Popular Post

Showing posts with label ত্বোয়াহা বিন হাবীব. Show all posts

রমাদ্বান ১

By : Maruf Al Berunee
আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
এসো হে ঈমানদার মানব মানবী ! আমরা এবার থেকে পুনঃ আল্লাহর রহমতের সিয়াম সাধনা করি ! আবার কুরআন নাযিল ও পালনের মাহে রমযান আসছে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
*এ বিজ্ঞপ্তি হচ্ছে সে সমস্ত নর-নারীদের উদ্দেশ্যে,যারা আল্লাহর দাসত্বের অঙ্গিকার পালনার্থে ঈমান ধারণ করে,সালাত কায়েম করে,সিয়াম সাধনা করে,যাকাত পরিশোধ করে এবং হজ্জ পালন করে।
যারা লোক দেখানো সাম্প্রদায়ীক পূজা-পার্বণের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি করে,তাদের জন্য এ লেখা ও তার আবেদন নয়।তারা যে যেরুপ ইচ্ছা ধর্মাচার করুক।তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্কও নেই, বিবাদও নেই।
*আমি আল্লাহর এমন বান্দা যে,একমাত্র আল্লাহকে তাঁর কিতাব ও রাসূলদের অনুকরণে বিশ্বাস করি,জানি ও মানি।অন্য কাউকে মানি না।
*আমার বিশ্বাসের মানদণ্ডের ভাইবোনদের আবেদন করছি যে,পৃথিবীতে আল্লাহর পর তাঁর সবচেয়ে বড়ো দান শাশ্বত দ্বীন ইসলাম।এর স্তম্ভগুলোঃ ঈমান,সালাত ক্বায়েম,সিয়াম সাধনা, যাকাত আদায় ও হজ্জ পালন করলে মানব সমাজ আল্লাহর রহমতে ভূ-পৃষ্ঠ বেহেশতে রুপান্তর হয়।বর্তমানে বিশ্বে উক্ত কাজগুলো ঈমানহীন অনুষ্ঠানরুপে পালনের ফলে মানবজাতি আজধ্বংসের কিনারে।
*ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা আল্লাহর নবীদের প্রদর্শিত দ্বীনকে বিকৃত করে মানুষকে জাতে ধর্মে বহুধা বিভক্ত করেছে।তা না হলে মানবজাতি এক পরিবার রয়ে যেতো।
*সকল নবী রাসূলগণ আল্লাহর দ্বীন পালনে হুবহু একই শরীআওএকই সালাত, সিয়াম ও হজ্জ পালন করেছেন এবং তাদের অনুসারী সবাই তাদের মতো মুসলিম ছিলো।কেউ ইয়াহুদী,খৃষ্টান ও মোহামেডান ছিলোনা।
*তাই আল্লাহ তাঁর শেষ নবী সঃ কে বলেছেন, “তুমি কি ওদের দেখেছো যারা আল্লাহর দ্বীনকে বিকৃত করে তাদের সম্প্রদায়কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে জাহান্নামের কিনারে দাঁড় করিয়েছে? একটু পরেই তারা তাতে পতিত হবে।কতোই না করুণ তাদের পরিণতি!(ইব্রাহীম-২৮-২৯)
*হযরত মূসা ও ঈসা আঃদের শিখানো তাওহীদী কালেমা, সালাত ও সিয়ামকে ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা আকার প্রকার সব দিক দিয়ে বিকৃত করে ফেলে অভিশপ্ত হয়।তাই আল্লাহ তাঁর আখেরী নবী সঃ এর মাধ্যমে ঈমানদারদের আল ক্বোরআন ও রাসূল আঃ এর মুখে বার বার নির্দেশ করেছেন, তারা যেন কোনো ব্যাপারেই ইয়াহুদী নাসারাদের বিকৃত ধর্মের কে অনুসরণ না করে।করলে তারাও ওদের মতো হয়ে যাবে।আল্লাহ সকল ঈমানদারদের জন্য সর্বকালে একই ভাবে সিয়াম পালন ও সাধনা করতে বলেছেন।يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ(বাক্বারা-১৮৩)সালাত মানুষকে সামাজিক শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ দেয়।অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে।সিয়াম সাধনা মানুষকে তাক্বওয়ার আগুনে পুড়ে খাঁটি সোনা মুত্তাক্বী বানায়।
*মাহে রমজান সঠিক সিয়াম পালনকারীদের জন্য শুধু বরকত ও বরকতের মাস।আর যারা ইয়াহুদী খৃষ্ঠানদের মতো বিকৃতভাবে পালন করে, তাদের জন্য অপচয় ও পাপাচারের দুর্যোগের মাস।
ঈমানদারের জন্য কম খরচে বেশি ইবাদত করে আগামী এগারো মাসের কৃচ্ছতা সাধনার শিক্ষা দেয় মাহে রমজান। আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূল সঃ এর আমল অনুযায়ী রোজা পালন করলে রমজান মাসে খরচ অর্ধেক কমে বাজারের দ্রব্যমূল্য কমে যায়।
*ইয়াহুদী –খৃষ্টানদের মতো রোজা রাখলে অন্যান্য মাসের তুলনায় রোজার মাসে খরচ দ্বিগুণ হয়ে যায়।বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়ে।অফিস আদালতে ঘুষ বাড়ে। হাটে বাজারে উলঙ্গ নারীদের মাংস প্রদর্শন হয় এবং ইফতার পার্টি ও ঈদের পোষাকের প্রতিযোগিতায় খৃষ্টমাচের মতো রোজা ও ঈদ এক পার্বণ হয়ে যায়।
*ইসলামের বিধান মতো রোজা রেখে ইফতার করলে হিসাব করে দেখা যায় যে,বাংলাদেশে এক রমযানের সঞ্চয়ে একটি যমুনাব্রীজ নির্মাণ করা যায়।
*আল্লাহ ক্বোরআনে নির্দেশ করেছেন,“তোমরা রাত্রি থেকে রাত্রি পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করবে”ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ (বাক্বারা-১৮৭)।
*রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর আরবরা ইয়াহুদী-খৃস্টানদের ন্যায় ইসলামী খেলাফতকে ছিনতাই করে মদিনায় রাসূলের সঃ প্রিয় দশ হাজার সাহাবীকে হত্যা করে, রাসূল সঃ এর রওজা ও মসজিদকে ঘোড়ার আস্তাবল বানায়, হাজার হাজার মুসলিম মেয়েদের ধর্ষন করে,এক হাজার কুমারীকে গর্ভবতী করে এবং কাবা ঘরকে পুড়ে ছাই করে ফেলে।তারপর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে সালাত,সিয়াম ও হজ্জকে বিকৃত করে। আজ মুসলিম বিশ্বে সে বিকৃত নামাজ-রোজা চালু। ফলে বিশ্বময় আজ মুসলিম জাতির এ দূর্দশা।ইসলামে সরকার প্রধান জুমা ও ঈদের ইমামতি করে।বারো কোটি মুসলমানের বাংলাদেশের খালেদা হাসিনার ইমামতিতে কি জুমা ও ঈদ পালন করা যায়?মেঘাবতীর পেছনে ইন্দোনেশিয়ায় পড়া যায়?বেনজীরের পেছনে পাকিস্থানে পড়া যায়?
*এভাবে স্বৈরশাসকরা তাদের ভাড়া খাটা মোল্লাদের দ্বারা ধর্মীয় কাঠামোকে তসনস করে দেয়।তাই সালাত ও সিয়াম সব আজ নিস্প্রাণ অন্তসারশূণ্য অনুষ্ঠান।
*এখন বিশ্বময় ডাক এসেছে,ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের অনুসরণের ধর্মাচার বাদ দিয়ে রাসূল সঃ এর দ্বীন,সমাজ ও রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার।রমজান মাসে ক্বোরআন নাযিল হয়েছে।তাই রমজান থেকেই আমরা কালেমা,সালাত ও সিয়াম দুরস্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি।
*আল ক্বোরআনে আল্লাহ বলেছেন সোবহে সাদেকের পূর্বে সেহরী শেষ করে রাত্রি পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করতে।তদ্রূপ আল ক্বোরআনে ফজর ও মাগরিবকে দিবসের দু’প্রান্ত“তারাফাঁইন নাহার”বলা হয়েছে।এশাকে বলা হয়েছে নিশার প্ররম্ভ বা “যুলাফাম মিনাললাইল”।অর্থাৎ ফজর যেমন রাত নয়,মাগরিবও রাত নয়।এশা শুরূ হলে রাত্রের আগমন ঘটে।তখন ইফতারের সময় হয়।মাগরিবের সময় নয়।
*অভিশপ্ত ইয়াহুদী-খৃষ্টানরা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে এক এশা আরেক এশা পর্যন্ত অর্থাৎ চব্বিশ ঘন্টা রোজা চালু করে।আখেরী নবী সঃ বলে যান ওদের অনুসরন না করে এশার ওয়াক্ত হতেই ইফতার করতে।
*আরব সাম্রাজ্যবাদীরা আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অমান্য করে ইসলাম ও ইয়াহুদীবাদ উভয় বাদ দিয়ে একটি তৃতীয় শয়তানী চালু করে।অর্থাৎ শেষ রাত্র থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।রাত পর্যন্ত নয়।ইয়াহুদীরা লম্বা করে ফেলে,ওদের চাচাতো ভাই আরবরা রোজাকে খাটো করে মানব জাতিকে মাহে রমজানের বরকত ও রহমত থেকে বিচ্যুত করে।
*ইফতারীর দোকানদাররা এটাকে লুফে নেয়।কারণ ইফতারের নামে মুসলিম বিশ্বে বাজারে অতিভোজ ও ভোগের জাহান্নাম শুরু হয়।দশ টাকার পেঁয়াজ বিশ টাকা হয়,পাঁচ টাকার বেগুন ষোল টাকা এবং এ হারে লুটের বাজার চালু হয়।
আর যদি ক্বোরআন ও রাসূল সঃ এর নির্দেশ অনুযায়ী ইফতার করা হয়, তা হলে ইসলামী সমাজ আসরের সময় থেকে মাগরিব ও মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত ঘরে ঘরে ক্বোরআন তেলাওয়াত ও শিক্ষার বেহেশ্‌তী সময় পায়। গৃহিণীরা দিবাভাগে রাতের খাবার পাকিয়ে ক্বোরআন শিক্ষায় স্বামী সন্তানদের সাথে শরীক হতে পারে। এশার আযানের পর যখন মানুষ রাতের খাবার খাবে, তখন তার সাথে পেয়াজী, বেগুনী, বুট, ভাজাপোড়া ও অন্যান্য রাক্ষুসে খাওয়া খাবে না। শুধু উপাদেয় সুপাচ্য সুষম খাদ্য খাবে। তাতে গৃহকর্তার অর্ধেক সাশ্রয় হবে। বাড়তি কামাই এর জন্য ঘুষ খেতে হবেনা। গৃহিনীর এতো কিছু পাকাতে গলদঘর্ম হতে হবেনা। এশা পড়ে ঘুমিয়ে আবার মধ্য রাতের পর ঘুম থেকে উঠে তৃপ্তিভরে তাহাজ্জুদ নামাজ ও ক্বোরআন তেলাওয়াত করতে পারবে। এখানে অতি গুরুত্বের সাথে মনে রাখতে হবে যা, ইসলামে “তারাবী” নামের কোন নামাজ নেই। রাসূল সঃ এরূপ কোন সালাতের সংযোজন কঠোর ভাবে নিষেধ করেছেন। (বোখারী-মুসলিম) খলিফা ওমর “বিদ্‌আত” বলে এটাকে চালু করে এ বলে যে, “যারা শেষ রাতে উঠে রমজানে তাহাজ্জুদ পড়বেনা, তারা রাত্রের প্রথমার্ধে হাট বাজারে আড্ডা না দিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে ক্বোরআন শুনুক। তবে এটি একটি বিদ্‌আত”। রাসূল সঃ যা করেন নি, ধর্মে তা করাই বিদ্‌আত। বিদ্‌আত দাঁড় করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু রমজান মাসে মস্‌জিদ কমিটি চাঁদা তোলা ও হাফেজ ভাড়া করে অতিরিক্ত আয়ের ব্যবস্থা করতে এ বিদ্‌আতকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, তার চাপে মাহে রমজানে ক্বোরআন বুঝার ফরজই চাপা পড়ে হারিয়ে গেছে। তারাবীর তারাহুড়ায় হাফেজ, ইমাম ও মুসল্লী সবাই ক্বোরআন শুনে বুঝে, ক্বোরআনের গভীরে পৌঁছার সুযোগ চীরতরে হারিয়েছে। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাই হি রাজিউন।
আল ক্বোরআনে আল্লাহ যেভাবে ফজর ও মাগরিবকে দিবসের দু’আঁচল বলেছেন, রাত নয়, তদরূপ রাসূল সঃ বলেছেন মাগরিব হলো দিবসের বিতির, যেমন এশার পর রাতের বিতির হয়। তাহাবীতে আব্দুল্লাহ ইবন উমর এ হাদীস বর্ণনা করেছে, বিতিরের অধ্যায়ে। এ বর্ণনা যেহেতু ক্বোরআনের সাথে মিল, তাই তা গ্রহণীয়।
যারা মুসলিম উম্মার চরম দুর্দিনে সত্য ও নাজাতের পথ চায়, তাদের সঠিক বুঝের জন্য সিয়াম ও ইফতারের সঠিক সময় ক্বোরআন ও রাসূল সঃ এর শিক্ষা অনুযায়ী দেওয়া হলো। সহজভাবে বুঝার জন্য দিনরাত, দিনের আচল ও রাতের প্রারম্ভ সূচক অত্যন্ত সূক্ষ্ণ নির্দেশক চিত্র তুলে ধরা হলো। যারা বুঝা ও আমলের জন্য আরও জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য আরও জিজ্ঞাসার সুযোগ রয়েছে। তাদের জন্য সঠিক সিয়াম সাধনা, বর্জনীয় ও করণীয় নির্দেশক আরও একটি পোস্টারও ছাপা হয়েছে। আর যারা বিবাদ ও ফিতনা সৃষ্টিতে আগ্রহী, তাদের সাথে বিতর্ক করার সময় ও সুযোগ নেই। তারা রোজ তিনবার ইফতার খেয়ে এক দিনে তিনটি করে রোজা রাখলেও তাতে আমার আপত্তি নেই, তারা যা খুশি করুক। আমি তাদের কেউ নই, তারাও আমার কেউ নয়। তারা গণধর্ম, গণতন্ত্র, গণরোজা, গণইফতার ও গণঈদ যত পারে, তাতে মেতে থাকুক। তাদের আনন্দ উৎসবে আমার ঈর্ষা নেই। কেয়ামতের দিন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের সামনে ফয়সালা হবে। রাসূল সঃ বলেছেন, “তোমরা ঠিক সময়ে ইফতার করবে, ইয়াহুদীদের মত দেরী করবে না”।তাঁর এ আদেশ অবশ্যই ইয়াহুদীদের ২৪ ঘণ্টার উপবাসের বিরুদ্ধে। তদ্রূপ, তা বর্তমানে রমজানের প্রহসনকারী নামধারী মুসলমানদের বিরুদ্ধেও, যারা ইয়াহুদীদের পদাঙ্ক অনুসরণে সিয়ামকে খাটো না করে রাত না হতেই দিনের প্রান্তভাগে সন্ধ্যায় ইফতার করে। ইয়াহুদী খৃষ্টানদের ন্যায় এদেরও সিয়াম হয় না।
এসো হে আল ক্বোরআনের অনুসারী নবী রাসূলদের সিয়াম পালনকারী আল্লাহর দাস দাসীরা! সঠিক সালাত ও সিয়াম পালন করে বিশ্বে পুনঃ মুস্‌লিম উম্মার পুনর্জাগরণের কাফেলায় শরীক হও।
ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ
অতঃপর তোমরা রাত্র পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর। (বাকারা-১৮৭)
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ
সালাত কায়েম কর দিবসের দু’আচলে এবং রাতের প্রারম্ভেও। (হুদ-১১৪)
দিবসের দু’ প্রান্তিক আঁচল হলো ফজর ও মাগরিব। রাতের শুরু হয় এশার ওয়াক্ত শুরু হলে। তাকে কুরআনে “যুলাফাম মিনাল লাইল” বলা হয়েছে। মাগরিব দিবসের দ্বিতীয় প্রান্ত, রাত্র নয়। ফজর ও মাগরিবকে আল্লাহ কুরআনে “তারাফাইন নাহার” বলে উল্লেখ করেছেন।

মৃত জীবিত করার পত্র

By : Maruf Al Berunee

قُمْ بِإذْنِ الله
মাননীয় (?) সংসদ সদস্য,
এম পিরা/ এম,পি সাহেবরা عليكم ما عليكم من الله وهو عليم بكم خبير
বিশ্বরাজনীতির ধর্মনিরপেক্ষতা ও নাস্তিকতার দিন শেষ। রাশিয়ান সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে। বুশ-বেয়ার ও শ্যারনরা ত্রিমুখী ক্রুসেডে নেমেছে। ধর্মকে ধর্ম দিয়ে রুখতে হয়। অধর্ম দিয়ে নয়। সে ধর্ম, বিশ্ব শান্তির, বিশ্ব ধর্মের হতে হবে। যার কোন খন্ডিত সীমানা নেই, হয়না। তবে সে ধর্ম ঘৃণ্য স্বার্থ ও সুবিধাবাদী সন্ত্রাসের জামাতী ইসলাম, বা সন্যাসবাদের তাবলীগী ইজতিমা নয়। পীর-ফকীরির ভোজবাজির খানকা সাজানোও নয়। তা আদম সন্তানদের এক পরিবার, এক বিশ্ব ও এক আল্লাহর, যার নাম হতে পারে “বিশ্বাসের বিশ্বায়ন”। শুধু তা দিয়েই ইবলিসের “বেশ্যায়নের বিশ্বায়ন” রুখে আদম পরিবারকে মর্ত্যে স্বর্গীয় সমাজ ব্যবস্থা উপহার দেয়া সম্ভব। রপ্তানী প্রকৃয়াজাত করণের নামে বিদেশী পাশব ভোগবাদী হায়নাদের এনে মা-বোনদের সম্ভ্রম নিলাম ও রপ্তানীর অবশ্যম্ভাবী পরিনতি হবে বাংলাদেশকে এইডস/ এইচআইভির মহামারীতে বিসর্জন দেয়া। ব্রাহ্মন্যবাদী ভারত এইডস মহামারীর রামায়নের জন্য তিন দিক থেকে তোমাদের ঘিরে রাক্ষসের ন্যায় হা করে আছে।

মুজিব-জিয়ার পরিণাম থেকে শিক্ষা নিয়ে, তাদের কন্যা-স্ত্রীর “সতীন হটাও” রাজনীতির “এক দফা” কর্মসূচী থেকে মৃত্যুশয্যার তওবা করে আল্লাহর দাসত্বের এক দফা রাজনীতিতে প্রবেশ করলে, কোটি টাকার নির্বাচন করে জাতীয় চোর হতে হবেনা। ভোটার প্রতি একশত টাকা ভাতা দিয়ে জনগন তাদের সেবক সাংসদকে পুষবে। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য হারাম পথে উপার্জন করতে হবেনা।

Heaven's Light বা স্বর্গীয় আলোর সূর্য্যদয় ঘটিয়ে হাযার হাযার বিলিয়ন বিদেশী মূলধন, ও লক্ষ বিলিয়ন মূল্যের মানব সম্পদ আকর্ষণের একটি নির্দেশিকা পত্র ও তার সাথে বিশ্বায়নের মহা সড়ক, বা Road Map গ্রন্থের এক কপি উপহার দেয়া হলো।
আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোন প্রতিদানের ভিখারী আমি না। সৃষ্টির দান দক্ষিনার উর্ধে উঠে আমি আহবান পৌছে দিলাম। যারা যারা এ পত্র ও বই পড়ে নিজ নিজ Pedigreeবা কুষ্টিনামার সন্ধান পাবে, তাদের যোগাযোগ কামনা করছি। আত্মপরিচিতিহীনদের নেতৃত্বের দ্বারা সমাজ সেখানে যায়, যেখানে আজ বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে! এক নম্বর দূর্নীতিবাজ, একনম্বর দরিদ্র ও এক নম্বর পুরুষত্বহীন নারী নেতৃত্বের স্বেচ্ছাচারে নিমজ্জিত! আরো কিছু বিশেষণ চাই?!
এ আবেদন পেয়ে না জাগলে তাও জুটবে, তা হলো জাহান্নাম। ইহকালে ও পরকালে।

আদম হাওয়ার এপিঠ/ওপিঠ স্বামী স্ত্রী

By : Maruf Al Berunee
আদম হাওয়ার এপিঠ/ওপিঠ স্বামী স্ত্রী

হে বাবা আদমের সন্তান পুরুষ! নর ও নারী মানবতার এপিঠ ওপিঠ। যে কোনো পিঠ ধ্বংস হলে অপর পিঠ ধ্বংস হয়।

নরনারীতে কোনো বৈষম্য নেই। বৈশিষ্ট আছে। বৈষম্য শয়তানের সৃষ্টি। বৈশিষ্ট আল্লাহর দান।

বৈষম্য মানা শয়তানের দাসত্ব। বৈশিষ্টের লালন আলাহর এবাদত। 

আল্লাহর বৈশিষ্টে নরেরা আনসার। নারীরা মুহাজির।একে অপরের সম্পুরক।

নারীর নারীধর্ম পালনে প্রত্যেক নারীকে স্বামী গ্রহনার্থে শশুর বাড়ী যেতে হয়।

নরধর্ম পালনার্থে প্রত্যেক নরকে স্বগৃহ ত্যাগকারী স্ত্রীকে বধু রূপে গ্রহন করতে হয়।

অন্যথা নরনারীকে মা বোন ও পিতা ভাইয়ের সাথে যৌন মিলন ঘটাতে হয়। যেমন পশু প্রাণী করে। তা না হলে কারো বংশ বৃদ্ধি হবেনা।

অতএব ঈমানদার নরেরা! তোমরা আনসার হয়ে পিত্রালয় ত্যাগকারী স্ত্রীদের সকল সত্বা দিয়ে গ্রহন করো, ভালোবাসো, এবং কর্ম শেষে বাইরে আড্ডা না দিয়ে ঘরে ফিরে স্ত্রী পরিজনদের বেশী সময় দাও। নিজ নিজ সন্তানদের শিক্ষা দীক্ষা দাও। সহজ সরল জীবন যাপন করো। প্রাচুর্য্য ও বিলাসিতার দিকে হাত বাড়াবেনা, পরিবার ও ঘরকে শান্তির দুর্ভেদ্য দুর্গ রূপে গড়ে তোলো।বাড়ির মুরব্বি বড়ভাই, বাবা মা ও দাদা দাদীকে মান্য করবে। ছোট বড় সবার মাঝে সালাম বিনিময় অবশ্য করবে। 

এমনকি বড়দের পা ধরে সালামও করতে পারো। পরিবার ভাঙ্গার জন্য শয়তান বিশ্বময় মিডিয়ায় পাশব যৌনাচারের ব্যাভিচার নিয়ে ঘরে ঘরে এইচ, আই ,ভি ও এইড্স এর মরণ ব্যাধী ছড়াচ্ছে। টিভি, ভিডিও, ও অডিও পরিবার থেকে বিদায় দাও। 

হাওয়া আদমের এপিঠ/ওপিঠ স্ত্রী স্বামী

হে মা হাওয়ার সন্তান নারী। নারী ও নর মানব পরিবারের এপিঠ ওপিঠ।

নারী আল্লাহর বিধানে পিতা মাতা ও ভাই বোন ছেড়ে পিত্রালয় ত্যাগ করে পরের বাড়ির বধু হয়। চীরতরে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ী তার বাড়ী। এক তালাক মাত্র বিবাহ বিচ্ছেদের দুর্ঘটনাই পুনঃ নারীকে বাপের বাড়ী ফেরত পাঠায়। সতী মহিয়সী নারীর পারিবারিক স্বর্গ ধ্বংস করার জন্য বিশ্বের নারী বেশ্যারা তাদের পুরুষ দালাল নারী মাংস ও দেহের ব্যাবসায়ী দের সহায়তায় গৃহবধু মা বোনদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া ওদের ক্ববজায়। ওরা বাবা আদম ও মা হাওয়ার পুত্র কন্যাদের জাহান্নামের ইন্ধন বানাবেই। এ লক্ষ্যে ওরা শয়তানের মিত্র বাহিনী।

ইবলিস শয়তানের পক্ষ হয়ে ওরা বেপরওয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। ওরা প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছে। কারণ ওদের ঘর নেই, পরিবার নেই। তাই তারা কারো শান্তির নীড় রাখবেনা। 

আল্লাহর দ্বীন ইসলাম ব্যতীত ওদের মোকাবেলা করা যবেনা। তবে তা সঙ্কীর্ন মোল্লাদের ইসলাম নয়। নবীদের আদর্শের।

ঈমানদার নারীদের তাদের স্বামী, পিতামাতা,ভাইবোনও সন্তানদের নিয়ে ঠিক এ মুহুর্তেই ঘর ভাঙ্গা সকল রাজনীতির পঁচা গলি ও নারীবাদী , নরবাদীর নোংরামীর উর্ধ্বে বিশ্বের স্বর্গীয় মানব পরিবার রক্ষা ও তার উন্নয়নের লক্ষে বাংলাদেশ থেকে এক ঐশি জয়য়াত্রা শুরু হচ্ছে।

সচেতন, দায়িত্বশীল ও সামর্থ ভাই বোন, পিতা মাতা ও পুত্র কন্যারা, মুক্তির পথে, কল্যানের মহা যাত্রায় যোগ দিন। আল্ল¬াহ আমাদের অভিভাবক।

এ লক্ষ্যে সার্বিক আন্দোলনের উদ্দেশ্যে দু’বিঘার উর্ধ্বে জায়গা নিয়ে কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। যেখানে ঈমানের জন্য ফিরআউনের মতো অত্যাচারী স্বামীদের ত্যাগ করে বিবি আসিয়ার মতো স্ত্রীরা হিজরত করে আশ্রয় নিতে পারে। পাপাচারের সমাজ থেকে বিবি মারয়ামের মতো পবিত্র নারীরাও হিজরত করে লম্পট সমাজ থেকে সতীত্ব সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারে। এমনকি হযরত নূহ্ ও হযরত লুতের আদর্শের স্বামীরাও নূহ ও লুতের স্ত্রীদের ন্যায় অবাধ্য পাপীষ্ঠা স্ত্রীদের ত্যাগ করে সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যে সমবেত হতে পারে। তবে অবশ্যই সকলে যোগ্য, সমর্থ, সাহসী ও ঘোষিত হিজরতকারী হতে হবে। পলায়নকারী নয়। সকল খন্ডিত রাজনীতি ও সা¤প্রদয়ীকতার উর্ধ্বে এ আহবান। সুশীল সমাজের সকল নরনারী অমন্ত্রিত।

যোগাযোগের ঠিকানা: সন্ত্রাসহীন বিশ্বশান্তি কেন্দ্র, ২৪৮/২,দ্বিতীয় কলোনী, মিরপুর মাজার রোড,ঢাকা-১২১৬ 

খেলাফত ও রাজতন্ত্র' নামক বইয়ের সারসংক্ষেপ

By : Maruf Al Berunee

মুক্তির তাবিজ


  • বর্তমানে জামাতে ইসলামী নামধারী ভোগবাদ ও পুঁজিবাদী ইয়াহুদীদের মুসলিম সংস্করণ। এদের নেতাদের বিচ্যুতি তওবার অযোগ্য। দ্বিতীয় সারির উচ্ছিষ্টভোগীরা দ্রুত পঁচে প্রথম সারির পঁচাদের সাথে একাকার হতে যাচ্ছে।
  • তৃতীয় ও চতুর্থ সারির নির্বোধ, সরল ও নিঃস্বার্থদের কালক্ষেপ না করে একজোট হয়ে নেতা ও চাটাদের ত্যাগ করতে হবে। নেতারা তাদের পার্থিব স্বার্থে কর্মীদের রাজনীতির হাটে গরু-ছাগলের মত বিক্রি করছে।
  • মওদুদী যে আধা সত্য বলে ভয়ে সত্যের ময়দান ত্যাগ করে গনতন্ত্রের হাটে হারিয়ে গিয়েছে তার সাথে পূর্ণ সত্য যোগ দিয়ে তা বিশ্বের হাটে ঘোষণা করে তাওহীদ ও রিসালাতকে পুনঃ প্রবর্তন করতে হবে ।
  • মুয়াবিয়া, মারওয়ানরা নয়, তাওহীদ ও রিসালাতের রেলকে লাইনচ্যুত করেছে আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীরা। মুয়াবিয়া, মারওয়ান, মুগীরা ও আমর ইবনুল আ’স রা দস্যুরূপে লাইনচ্যুত রেলের সম্পদকে শুধু লুণ্ঠন করেছে। 
  • বর্তমান শিয়া, সুন্নী ও জামাতী ইখওয়ানী নেতারা এদের উত্তরাধিকারী। তাবলীগিরা এদের বিকৃত রূপ।
  • রাসুল সাঃ এর উত্তরাধিকারী উসামা, বেলাল, আম্মার ও সালমানরা। আবু বকর উমররা নয়।

ইসলাম ও গনতন্ত্র জান্নাত ও জাহান্নামের পথ

By : Maruf Al Berunee
আউযু বিল্লাহি মিনাশ্ শাইতানির রাজীম

আল্লাহ সকল সৃষ্টির স্রষ্টা , লালন কর্তা, মেহেরবান ও দয়াময়। ইবলিস শয়তান মানুষের সৃষ্টিলগ্ন থেকে ঘোষিত শত্রু। পৃথিবীময় মানুষে মানুষে মারামরি, কাটাকাটি, হিংসা বিদ্বেষ ও মানুষে মানুষে বৈষম্য সৃষ্টি, সকল শয়তানের কাজ।

“ওয়াল্ আসর ইন্নাল্ ইনসানা লাফি খুসর্।” “যুগের কসম, মানবজাতি নিশ্চিত বিপন্ন।”

বিশ্বময় মানবজাতি আজ ধ্বংসের মুখোমুখি।

*** *** ***

বিশ্বের দরিদ্রতম ঘনবসতিপূর্ন বাংলাদশ শয়তান ও তার সৃষ্ট রাজনৈতিক বাটপারদের “পাতানো খেলে” আজ এক মহা ধ্বংসযজ্ঞের ও মুখোমুখি। কে¦য়ামতের পূর্বে পার্থিব ক্বেয়ামতের দ্বারপ্রান্তে । জন্মের লগ্ন থেকে ভুলের পর ভুলে জাতি জাহান্নামের কিনারে দন্ডায়মান। আর একটি মাত্র ভুল, দুঃস্বপ্নময় পরিনাম ডেকে আনবে।

*** ***

স্রষ্টা ও সৃষ্টির বিধানে কোথাও গনতন্ত্র , ভোটাভুটি বা “অল্পের উপর অধিকাংশের ” নিয়ন্ত্রন বা শাসন নাই, স্রষ্টা এক, সৃষ্টি অসংখ্য। স্রষ্টার বিধানে সৃষ্টি চলে। সৃষ্টির বিধানে নয়। মানবদেহে মাথার ওজন মাত্র দুই তিন কেজি, দেহের ওজন পঞ্চাশ কেজি। দুই কেজি মাথার দ্বারা যদি দেহ নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে মানুষ সুস্থ। আর যদি পঞ্চাশ কেজি দেহ দ্বারা মাথা চালিত হয়, তাহলে মানুষ উন্মাদ ও পাগল। নরনারীর বিবাহ, একক নর কর্তৃক নারী ও নারী কর্তৃক নরের পছন্দের মাধ্যমে হয়। জনগনের ভোটাভুটিতে হয় না। নারীপুরুষের মিলন ও সন্তানের জন্ম, তাও গনসমাবেশ ও গনভোটে হয়না। পরিবারে মাতাপিতা দু’জন। সন্তান অনেক , সন্তানদের ভোটে পরিবার চলে না। বরং পিতামাতার মধ্যেও একজনের কর্তৃত্ব ও অন্য সকলের আনুগত্বে সংসার “আদর্শ স্বর্গীয় সংসার” হয়।

*** *** *** ***

গনতন্ত্র ও ভোটাভোটি ইবলিস শয়তানের Brain child বা শয়তানী মস্তিষ্কের অবাধ্যতার ফল।

*** *** *** ***

আল্লাহ রাহমান মানুষকে পৃথিবীতে কল্যান ও আখরাতে জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে ঈমান ও আমলের দ্বারা। নারী তার পেছনে, “কল্যানীয়া” সহধর্র্মিনী। ইবলিশ শয়তান মানুষকে পৃথিবীতে যৌনবিকৃতি ও পরকাল জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। নারী তার সামনে, “কামসহচরী”, ধর্ম নষ্টকারিনী। আমরা কোন পক্ষে যাব ? আল্লাহর না শয়তানের?

*** *** *** ***

বাংলাদেশ পৃথিবীর দারিদ্রপীড়িত এক অশান্ত জনবহুল ক্ষুদ্রদেশ। এজাতিই আল্লাহর রহমতের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য “পাকিস্তান ” নামের পবিত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পার্থিব স্বার্থের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে মন কষা কষির সময় শয়তান ফাঁকে ঢুকে পড়ে দুই মুসলমান ভাইদের মধ্যে খুনাখুনি আরম্ভ করে দেয়। একদিকে পাঞ্জাবী বিহারী, অপরদিকে বাঙ্গালী। কেউ আর মুসলমান রইল না।আল্লাহ শেষ নবী সঃ বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে এমন এক সময় আসবে যখন তোমরা পরস্পর হত্যায় লিপ্ত হবে। তাতে হত্যাকারী ও নিহতরা জাহান্নামী হবে।” তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো , ইয়া রাসুলুল্লাহ , হত্যাকারী হয়তো হত্যার জন্য জাহান্নাম যাবে, নিহত ব্যক্তি কেন জাহান্নামী হবে? উত্তওে রসুল সঃ বলেছেন, কারণ , নিহত ব্যক্তিও সুযোগ পেলে হত্যাকারীকে হত্যা করতো।”

*** *** *** ***

হত্যাযজ্ঞ ও খুনাখুনি যে জাতি ও রাষ্ট্রের স্রষ্টা , যে জাতি তওবা করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন না করলে “এক মহা হত্যাযজ্ঞের ” মাধ্যমে সে জাতি বিলুপ্ত হয়। বাংলাদেশ আজ সে ক্রান্তি লগ্নে।” আল্লাহ কোন জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না স জাতি তার অন্তর পরিবর্তন করে।” (আল কোরআনঃ রাদ ১১)

*** *** ***

আল্লাহ তাঁর রহমত দিয়ে নরনারীকে স্বামী স্ত্রী , সন্তান সন্তুতি ভাইবোন ও আত্মীয় স্বজন রুপে এক , ঐক্যবদ্ধ ও মিল মোহাব্বতে সুখে দুঃখে পরস্পরকে বেঁধে মানব সমাজকে “একপরিবারে” রুপান্তরিত করেন। অভিশপ্ত শয়তান স্বামী স্ত্রীতে ফাটল ধরায়। তারপর মানব সন্তানদের একের পর এক রক্তে, বর্ণে,ভাষায়, পেশায় ও ভৌগোলিক সীমায় বিভক্ত কওে রাষ্ট্র, জাতি ও প্রজাতিতে শতধা বিভক্তির পর বিভক্ত করে পরস্পরকে গোষ্ঠীগত কলহ ও দ্বন্দে লিপ্ত করে। শান্তির সমাজ , স্বার্থদ্বন্ধের মানব সমাজের নরকের রুপ নেয়।

*** *** *** ***

وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا “আল্লাহর রশিকে সবে মিলে সর্বশক্তি দিয়ে ধারন করো, কখনো বিভক্ত হয়ো না,” ঈমানদার জনগোষ্ঠীর জন্য আল্লাহর নির্দেশ। এক ঘরে দশ ভাই, সমাজসেবী, চিকিৎসাবিদ, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিক্ষক, ধর্মগুরু, ব্যবসায়ী, কর্মচারী, কৃষক ও শ্রমজীবী। এরা প্রত্যেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবারের পরস্পরের সহায়ক হলে পরিবারটি কেমন হয়? আর যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ পেশাভিত্তিক সংগঠনের সদস্য হয়ে স্বীয় স্বার্থের পূজারী হয়ে দ্বন্ধে লিপ্ত হয়, তা হলেই বা পরিবার টি কিরুপ হয়?

প্রথমটি আল্লাহর রহমতের বন্ধনে তৈরী স্বর্গীয় পরিবার। দ্বিতীয়টি শয়তানী বিভক্তির অভিশপ্ত পরিবার।

*** *** ***

বর্তমানের রাজনৈতিক দলসমূহ, ছাত্রদলসমূহ, শিক্ষক সমিতি, মহিলা পরিষদ, চিকিৎসক সমিতি, সরকারী কর্মচারী সমিতি, বেসরকারী কর্মচারী সমিতি, শ্রমিক দল, ইত্যাকার সকল গোষ্ঠী-বিভক্তি, আল্লাহর কসম, শয়তানের নারকীয় নৈরাজ্য, যার নাম বর্তমান রাজনীতি।

এ সকল দলাদলি ও সংঘাত নির্মূল করে মানুষে মানুষে ভাই, নর ও নারীতে “ঘর ও বাহির”, শ্রমিক ও মালিকে পিতা পুত্র, শাসক ও শাসিতে “ইমাম ও মুক্তাদী”, পিতা ও পুত্রে গুরু ও শিষ্য ও সর্বোপরি, বিশ্বের মানব জাতিকে “নেক ও এক” করার “আসমানী সংগ্রাম”ই ঈমান, জিহাদ ও আল্লাহর এবাদত, বেহেশত ও মুক্তির চাবি।

এর বাইরে, সকল মত ও পথ, শয়তান-সৃষ্ট কুফর ও কাফেরীর, “মাথা-গোনা” গনতন্ত্রের । যার পরিণাম, এজন্মে সংঘাত ও “সাফাকুদ্দিমা” বা রক্তক্ষয়ী খুনখারাবী; পরজন্মে জাহান্নাম।

হে মানুষ, কোন্ পথ তোমার, শয়তানের, না “রাহমানের”?

নবী আদর্শের সুসংবাদ ও সাবধান বানী

By : Maruf Al Berunee
বাবা আদম মা হাওয়ার সন্তান যুবক, যুবতীরা! তোমরা যারা এখনো বিপথে পা বাড়াওনি, তোমরা জিব্রাইলের ডানা, সাত আকাশের শাহীন, সুলাইমানের হুদহুদ । বিশ্বায়নের নামে বেশ্যায়নের পিশাচ থাবা তোমাদের গ্রাস করতে ধেয়ে আসছে।

বিশ্বের বিশ্বায়ন, অথবা,

বেশ্যায়নের বিশ্বায়ন!

তোমরা কোন পথে যাবে? আল্লাহর পথ, বিশ্বাসের বিশ্বায়নের। ইবলিশ পিশাচের ডাক, বেশ্যায়নের ।

তাওহীদ ত্যাগের ফলে গনতন্ত্রের বেশ্যায়ন ইয়াহুদী-খ্রিস্টান বিশ্ব গ্রাস করে, মুসলিম বিশ্ব গ্রাসে মুখ হা করেছে। মক্কার হজ্জ ওদের অনুমতিতে ওদের সেবাদাসদের কবজায়। আই এম এফ ও বিশ্ব ব্যাংকের মুদ্রার আপপত্নী ও নর্তকীরা মক্কার রাজ প্রাসাদের অতিথি পাখি। ইমেল্ডা, ডায়না, হাসিনা ও খালেদা সেখানে একাকার।

রাম রাজত্ব ও শিব সেনাদের আশীর্বাদী তাবলীগী মেলায় বেশ্যায়নের নেতা-নেত্রীদের “আখেরী মুনাজাত”। বাংলাদেশ কি তাদের আখেরী লক্ষ??

মহাপ্রাচ্য দখলের পর ইরান, আফগান ও পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশের উপর ওদের আখেরী থাবা?? ইং-মার্কিন ও ইয়াহুদী চক্র ধেয়ে আসছে।

আদমের ঘরে মা হাওয়া, ঘরের দুয়ার, ঘরের তালা। সে ঘর আজ খোলা, খোলা তালা ঝুলা। চাবি কার হাতে? যৌন কর্মী, যৌন শিল্পী, সংসদ ভুবনের (?) ভিতর বাইর ও হোটেল- ব্রোথেলে কারা? কাদের লীলাভূমি?

ঈমান ও তাওহীদের বিশ্বায়নের পুনরুথানের সূয্যোদয় হবে বাংলাদেশ থেকে। ইনশাআল্লাহ। কিন্তু উদয়ের গগনে কালো মেঘের বাধা দু’নারী মঞ্চের এইচ আইভি এইডস ব্যাধি। এ বাধা বিদুরনে চাই রিসালাত ভিত্তিক প্রথম শক্তির বিস্ফোরণ। ছাগীর তৃতীয় বাচ্চার তৃতীয় শক্তি নয়। কামাল ও বি, চৌ রা তার দৃষ্টান্ত। দুই ছাগী ও তার বাচ্চাদের খোয়ারস্থ করতে প্রয়োজন পৌরুষ দীপ্ত এক পাঠা শক্তি, ব্যক্তির । ঈমানী পাঠা। পশু পাঠা অবশ্যয় নয়। সুদখোর আরবরা যৌনবিকৃতিতে নি:শেষ। ওদের হারামের উচ্ছিষ্ট চাটা গোলাম আযম, আযিযুল হক ও ফযলুল হকরা পরষ্পর শত্রু হলেও ওদের অভিভাবক শয়তানের নির্দেশে বাংলার ইসলামী যুবশক্তিকে এইচ আইভি, এইডসে এর হাতে ইফতার পার্টী করে বিক্রি করেছে ও করছে। দাড়ি, জোব্বী ও পাগড়ী নিয়ে এ দাইয়ূসরা নারী খোঁপায় আত্নাহুতি দিয়েছে। নেতা কর্মী ও রুকুনদের উকুনসম ছাগীর পশমে পাঠা বলি দিচ্ছে। এ চক্রের মতিয়ার মোল্লা হাসিনার মতিয়া চেৌর নামান্তর।

পাকিস্তানের নরপশু ইয়াহইয়ার আমলেও গোলাম আযম দুটি মন্ত্রীত্বের বিনিময়ে ইসলামী যুবকদের পাঞ্জাবী-বেলুচি পশুদের বিকৃত যৌনতার শিকার করেছিলো। এবার বিশ্বের প্রথম দূর্নীতিপরায়ন ও দারীদ্র্যপীড়িত সরকারের নারী নেত্রীর নরকে নিক্ষেপ করেছে।

অতএব, হে সচেতন ঈমান দীপ্ত ইসলামি আন্দোলনের শাহীন যুবকেরা!

তাবলীগি গাঁজা, লাদেন-সাদ্দামী সন্ত্রাস, জামাতী গনতন্ত্র, শীয়া-সুন্নী হানাহানী ও মুর্খ মোল্লা ওমরী তালেবানীকে তিন ত্বালাক দিয়ে নবী আদর্শে মিল্লাতে ইবরাহীমে শামিল হও। তবেই বুশ-ব্লেয়ার শ্যারণ ত্রয়ের আগ্রাশন রক্ষা পাবে। এরা দাজ্জালের অগ্রসেনা। এদের যারা প্রতিহত করবে, তারাই দাজ্জাল নির্মূল করবে।

বর্তমান অবস্থায় বাংলাদেশে নির্বাচন হলে, সরকার পরিবর্তন হবে। তখন এ দু ছাগীর বাচ্চা আওয়ামীলিগ ও বি এন পি এক হয়ে যাবে। বিপদে পড়বে তোমরা।

দুনিয়া আখেরাতের নিকৃষ্ট জীব ধর্ম ব্যাবসায়ীরা নিশ্চিত জাহান্নামী। এ শাইখুল হাদীস ও নিজামীদের তোমরা রোজ ক্বিয়ামতে দোষারোপ করলে এরা কিন্তু তোমাদের অস্বীকার করবে। মনে রাখবে, এরা কুরআন জানা ক্বোরআন অমান্যকারী, এরা এদের অভিভাবক শয়তানের সাথে সুর মিলিয়ে বলবে 

إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدتُّكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ ۖ وَمَا كَانَ لِيَ عَلَيْكُم مِّن سُلْطَانٍ إِلَّا أَن دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِي ۖ فَلَا تَلُومُونِي وَلُومُوا أَنفُسَكُم

আল্লাহ তোমাদের সাথে সঠিক অঙ্গিকার করেছিলেন। আমি তোমাদের সাথে মিথ্যা অঙ্গিকার করেছিলাম। তোমাদের উপর আমার কোন কতৃত্ব ছিলোনা, আমি ডাক দিতেই তোমরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছিলে। অতেএব আমাকে দোষ না দিয়ে তোমরা নিজেদের তিরষ্কার করো। (ইব্রাহীম-২২)

নবী আদর্শের সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী بشير و نذير

বিশ্বময় বাবা আদম ও মা হাওয়ার নির্যাতিত, শোষিত ও অত্যাচারিত নর, নারী, যুবক, কিশোর ও শিশুরা - তোমাদের চূড়ান্ত বিজয় ও মুক্তির সুসংবাদ।

By : Maruf Al Berunee
বিশ্বের স্রষ্টা প্রতিপালক, শয়তানের খন্ডিত জাতিসত্তামূলক সকল বৈষম্য বিভক্তির সীমা ও সীমান্ত মুছে এক জাতি ও এক মানব সমাজ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আদম সন্তান নর-নারীর মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই। কিন্তু বৈশিষ্ট অবশ্যই আছে।

শয়তানের জারজ সন্তানেরা নারী-পুরুষের বৈশিষ্ট মানেনা।এরা বিশ্বে জাতি-গোষ্ঠির নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ধরার স্বর্গকে নরকে রূপান্তরিত করেছে।

নারী-পুরুষের স্বেচ্ছাচারী যৌনাচার দিয়ে এরা এইড্স্, এইচ,আই,ভির ঘাতক মহামারী সৃষ্টি করে মানবজাতিকে গ্রাস করতে দৈত্য-দানবের রূপ ধারণ করেছে।

ঘর ও সংসার ভাঙ্গা নারীদের পেছনে কুকুরের মতো ধাবিত পুরুষরা এ ধ্বংস যজ্ঞের মাতা-পিতা।

এখনো এ বেশ্যা নারী ও নরদের সংখ্যা সুশীলদের তুলনায় নগন্য। কিন্তু এরা সরকার ও প্রচার মাধ্যম প্রায় দখল করে নিয়েছে। তা সত্বেও এদের স্বর্গীয় পারিবারিক জীবন নেই বলে এরা প্রায় ভাসমান বেশ্যা।

বাংলাদেশের সংসদ ভবনের ভেতরে বাইরে, উত্তর দক্ষিন প্লাজা, চন্দ্রিমা উদ্যান, রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়াও নব্য প্রপার্টি ডেভলপারদের নির্মিত, ধানমন্ডি, গুলশান,বনানী,বারিধারা ও ডিওএইচএস্ এবং উত্তরার বহুতল ভবন প্লাজাগুলো বাংলাদেশের দেহে ক্যান্সার। একে এ মুহুর্তে নির্মূল করতে হবে।ইতমধ্যেই প্রমানিত হয়েছে যে, দেশের দূর্নীতিপরায়ণ শাসক ও আমলারা জাতীয় সম্পদের ৩৬ হাযার কোটি টাকা প্লাজাগুলোতে ফ্ল্যাট নির্মাণে বাৎসরিক বিনিয়োগ করছে।

বিলাস বহুল বাড়ীও ফ্ল্যাট ভাড়া হলে তাতে দেহ ভাড়া হবেই। দেহ ভাড়া নারী ও নরকে বেশ্যা বানায়। বাড়ী ভাড়া বাড়ীকে বেশ্যালয়ে রূপান্তরিত করে।“হোটেল ব্রোথেল” এর তা থেকে জন্ম।

“বাড়ী বাসের জন্য”,“জমি চাষের জন্য”। বাড়ী কখনো ভাড়ার জন্য নয়। জমিও জমিদারী, জোতদারীর নিমিত্ত¡ নয়।জমি যে চাষ করবে, তার। বাড়ী যে বাস করবে, তার। দেহ ভাড়া নাই, বাড়ী ভাড়া নাই ও জমি ভাড়া নাই।

“আল আরদু লিল­াহি, ওয়া লিমান আহ্ইয়াহা”। জমি আল­াহ্র ও যে চাষ করবে, তার। “আল বাইতু লিসাকিনিহি”।

বাড়ী বসবাসকারীদের জন্য। ভাড়ার জন্য নয়। 

“আল্ মান্যিলু ইয়াখ্দিমুহু আহলুহু”। বাড়ীর কাজ বাড়ীর লোকেরা করবে। চাকর-বাকর, ঝি-বুয়ারা করবেনা। অর্থ পুঁজি ভাড়া হবেনা।পুঁজি ভাড়াই সূদ। পুঁজি ভাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও সকল শোষণের মা।সাধারণ ব্যাংক ব্যবসায়ীরা আপন মায়ের সাথে ব্যভিচারী । ইসলামের নামে ব্যাংক ব্যবসায়ীরা কাবা ঘরের ছাদে মায়ের সাথে ব্যভিচারকারী। সঞ্চয়পত্র সহ প্রাইজ বন্ড ও ব্যাংকে অর্থ রেখে তার সূদ খায়, সূদের লেনদেন করে, তারা ন্যুন ৩৬টি ব্যভিচারে লিপ্ত।(রাসূল সঃ মাসনাদে আহমাদ,খন্ড-৫,পৃষ্ঠা-২২৫)

দেশে বেতনভূক সরকার থাকবেনা, যেমন পরিবারে বেতনভূক পিতা-মাতা ও স্বামী-স্ত্রী হয়না। হলেই সবাই বেশ্যা হয়ে যায়।

মূলধণের জাকাত ও লভ্যাংশের এক পঞ্চমাংশ ব্যতীত কোনো কর ও ট্যাক্স থাকবেনা। তবেই সম্পদের সুসম বন্টন হয়ে দারিদ্র্য বিমোচন হবে। 

বিশ্বের শোষিত নর-নারী, যুবক কিশোররা, তোমরা স্রষ্টার কোলে তাঁর বিধানে প্রত্যাবর্তন করো। অচিরেই বিশ্ব শোষণের টুইন টাওয়ার যেভাবে ধ্বংস হয়েছে, ঠিক সেভাবেই বিশ্ব সন্ত্রাসের জমজ ভাই বুশ-বিন লাদেনের চক্রের পতন হবে।

আহবানে:ইমামুদ্দীন মুহাম্মাদ তোয়াহা বিন হাবীব।

বায়আতে বর্জনের ৫-দফা সারা বিশ্বে মানব পরিবারের ... সর্বনাশের পাঁচ পাপ নরক রাজ্যের পাঁচ ধাপ।

By : Maruf Al Berunee
১. আল্লাহর সাথে শির্কে অপবিত্র আত্মা : -

তাওহীদ বহির্ভূত আল্লাহর সাথে শরীক মানা।আল্লাহর সাথে শরীক সৃষ্টির ফলে বিশ্বের একক মানব পরিবার ভেঙ্গে অসংখ্য জাতিসত্ত্বার জন্ম হয়। বর্ণবাদ, বর্ণ বিভেদ, বর্ণ সংঘাত ও বর্ণ সন্ত্রাস বর্তমান বিশ্ব সন্ত্রাসের বাপ দাদা, জনক-জননী ও রাষ্ট্রীয় গড ফাদার। য়াহুদীবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ, খৃষ্টবাদ, সুন্নীবাদ, শিয়াবাদ, আহলে হাদীস বাদ ও কাদয়ানীবাদ প্রভৃতি সব শির্কের আন্ডা বাচ্চা।আল্লাহর বিধানে মানুষ কর্মদোষ-গুণে শুধু মাত্র দু’জাত। বিশ্বাসী জনগোষ্ঠী “আহলে ঈমান” ও “আহলে কিতাব”। অবিশ্বাসীরা “কাফের”। তৃতীয় কোন শ্রেণী নেই। অবিশ্বাসীরা আত্মিক ব্যাভিভারী। বতর্মান বিশ্বে মানুষ বিপন্নের কারণ কর্ণধার অবিশ্বাসী কাফের নেতৃত্ব।

২. বেহায়া বেপর্দা নারী পুরুষ :-

নারী পুরুষের বেপর্দা, বেহায়াপনা। এ ক্ষেত্রে নারী অগ্রগামী।পুরুষ গৌণ। পুরুষ নারীকে উলঙ্গ দেখতে চায় পাশব চিন্তায়। নারী পণ্য ও বণ্য হয়ে উলঙ্গ পুরুষকে দেখায়। পুরুষ উলঙ্গ হয় না। মাতৃ সতীত্বের চার দেয়ালী ডিঙ্গাতেই নারীর আত্ম হনন। আল্লাহ নারীকে ঝিনুকের মোড়কে মুক্তার ক্রোড়ে সুপ্তদীপ্ত শশীরূপে শশীভূষণ করে মহা মূল্যায়ন করেছেন। শয়তান নারীকে পঁচা শামুক ঝিনুকের বর্জ্যে পুরুষ পশুদের মল মুত্র ও বীর্য ত্যাগের ভাগাড়ে পরিণত করেছে। কোথায় তাজ মহলের তাজ? আর আজ কোথায় মাতৃজাতির নাচঘর। সাজঘর ও বিজ্ঞাপন বেশ্যার হাট বাজার?!

৩. স্রষ্টার ইবাদতহীন বাস গৃহ :-

আদম হাওয়ার স্বর্গ থেকে পতনের পর মানবের বাসস্থানই ভূস্বর্গ। স্বর্গ থেকে পতনের পর পুনঃস্বর্গ উপার্জনের পার্থিব সাধনা, ধ্যান ও উপাসনার পারিবারিক কা’বা বাসস্থান। এ কা’বা ভাড়া হলেই নরকের নরক নেমে আসে ধরায়। মন ভাড়ার পর দেহ ব্যবসা, এবং দেহ ভাড়া হতেই বাসস্থান বেশ্যালয়, বেশ্যা বিদ্যালয় ও বেশ্যা পল্লীর মুক্ত বাজার।“ঘরে নাই ভাত-ভাতারে, বাসর নারীর হাট বাজার!” গৃহহীন নর-নারীর বাড়ি ভাড়া ও নারী ভাড়ার নগর সভ্যতাই এইড্‌স/এইচ,আই,ভি “হোটেল ব্রোথেল”।

৪. উত্তম রিযিক উৎপাদনে চাষির ভূমি চাষ :-

চাষের ভুবনে চাষীর ভূমি, উন্নত বীজ ও সৃষ্টি-বৃষ্টির জোয়ার ভাটার তাজা পানি, আল্লাহর দান, চাষীর সম্পদ। যে চাষ করবে না, ভূনি তার নয়। যে স্ত্রীতে সন্তান উৎপন্ন করে না, সে স্ত্রী স্বামীর নয়। স্ত্রী কি ভাড়া দেওয়ার জন্য? তা না হলে ভাড়ার জন্য ভূমি মালিকানা নেই। চাষের চাষী ও ভূমিহীন চাষীই ভূমির মালিক, ভূমির বৈধ সত্ত্বাধিকারী। অনুপস্থিত ভূমির মালিকানা নেই। “ভূমিহীন চাষী” ও “চাষিহীন ভূমি” নরক রাজ্যের রাজা প্রজা। এ জমিদারী ও জোতদারী ভূমি-বেশ্যার ব্যবসা?!

৫. সুদ-দাদনের অর্থ ব্যবস্থা :- 

পণ্য বিনিময়ের মাধ্যম ব্যতিত মুদ্রা ব্যবস্থার বৈধতা নেই। সে মুদ্রা ধাতবই হোক বা কাগুজে। মানব জীবনের অপরিহার্য পণ্য উৎপাদন মানবজাতির স্রষ্টা কর্তৃক আদিষ্ট।নিষ্প্রয়জনীয় বিলাস দ্রব্য উৎপাদন ও বাজারজাত আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ। প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করে সহজলভ্য করা যেমন সৃষ্টির সেবা, নিষ্প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করা তেমনি সৃষ্টির অমঙ্গল সাধন, পাপ। পণ্য উৎপাদন করে মূল্য বৃদ্ধির জন্য গুদামজাত করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। পণ্যের বিনিময় ও বিনিয়োগের সুবিধার্থে প্রচলিত মুদ্রা-অর্থকে জমা করে সমাজে মুদ্রা সংকট সৃষ্টি মহা পাপ।স্রষ্টার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার নামান্তর।বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবস্থা মুদ্রা গুটিয়ে সুদখোরের সিন্দুকে ঢুকিয়ে মুদ্রা সংকট সৃষ্টি করে সুদের দ্বারা মানব সমাজের রক্ত শোষণ। অর্থ ভাড়ার এই সুদখোরী শুধুমাত্র অর্থ বেশ্যা বৃত্তি নয়, মাতৃ ধর্ষণ। আর যারা এই কাজটি “ইসলামী ব্যাংকিং” এর নামে করছে, তারা কা’বা ঘরের ছাদে মা জননীর সাথে ব্যাভিচারে লিপ্ত। বিশ্ব ব্যাংক ও আই এম এফ এদের Surreptitious পিতা-মাতা।

এ পাঁচ পাপ বর্জনে আমরা আল্লাহর নামে শপথ নিয়ে বায়আত হলাম।

মানব জাতের উৎস, তার বিকাশ ও নাশ ।

By : Maruf Al Berunee
মানবজাত আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, আশরাফুল মাখলুকাত। সে স্বনাম ও স্বকর্মে সার্থক হলে স্রষ্টার পরই সে শ্রেষ্ঠ। ফেরেশতারা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে আল্লাহ্কে সিজ্দা করে তার স্বীকৃতি দিতে হয়। এদের নিম্নশ্রেণী মানবজাত। মধ্যম শ্রেণী জাতকজাত। শ্রেষ্ঠ শ্রেণী মহাজাতক। এদের সবার শত্রু জারজরা। এরা আকারে মানুষ। মূলে শয়তান বা ইবলিসের মানস পুত্র। মানুষ জাতির জাতশত্রু ইব্লিস এদের মাতা-পিতার মিলনে অংশিদার হয়ে এদের গর্ভসঞ্চার থেকে, ভূমিষ্ট, খাদ্য, শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবনমরণে সঙ্গী। কিন্তু ক্ববর ও হাশরের দিন একজন আরেক জনের শত্রু। স্বামী স্ত্রীর, স্ত্রী স্বামীর, মাতা পিতার, পিতা মাতার, সন্তান পিতামাতার, পিতামাতা সন্তানের ও শাসক শাসিতের এবং শাসিত শাসকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে। পরস্পর পরস্পরকে দোষারোপ করে দ্বিগুন শাস্তির জন্য আবেদন জানাবে। আল্লাহ্ বলবেন, “তোমাদের উভয়কেই দ্বিগুন শাস্তিদেয়া হলো"।

رَبَّنَا هَٰؤُلَاءِ أَضَلُّونَا فَآتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِّنَ النَّارِ (সূরা আরাফ-৩৮) 

অপর দিকে জাত, জাতক ও মহাজাতক মানবরা পৃথিবীতে জাত জাতককে অনুসরণ করতে চাইবে, এবং এরা উভয়শ্রেণী মিলে উত্তম মহাজাতক শ্রেণীকে জানমাল সমর্পণকরে তাদের ইমামতে পার্থিব জীবন যাপন করবে। মৃত্যুর পর একে অপরের জানাযা পড়ে দাফন করে তাদের জন্য দোয়া করবে প্রত্যেক সালাত শেষে। রোজ কেয়ামতে এরা পরস্পরকে সালাম করবে تَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ এবং একজন অপর জনের পক্ষে স্বাক্ষ্য দিয়ে মর্যাদা বৃদ্ধির দোয়া করবে। (সূরা ইব্রাহীম-২৩)। স্বংয় আল্লাহ্ ক্বেয়ামতের দিন সালাম জানাবেন তাঁর এ জাত, জাতক ও মহাজাতক বান্দাদের। سَلَامٌ قَوْلًا مِّن رَّبٍّ رَّحِيمٍ (সূরা ইয়াসীন-৫৮) এর বিপরীত মানব জাতের কুলাঙ্গার, জারজদের, আল্লাহ্ হাশরের মাঠেই জাত, জাতক ও মহাজাতক বান্দাদের থেকে পৃথক হতে হুকুম জারী করে বলবেন وَامْتَازُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ “তোরা জারজরা পৃথক হয়ে যা" (ইয়াসিন-৫৯) তারপর মানব জাতের এ জারজ শ্রেণীর অপকর্মের চার্জশীট দিবেন আল্লাহ্। (সূরা ইয়াসীন ৬০-৬৭)। তারপর এ জারজ শ্রেণী করজোড় করে কৈফিয়ত পেশ করে আল্লাহর সাথে একটু কথা বলে দয়া ভিক্ষা করতে চাইবে। قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ- رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ (সূরা মু'মিনুন ১০৬-১০৭)

তদুত্তরে আল্লাহ্ তাদের বলবেন, “তোরা অভিশপ্ত হয়ে এ জাহান্নামেই থাক। আমার সাথে কোনো কথাই বলবিনা।" (সূরা মু'মিনুন-১০৮) তারপর পুনঃ তাঁর জাতক ও মহাজাতক বান্দাদের গুণাবলী তুলে ধরবেন জারজদের সামনে। সে দিন আল্লাহ তাদের বিজয় ঘোষণা করে তাদের পুরষ্কার দিবেন (সুরা মু'মিনূন ১০৯-১১১)। 

Copyright © Technology Is For Us, We Are Not For Technology!!! - - Designed by Maruf Al Berunee -