে আইবেলে যা লেখা আছে তা সব মিথ্যা কথাএবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।আমরা মানব সমাজ থেকে এ অপবাদ ও অপবাদিদের উৎখাত করে বিশ্বে মানব ধর্ম পৃতিষ্ঠা করবো। আর যদি আপনি একমত না হন তা হলেআপনাকে জন সমক্ষে ঘোষণা করতে হবে যে, আপনি ও আপনারা ঐ সমস্ত জঘন্য অপবাদে বিশ্বাসী, এবং তা আপনাদেও ধর্মেও মূলনীতি ও ভিত। তখন মানব বিবেক আপনাদের বিচার করবে।

অবশেষে আমার আকুল আবেদন আসুন, আমরা বিশ্বকে এক আল­াহ ও তাঁর নবীদের আদর্শে মানবতার শিক্ষ ও দীক্ষা দিয়ে পশিচমা ঘাতক সভ্যতা থেকে বিশ্বকে রক্ষা করে শান্তি ও মুক্তির পথ প্রদর্শন করি।

Copyright © Technology Is For Us, We Are Not For Technology!!! - - Designed by Maruf Al Berunee -