Popular Post

অপেক্ষা

By : Maruf Al Berunee

চাঁদ পেরিয়ে সূর্য আসে, সূর্য নিভে গেলে চাঁদ। গোধুলির ঘরে না আসে সূর্যের তীব্র রশ্মি, না আসে চাঁদের মায়াবী আলো। ঘর, না গোধুলি যেখানে থাকে সেটাকে ঠিক ঘর বলা যায় না। ঘরের সাথে পরিবার থাকে, ভালোবাসা থাকে, মায়া থাকে, অভিমান থাকে, অভিযোগ থাকে, সম্পর্ক থাকে। এইসব কিছু থেকে অনেক আগেই ছিড়ে যাওয়া গ্যাস বেলুনের মত উড়ে চলে গ্যাছে সে অনেক দূরে। তাই ঘর না বলে একটা দালানঘর বলা যেতে পারে। যেখানে অক্সিজেন আসতে পারে, কিন্তু আলো আসতে পারে না।
গোধুলির নামটা গোধুলি না হয়ে বিকেল হলে ভাল হত। বিষন্ন বিকেল। পৃথিবী ভাবে, বিষন্নতা গোধুলির সহজাত স্বভাব। আসলে তা নয়। গোধুলি হাসতে ভালোবাসত, গাইতে ভালোবাসত, নাচতে ভালোবাসত। জোয়ার ভাটায় ভাসতে তার কখনই ভালো লাগত না। মানুষ কখনও একা বাঁচতে পারে না। একথা সবার জন্য প্রযোজ্য হলেও গোধুলির জন্য একথা ভাবাও পাপ। যেদিন সে আর একা থাকতে চাইল না, চিৎকার করে বলতে চাইল- 'আমি একটা ঘর চাই, দালানের অক্সিজেন নিয়ে আর বেঁচে থাকা যাচ্ছে না'। সেদিন পৃথিবী তাকে ছেড়ে চলে গেল। গোধুলিকে সবাই ছেড়ে চলে যায়, কেন তাতা বলে যায় না। গোধুলি ভোলার ভান করে। মঞ্চে যতটা ভাল অভিনয় সে করে, বাস্তবে তার চেয়ে আরও অনেক ভাল করে। যেন সব ভুলে গ্যাছে সে। যেন কোনকিছুতেই কিছু এসে যায় না। কিন্তু ঝিনুকের মতই বিষের বালি তিতা করে দেয় গোধুলির অন্তর। নিজের সব শখ, আহ্লাদ বুকের কোণায় মাটিচাপা দিয়ে গোধুলি হাসে। হাসতে তার ভীষণ কষ্ট হয়। যে বুকে একসময় এক সিন্ধু ভালোবাসা ছিল, এখন সে বুক সমাধিসৌধ। সেখানে শকুনেরা হা হা করে উড়ে বেড়ায়।
মাঝে মাঝে গোধুলির জীবনে অতীত গল্প হয়ে ফিরে আসে। সেসব গল্পে গোধুলি ছেলেবেলার গন্ধ পায়। সে গন্ধ এখন অসহ্য লাগে তার। জীবন থেকে পালাতে চেয়ে কোন মোড়ে যেন হারিয়ে ফেলেছে নিজেকে। এমনই এক মোড়ে দেখা হয়েছিল প্রযুক্তির সাথে। প্রযুক্তির বুকে সে ভালোবাসার গন্ধ পেত। সে গন্ধও এখন অতীত, স্মৃতিমাত্র। এখন গোধুলি আর কোন গন্ধ পায় না। শুধু ওপারের গন্ধ পায়। আর কারও অপেক্ষা সে করে না। এখন শুধু ওপারে যাবার অপেক্ষা....

গন্তব্য জানা নাই

By : Maruf Al Berunee

তোমাদের খুব রঙিন আকাশে মেঘ হয়ে না আমি ছিলাম, না আমি আছি আর না কখনও থাকব। তুমি পূর্ণতা, আমি শুন্যতা। তোমার আকাশকে নামে করে নেব সেই শক্তি কি আমার আছে? ভালোবাসার ভীষণ অভাবে পুড়ে ছারখার এক মানুষ আমি। মাঝপথে নাহয় তোমার ভালোবাসার সমুদ্র থেকে দুই এক ফোঁটা জল নিয়ে একটু শীতল হলাম। জ্বলন্ত জীবনটাকে আবার তো টেনে নিয়ে যেতে হবে বহুদূর। তাতেও কি অভিযোগ আছে তোমার? যদি থাকে তবে ভালোবাসা ফিরিয়ে দেয়ার পথ আমার জানা নেই। তোমার যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে তুমি তোমার আকাশকে ফিরিয়ে নিয়ে যেও। আমি টু শব্দটি করব না। তবে অনুরোধ করতে পারি। মানুষ হিসেবে সে অধিকার আমার আছে। আকাশের বুক ভেঙে কখনও জেনো জল গড়িয়ে না পড়ে। তুমি ভাল থেকো, তোমরা ভাল থেকো। আমি হাঁটব। অনেক অনেক পথ যেতে হবে আমাকে। সে এক অনন্ত যাত্রা.....

মধ্যযুগী?

By : Maruf Al Berunee
স্বামী মিলনে অনাহারি নারীর আহার । ইমানদার নারী কনে হয়ে স্বামী-বউ হয় । বউ হয়ে মা হয় । মা হয়ে দাদী নানী হয় । বিয়ের পর নিত্য নুতন বউ সেজে হাট বাজারে নারীত্বের ফেরীওয়ালী হয় না । প্রয়োজনে ঘরের বাইর হলে সতী স্ত্রী, মা ,দাদী-নানীর সম্ভ্রম ও গাম্ভীর্য নিয়ে সবার ভক্তি শ্রদ্ধার মাল্যে ভুষিত হয় । কুদৃষ্টির চুষ্য লেহ্য হয়ে ঘরে ফিরে না। এটাই মর্ত্যের স্বর্গ, ও স্বর্গের বেহেশত, জান্নাত !? এদের জন্য আল্লাহ, ফেরেশতা, মানুষ ও বৃক্ষরাজির সালাম । সালামুন্ ক্বাওলাম্ মির রব্বির রাহিম (সূরা ইয়াসিন-৫৮)।

এ সম্মান ও মর্যাদার রাষ্ট্র ও সমাজ কী মধ্যযুগী???

পবিত্র আল কোরআনের এই উপদেশগুলি মেনে চলা সবার কর্তব্য

By : Maruf Al Berunee

পবিত্র আল কোরআনের এই উপদেশগুলি মেনে চলা সবার কর্তব্য। ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সবখানেই মেনে চলা দরকার।

১। তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:৪২]
২। সৎকার্য নিজে সম্পাদন করার পর অন্যদের করতে বলো। [সূরা বাকারা ২:৪৪]
৩। পৃথিবীতে বিবাদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:৬০]
৪। কারো মসজিদ যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:১১৪]
৫। কারো অন্ধানুসরণ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭০]
৬। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭৭]
৭। ঘুসে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা বাকারা ২:১৮৮]
৮। যারা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করবে, শুধু তাদের সঙ্গে তোমরা লড়াই করো। [সূরা বাকারা ২:১৯০]
৯। লড়াইয়ের বিধি মেনে চলো। [সূরা বাকারা ২:১৯১]
১০। অনাথদের রক্ষণাবেক্ষণ করো। [সূরা বাকারা ২:২২০]
১১। রজঃস্রাব কালে যৌনসঙ্গম করো না। [সূরা বাকারা ২:২২২]
১২। শিশুকে পূর্ণ দুই বছর দুগ্ধপান করাও। [সূরা বাকারা ২:২৩৩]
১৩। সৎগুণ দেখে শাসক নির্বাচন করো। [সূরা বাকারা ২:২৪৭]
১৪। দ্বিনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। [সূরা বাকারা ২:২৫৬]
১৫। প্রতিদান কামনা করে দাতব্য বিনষ্ট করো না। [সূরা বাকারা ২:২৬৪]
১৬। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা করো। [সূরা বাকারা ২:২৭৩]
১৭। সুদ ভক্ষণ করো না। [সূরা বাকারা ২:২৭৫]
১৮। যদি ঋণীঅভাবগ্রস্তহয়তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দাও। [সূরা বাকারা ২:২৮০]
১৯। ঋণের বিষয় লিখে রাখো। [সূরা বাকারা ২:২৮২]
২০। আমানত রক্ষা করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৩]
২১। গোপন তত্ত্ব অনুসন্ধান করো না এবং পরনিন্দা করো না। [সূরা বাকারা ২:২৮৩]
২২। সমস্ত নবির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৫]
২৩। সাধ্যের বাইরে কারো উপর বোঝা চাপিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:২৮৬]
২৪। তোমরা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। [সূরা আল-ইমরান ৩:১০৩]
২৫। ক্রোধ সংবরণ করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৩৪]
২৬। রূঢ় ভাষা ব্যবহার করো না। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৫৯]
২৭। এই বিশ্বের বিস্ময় ও সৃষ্টি নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯১]
২৮। পুরুষ ও নারী উভয়ই তাদের কৃতকর্মের সমান প্রতিদান পাবে। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯৫]
২৯। মৃতের সম্পদ তার পরিবারের সদস্যসের মাঝে বন্টন করতে হবে। [সূরা নিসা ৪:৭]
৩০। উত্তরাধিকারের অধিকার নারীদেরও আছে। [সূরা নিসা ৪:৭]
৩১। অনাথদের সম্পদ আত্মসাৎ করো না। [সূরা নিসা ৪১০]
৩২। যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক তাদের বিবাহ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৩]
৩৩। অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ ভক্ষণ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৯]
৩৪। পরিবারের উপর কর্তৃত্ব চালাবে পুরুষ। [সূরা নিসা ৪:৩৪]
৩৫। অন্যদের জন্য সদাচারী হও। [সূরা নিসা ৪:৩৬]
৩৬। কার্পণ্য করো না। [সূরা নিসা ৪:৩৭]
৩৭। বিদ্বেষী হয়ো না। [সূরা নিসা ৪:৫৪]
৩৮। মানুষের সাথে ন্যায়বিচার করো। [সূরা নিসা ৪:৫৮]
৩৯। একে অপরকে হত্যা করো না। [সূরা নিসা ৪:৯২]
৪০। বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ নিয়ে বিতর্ক করো না। [সূরা নিসা ৪:১০৫]
৪১। ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকো। [সূরা নিসা ৪:১৩৫]
৪২। সৎকার্যে পরস্পরকে সহযোগিতা করো। [সূরা মায়িদা ৫:২]
৪৩। সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়িদা ৫:২]
৪৪। মৃত পশু, রক্ত ও শূয়োরের মাংসা নিষিদ্ধ। [সূরা মায়িদা ৫:৩]
৪৫। সৎপরায়ণ হও। [সূরা মায়িদা ৫:৮]
৪৬। অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও। [সূরা মায়িদা ৫:৩৮]
৪৭। পাপ ও অবৈধ জিনিসের বিরুদ্ধে শ্রম ব্যয় করো। [সূরা মায়িদা ৫:৬৩]
৪৮। মাদক দ্রব্য ও আলকোহল বর্জন করো। [সূরা মায়িদা ৫:৯০]
৪৯। জুয়া খেলো না। [সূরা মায়িদা ৫:৯০]
৫০। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্যদের গালমন্দ করো না। [সূরা মায়িদা ৫:১০৮]
৫১। আধিক্য সত্যের মানদণ্ড নয়। [সূরা আন’আম ৬:১১৬]
৫২। মানুষকে প্রতারণা দেওয়ার জন্য ওজনে কম দিও না। [সূরা আন’আম ৬:১৫২]
৫৩। অহংকার করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:১৩]
৫৪। পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:৩১]
৫৫। সালাতে উত্তম পোশাক পরিধান করো। [সূরা আ’রাফ ৭:৩১]
৫৬। অন্যদের ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষমা করো। [সূরা আ’রাফ ৭:১৯৯]
৫৭। যুদ্ধে পশ্চাদ্‌মুখী হয়ো না। [সূরা আনফাল ৮:১৫]
৫৮। যারা নিরাপত্তা কামনা করছে তাদের সহযোগিতা করো ও নিরাপত্তা দাও। [সূরা তওবা ৯:৬]
৫৯। পবিত্র থেকো। [সূরা তওবা ৯:১০৮]
৬০। আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। [সূরা ইউসুফ ১২:৮৭]
৬১। যারা অজ্ঞতাবশত ভুলত্রুটি করে আল্লাহ্‌ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করবেন। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯]
৬২। প্রজ্ঞা ও উত্তম নির্দেশনা দ্বারা আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি আহ্বাব করা উচিত। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯]
৬৩। কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। [সূরা ইসরা ১৭:১৫]
৬৪। পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। [সূরা ইসরা ১৭:২৩]
৬৫। পিতামাতাকে অশ্রদ্ধা করে কোনো কথা বলো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৩]
৬৬। অর্থ অপচয় করো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৯]
৬৭। দারিদ্রের আশঙ্কায় সন্তানসন্ততিকে হত্যা করো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩১]
৬৮। অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩২]
৬৯। যে বিষয়ে জ্ঞান নেই তার অনুবর্তী হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩৬]
৭০। শান্তভাবে কথা বলো। [সূরা ত্বা-হা ২০:৪৪]
৭১। অনর্থ জিনিস থেকে দূরে থেকো। [সূরা মু’মিনুন ২৩:৩]
৭২। অনুমতি ছাড়া কারো গৃহে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:২৭]
৭৩। যারা শুধু আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দেন। [সূরা নূর ২৪:৫৫]
৭৪। বিনা অনুমতিতে পিতামাতার ব্যক্তিগত ঘরে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:৫৮]
৭৫। বিনয় সহকারে ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করো। [সূরা ফুরকান ২৫:৬৩]
৭৬। এই পৃথিবীতে তুমি তোমার অংশকে উপেক্ষা করো না। [সূরা কাসাস ২৮:৭৭]
৭৭। আল্লাহ্‌র সাথে অন্য কোনো বাতিল উপাস্যকে ডেকো না। [সূরা কাসাস ২৮:৮৮]
৭৮। সমকামিতায় লিপ্ত হয়ো না। [সূরা আন্‌কাবুত ২৯:২৯]
৭৯। সৎকার্যের আদেশ করো এবং অসৎকার্য হতে নিষেধ করো। [সূরা লোকমান ৩১:১৭]
৮০। দম্ভভরে ভুপৃষ্ঠে বিচরণ করো না। [সূরা লোকমান ৩১:১৮]
৮১। কণ্ঠস্বর অবনমিত রেখো। [সূরা লোকমান ৩১:১৯]

রমাদ্বান ১

By : Maruf Al Berunee
আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
এসো হে ঈমানদার মানব মানবী ! আমরা এবার থেকে পুনঃ আল্লাহর রহমতের সিয়াম সাধনা করি ! আবার কুরআন নাযিল ও পালনের মাহে রমযান আসছে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
*এ বিজ্ঞপ্তি হচ্ছে সে সমস্ত নর-নারীদের উদ্দেশ্যে,যারা আল্লাহর দাসত্বের অঙ্গিকার পালনার্থে ঈমান ধারণ করে,সালাত কায়েম করে,সিয়াম সাধনা করে,যাকাত পরিশোধ করে এবং হজ্জ পালন করে।
যারা লোক দেখানো সাম্প্রদায়ীক পূজা-পার্বণের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি করে,তাদের জন্য এ লেখা ও তার আবেদন নয়।তারা যে যেরুপ ইচ্ছা ধর্মাচার করুক।তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্কও নেই, বিবাদও নেই।
*আমি আল্লাহর এমন বান্দা যে,একমাত্র আল্লাহকে তাঁর কিতাব ও রাসূলদের অনুকরণে বিশ্বাস করি,জানি ও মানি।অন্য কাউকে মানি না।
*আমার বিশ্বাসের মানদণ্ডের ভাইবোনদের আবেদন করছি যে,পৃথিবীতে আল্লাহর পর তাঁর সবচেয়ে বড়ো দান শাশ্বত দ্বীন ইসলাম।এর স্তম্ভগুলোঃ ঈমান,সালাত ক্বায়েম,সিয়াম সাধনা, যাকাত আদায় ও হজ্জ পালন করলে মানব সমাজ আল্লাহর রহমতে ভূ-পৃষ্ঠ বেহেশতে রুপান্তর হয়।বর্তমানে বিশ্বে উক্ত কাজগুলো ঈমানহীন অনুষ্ঠানরুপে পালনের ফলে মানবজাতি আজধ্বংসের কিনারে।
*ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা আল্লাহর নবীদের প্রদর্শিত দ্বীনকে বিকৃত করে মানুষকে জাতে ধর্মে বহুধা বিভক্ত করেছে।তা না হলে মানবজাতি এক পরিবার রয়ে যেতো।
*সকল নবী রাসূলগণ আল্লাহর দ্বীন পালনে হুবহু একই শরীআওএকই সালাত, সিয়াম ও হজ্জ পালন করেছেন এবং তাদের অনুসারী সবাই তাদের মতো মুসলিম ছিলো।কেউ ইয়াহুদী,খৃষ্টান ও মোহামেডান ছিলোনা।
*তাই আল্লাহ তাঁর শেষ নবী সঃ কে বলেছেন, “তুমি কি ওদের দেখেছো যারা আল্লাহর দ্বীনকে বিকৃত করে তাদের সম্প্রদায়কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে জাহান্নামের কিনারে দাঁড় করিয়েছে? একটু পরেই তারা তাতে পতিত হবে।কতোই না করুণ তাদের পরিণতি!(ইব্রাহীম-২৮-২৯)
*হযরত মূসা ও ঈসা আঃদের শিখানো তাওহীদী কালেমা, সালাত ও সিয়ামকে ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা আকার প্রকার সব দিক দিয়ে বিকৃত করে ফেলে অভিশপ্ত হয়।তাই আল্লাহ তাঁর আখেরী নবী সঃ এর মাধ্যমে ঈমানদারদের আল ক্বোরআন ও রাসূল আঃ এর মুখে বার বার নির্দেশ করেছেন, তারা যেন কোনো ব্যাপারেই ইয়াহুদী নাসারাদের বিকৃত ধর্মের কে অনুসরণ না করে।করলে তারাও ওদের মতো হয়ে যাবে।আল্লাহ সকল ঈমানদারদের জন্য সর্বকালে একই ভাবে সিয়াম পালন ও সাধনা করতে বলেছেন।يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ(বাক্বারা-১৮৩)সালাত মানুষকে সামাজিক শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ দেয়।অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে।সিয়াম সাধনা মানুষকে তাক্বওয়ার আগুনে পুড়ে খাঁটি সোনা মুত্তাক্বী বানায়।
*মাহে রমজান সঠিক সিয়াম পালনকারীদের জন্য শুধু বরকত ও বরকতের মাস।আর যারা ইয়াহুদী খৃষ্ঠানদের মতো বিকৃতভাবে পালন করে, তাদের জন্য অপচয় ও পাপাচারের দুর্যোগের মাস।
ঈমানদারের জন্য কম খরচে বেশি ইবাদত করে আগামী এগারো মাসের কৃচ্ছতা সাধনার শিক্ষা দেয় মাহে রমজান। আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূল সঃ এর আমল অনুযায়ী রোজা পালন করলে রমজান মাসে খরচ অর্ধেক কমে বাজারের দ্রব্যমূল্য কমে যায়।
*ইয়াহুদী –খৃষ্টানদের মতো রোজা রাখলে অন্যান্য মাসের তুলনায় রোজার মাসে খরচ দ্বিগুণ হয়ে যায়।বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়ে।অফিস আদালতে ঘুষ বাড়ে। হাটে বাজারে উলঙ্গ নারীদের মাংস প্রদর্শন হয় এবং ইফতার পার্টি ও ঈদের পোষাকের প্রতিযোগিতায় খৃষ্টমাচের মতো রোজা ও ঈদ এক পার্বণ হয়ে যায়।
*ইসলামের বিধান মতো রোজা রেখে ইফতার করলে হিসাব করে দেখা যায় যে,বাংলাদেশে এক রমযানের সঞ্চয়ে একটি যমুনাব্রীজ নির্মাণ করা যায়।
*আল্লাহ ক্বোরআনে নির্দেশ করেছেন,“তোমরা রাত্রি থেকে রাত্রি পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করবে”ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ (বাক্বারা-১৮৭)।
*রাসূল সঃ এর মৃত্যুর পর আরবরা ইয়াহুদী-খৃস্টানদের ন্যায় ইসলামী খেলাফতকে ছিনতাই করে মদিনায় রাসূলের সঃ প্রিয় দশ হাজার সাহাবীকে হত্যা করে, রাসূল সঃ এর রওজা ও মসজিদকে ঘোড়ার আস্তাবল বানায়, হাজার হাজার মুসলিম মেয়েদের ধর্ষন করে,এক হাজার কুমারীকে গর্ভবতী করে এবং কাবা ঘরকে পুড়ে ছাই করে ফেলে।তারপর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে সালাত,সিয়াম ও হজ্জকে বিকৃত করে। আজ মুসলিম বিশ্বে সে বিকৃত নামাজ-রোজা চালু। ফলে বিশ্বময় আজ মুসলিম জাতির এ দূর্দশা।ইসলামে সরকার প্রধান জুমা ও ঈদের ইমামতি করে।বারো কোটি মুসলমানের বাংলাদেশের খালেদা হাসিনার ইমামতিতে কি জুমা ও ঈদ পালন করা যায়?মেঘাবতীর পেছনে ইন্দোনেশিয়ায় পড়া যায়?বেনজীরের পেছনে পাকিস্থানে পড়া যায়?
*এভাবে স্বৈরশাসকরা তাদের ভাড়া খাটা মোল্লাদের দ্বারা ধর্মীয় কাঠামোকে তসনস করে দেয়।তাই সালাত ও সিয়াম সব আজ নিস্প্রাণ অন্তসারশূণ্য অনুষ্ঠান।
*এখন বিশ্বময় ডাক এসেছে,ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের অনুসরণের ধর্মাচার বাদ দিয়ে রাসূল সঃ এর দ্বীন,সমাজ ও রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার।রমজান মাসে ক্বোরআন নাযিল হয়েছে।তাই রমজান থেকেই আমরা কালেমা,সালাত ও সিয়াম দুরস্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি।
*আল ক্বোরআনে আল্লাহ বলেছেন সোবহে সাদেকের পূর্বে সেহরী শেষ করে রাত্রি পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করতে।তদ্রূপ আল ক্বোরআনে ফজর ও মাগরিবকে দিবসের দু’প্রান্ত“তারাফাঁইন নাহার”বলা হয়েছে।এশাকে বলা হয়েছে নিশার প্ররম্ভ বা “যুলাফাম মিনাললাইল”।অর্থাৎ ফজর যেমন রাত নয়,মাগরিবও রাত নয়।এশা শুরূ হলে রাত্রের আগমন ঘটে।তখন ইফতারের সময় হয়।মাগরিবের সময় নয়।
*অভিশপ্ত ইয়াহুদী-খৃষ্টানরা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে এক এশা আরেক এশা পর্যন্ত অর্থাৎ চব্বিশ ঘন্টা রোজা চালু করে।আখেরী নবী সঃ বলে যান ওদের অনুসরন না করে এশার ওয়াক্ত হতেই ইফতার করতে।
*আরব সাম্রাজ্যবাদীরা আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অমান্য করে ইসলাম ও ইয়াহুদীবাদ উভয় বাদ দিয়ে একটি তৃতীয় শয়তানী চালু করে।অর্থাৎ শেষ রাত্র থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।রাত পর্যন্ত নয়।ইয়াহুদীরা লম্বা করে ফেলে,ওদের চাচাতো ভাই আরবরা রোজাকে খাটো করে মানব জাতিকে মাহে রমজানের বরকত ও রহমত থেকে বিচ্যুত করে।
*ইফতারীর দোকানদাররা এটাকে লুফে নেয়।কারণ ইফতারের নামে মুসলিম বিশ্বে বাজারে অতিভোজ ও ভোগের জাহান্নাম শুরু হয়।দশ টাকার পেঁয়াজ বিশ টাকা হয়,পাঁচ টাকার বেগুন ষোল টাকা এবং এ হারে লুটের বাজার চালু হয়।
আর যদি ক্বোরআন ও রাসূল সঃ এর নির্দেশ অনুযায়ী ইফতার করা হয়, তা হলে ইসলামী সমাজ আসরের সময় থেকে মাগরিব ও মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত ঘরে ঘরে ক্বোরআন তেলাওয়াত ও শিক্ষার বেহেশ্‌তী সময় পায়। গৃহিণীরা দিবাভাগে রাতের খাবার পাকিয়ে ক্বোরআন শিক্ষায় স্বামী সন্তানদের সাথে শরীক হতে পারে। এশার আযানের পর যখন মানুষ রাতের খাবার খাবে, তখন তার সাথে পেয়াজী, বেগুনী, বুট, ভাজাপোড়া ও অন্যান্য রাক্ষুসে খাওয়া খাবে না। শুধু উপাদেয় সুপাচ্য সুষম খাদ্য খাবে। তাতে গৃহকর্তার অর্ধেক সাশ্রয় হবে। বাড়তি কামাই এর জন্য ঘুষ খেতে হবেনা। গৃহিনীর এতো কিছু পাকাতে গলদঘর্ম হতে হবেনা। এশা পড়ে ঘুমিয়ে আবার মধ্য রাতের পর ঘুম থেকে উঠে তৃপ্তিভরে তাহাজ্জুদ নামাজ ও ক্বোরআন তেলাওয়াত করতে পারবে। এখানে অতি গুরুত্বের সাথে মনে রাখতে হবে যা, ইসলামে “তারাবী” নামের কোন নামাজ নেই। রাসূল সঃ এরূপ কোন সালাতের সংযোজন কঠোর ভাবে নিষেধ করেছেন। (বোখারী-মুসলিম) খলিফা ওমর “বিদ্‌আত” বলে এটাকে চালু করে এ বলে যে, “যারা শেষ রাতে উঠে রমজানে তাহাজ্জুদ পড়বেনা, তারা রাত্রের প্রথমার্ধে হাট বাজারে আড্ডা না দিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে ক্বোরআন শুনুক। তবে এটি একটি বিদ্‌আত”। রাসূল সঃ যা করেন নি, ধর্মে তা করাই বিদ্‌আত। বিদ্‌আত দাঁড় করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু রমজান মাসে মস্‌জিদ কমিটি চাঁদা তোলা ও হাফেজ ভাড়া করে অতিরিক্ত আয়ের ব্যবস্থা করতে এ বিদ্‌আতকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, তার চাপে মাহে রমজানে ক্বোরআন বুঝার ফরজই চাপা পড়ে হারিয়ে গেছে। তারাবীর তারাহুড়ায় হাফেজ, ইমাম ও মুসল্লী সবাই ক্বোরআন শুনে বুঝে, ক্বোরআনের গভীরে পৌঁছার সুযোগ চীরতরে হারিয়েছে। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাই হি রাজিউন।
আল ক্বোরআনে আল্লাহ যেভাবে ফজর ও মাগরিবকে দিবসের দু’আঁচল বলেছেন, রাত নয়, তদরূপ রাসূল সঃ বলেছেন মাগরিব হলো দিবসের বিতির, যেমন এশার পর রাতের বিতির হয়। তাহাবীতে আব্দুল্লাহ ইবন উমর এ হাদীস বর্ণনা করেছে, বিতিরের অধ্যায়ে। এ বর্ণনা যেহেতু ক্বোরআনের সাথে মিল, তাই তা গ্রহণীয়।
যারা মুসলিম উম্মার চরম দুর্দিনে সত্য ও নাজাতের পথ চায়, তাদের সঠিক বুঝের জন্য সিয়াম ও ইফতারের সঠিক সময় ক্বোরআন ও রাসূল সঃ এর শিক্ষা অনুযায়ী দেওয়া হলো। সহজভাবে বুঝার জন্য দিনরাত, দিনের আচল ও রাতের প্রারম্ভ সূচক অত্যন্ত সূক্ষ্ণ নির্দেশক চিত্র তুলে ধরা হলো। যারা বুঝা ও আমলের জন্য আরও জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য আরও জিজ্ঞাসার সুযোগ রয়েছে। তাদের জন্য সঠিক সিয়াম সাধনা, বর্জনীয় ও করণীয় নির্দেশক আরও একটি পোস্টারও ছাপা হয়েছে। আর যারা বিবাদ ও ফিতনা সৃষ্টিতে আগ্রহী, তাদের সাথে বিতর্ক করার সময় ও সুযোগ নেই। তারা রোজ তিনবার ইফতার খেয়ে এক দিনে তিনটি করে রোজা রাখলেও তাতে আমার আপত্তি নেই, তারা যা খুশি করুক। আমি তাদের কেউ নই, তারাও আমার কেউ নয়। তারা গণধর্ম, গণতন্ত্র, গণরোজা, গণইফতার ও গণঈদ যত পারে, তাতে মেতে থাকুক। তাদের আনন্দ উৎসবে আমার ঈর্ষা নেই। কেয়ামতের দিন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের সামনে ফয়সালা হবে। রাসূল সঃ বলেছেন, “তোমরা ঠিক সময়ে ইফতার করবে, ইয়াহুদীদের মত দেরী করবে না”।তাঁর এ আদেশ অবশ্যই ইয়াহুদীদের ২৪ ঘণ্টার উপবাসের বিরুদ্ধে। তদ্রূপ, তা বর্তমানে রমজানের প্রহসনকারী নামধারী মুসলমানদের বিরুদ্ধেও, যারা ইয়াহুদীদের পদাঙ্ক অনুসরণে সিয়ামকে খাটো না করে রাত না হতেই দিনের প্রান্তভাগে সন্ধ্যায় ইফতার করে। ইয়াহুদী খৃষ্টানদের ন্যায় এদেরও সিয়াম হয় না।
এসো হে আল ক্বোরআনের অনুসারী নবী রাসূলদের সিয়াম পালনকারী আল্লাহর দাস দাসীরা! সঠিক সালাত ও সিয়াম পালন করে বিশ্বে পুনঃ মুস্‌লিম উম্মার পুনর্জাগরণের কাফেলায় শরীক হও।
ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ
অতঃপর তোমরা রাত্র পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর। (বাকারা-১৮৭)
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ
সালাত কায়েম কর দিবসের দু’আচলে এবং রাতের প্রারম্ভেও। (হুদ-১১৪)
দিবসের দু’ প্রান্তিক আঁচল হলো ফজর ও মাগরিব। রাতের শুরু হয় এশার ওয়াক্ত শুরু হলে। তাকে কুরআনে “যুলাফাম মিনাল লাইল” বলা হয়েছে। মাগরিব দিবসের দ্বিতীয় প্রান্ত, রাত্র নয়। ফজর ও মাগরিবকে আল্লাহ কুরআনে “তারাফাইন নাহার” বলে উল্লেখ করেছেন।

মৃত জীবিত করার পত্র

By : Maruf Al Berunee

قُمْ بِإذْنِ الله
মাননীয় (?) সংসদ সদস্য,
এম পিরা/ এম,পি সাহেবরা عليكم ما عليكم من الله وهو عليم بكم خبير
বিশ্বরাজনীতির ধর্মনিরপেক্ষতা ও নাস্তিকতার দিন শেষ। রাশিয়ান সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে। বুশ-বেয়ার ও শ্যারনরা ত্রিমুখী ক্রুসেডে নেমেছে। ধর্মকে ধর্ম দিয়ে রুখতে হয়। অধর্ম দিয়ে নয়। সে ধর্ম, বিশ্ব শান্তির, বিশ্ব ধর্মের হতে হবে। যার কোন খন্ডিত সীমানা নেই, হয়না। তবে সে ধর্ম ঘৃণ্য স্বার্থ ও সুবিধাবাদী সন্ত্রাসের জামাতী ইসলাম, বা সন্যাসবাদের তাবলীগী ইজতিমা নয়। পীর-ফকীরির ভোজবাজির খানকা সাজানোও নয়। তা আদম সন্তানদের এক পরিবার, এক বিশ্ব ও এক আল্লাহর, যার নাম হতে পারে “বিশ্বাসের বিশ্বায়ন”। শুধু তা দিয়েই ইবলিসের “বেশ্যায়নের বিশ্বায়ন” রুখে আদম পরিবারকে মর্ত্যে স্বর্গীয় সমাজ ব্যবস্থা উপহার দেয়া সম্ভব। রপ্তানী প্রকৃয়াজাত করণের নামে বিদেশী পাশব ভোগবাদী হায়নাদের এনে মা-বোনদের সম্ভ্রম নিলাম ও রপ্তানীর অবশ্যম্ভাবী পরিনতি হবে বাংলাদেশকে এইডস/ এইচআইভির মহামারীতে বিসর্জন দেয়া। ব্রাহ্মন্যবাদী ভারত এইডস মহামারীর রামায়নের জন্য তিন দিক থেকে তোমাদের ঘিরে রাক্ষসের ন্যায় হা করে আছে।

মুজিব-জিয়ার পরিণাম থেকে শিক্ষা নিয়ে, তাদের কন্যা-স্ত্রীর “সতীন হটাও” রাজনীতির “এক দফা” কর্মসূচী থেকে মৃত্যুশয্যার তওবা করে আল্লাহর দাসত্বের এক দফা রাজনীতিতে প্রবেশ করলে, কোটি টাকার নির্বাচন করে জাতীয় চোর হতে হবেনা। ভোটার প্রতি একশত টাকা ভাতা দিয়ে জনগন তাদের সেবক সাংসদকে পুষবে। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য হারাম পথে উপার্জন করতে হবেনা।

Heaven's Light বা স্বর্গীয় আলোর সূর্য্যদয় ঘটিয়ে হাযার হাযার বিলিয়ন বিদেশী মূলধন, ও লক্ষ বিলিয়ন মূল্যের মানব সম্পদ আকর্ষণের একটি নির্দেশিকা পত্র ও তার সাথে বিশ্বায়নের মহা সড়ক, বা Road Map গ্রন্থের এক কপি উপহার দেয়া হলো।
আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোন প্রতিদানের ভিখারী আমি না। সৃষ্টির দান দক্ষিনার উর্ধে উঠে আমি আহবান পৌছে দিলাম। যারা যারা এ পত্র ও বই পড়ে নিজ নিজ Pedigreeবা কুষ্টিনামার সন্ধান পাবে, তাদের যোগাযোগ কামনা করছি। আত্মপরিচিতিহীনদের নেতৃত্বের দ্বারা সমাজ সেখানে যায়, যেখানে আজ বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে! এক নম্বর দূর্নীতিবাজ, একনম্বর দরিদ্র ও এক নম্বর পুরুষত্বহীন নারী নেতৃত্বের স্বেচ্ছাচারে নিমজ্জিত! আরো কিছু বিশেষণ চাই?!
এ আবেদন পেয়ে না জাগলে তাও জুটবে, তা হলো জাহান্নাম। ইহকালে ও পরকালে।

রমজান - রহমত , গুনাহ্ মাফ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি বনাম অভিশাপ, লা’নত্ ও আল্লাহর গজবের মাস

By : Maruf Al Berunee
রমজান মাস রহমত , গুনাহ্ মাফ্ ও জাহান্নাম হতে মুক্তির মাস ।।
রমজান মাস রহমতের মাস তাদের জন্য - যারাঃ
আল্লাহর বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করে যে شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ
* এই সেই রমজান মাস, যে মাসে ক্বোর'আন অবতীর্ণ হয়েছে মানুষমাত্রের পথ নির্দেশনার জন্য , যাতে সবিস্তার হেদায়াত রয়েছে , যা ন্যায় অন্যায় যাচাইয়ের কষ্টিপাথর।”
* আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূল (সা:) এর আমল অনুযায়ী সিয়াম সাধনা করবে ।
* ক্বোর'আন শিখবে ও শিখাবে , অর্থ বুঝে আমল করবে ।
* না বুঝে ক্বোর'আন খতমের প্রচলন ত্যাগ করে পরিবার ও সমাজে ক্বোরআন বুঝে পড়ার প্রচলন করবে ।
* ব্যবসায়ী হলে রমজান মাসে জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি করবে না।
* জনসাধারণ হলে রমজান মাসে কম খেয়ে বেশী এবাদতের দ্বারা সংযমের অনুশীলন করবে ।
* বেশী খেয়ে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর কারণ হবে না। “রমজান মাসে খাওয়ার হিসাব হয় না” এ কথা ভুল এবং এটা ধর্ম ব্যবসায়ী পরভুক শ্রেনীর বানোয়াট ।
* অফিস আদালতে রোজার মাসে বেশী খাওয়া ও ঈদের জন্য ঘুষ খাবে না ।
* হালাল খেয়ে রোজা থাকবে এবং হালাল দিয়ে ইফতার করবে ।
* না বুঝে “তাড়াহুড়ার তারাবী” ত্যাগ করে মধ্যরাতের পর উঠে ক্বোর'আন বুঝে পড়ে আল্লাহর সামনে সালাত বা নামাজে দাঁড়াবে , যেমন আখেরী নবী (সঃ) করতেন।
* মেয়েরা বে-পর্দা হাটে-বাজারে না ঘুরে বাড়িতে বসে ক্বোর'আন শিক্ষা ও সিয়াম সাধনায় রমজান মাস কাটাবে।
* রমজান মাসে যে সমস্ত নারী বাড়তি আয়ের জন্য স্বামীদের ঘুষ ও হারাম উপার্জন থেকে বিরত রাখবে।
* পিতা-মাতারা রমজান মাসে কোর'আন শিক্ষার মাধ্যমে সন্তানদের চরিত্র গঠনের বিশেষ উদ্যোগ নিবে।
* বে-রোজদারদের ‘'ইফতার পার্টি’তে কোন পরিস্থিতিতেই যোগ দিবে না।
* যে সমস্ত আলেম রোজার মাসে যাকাত, ফেত্রার ভিক্ষায় না নেমে বিনা পারিশ্রমিকে জনগনকে রমজান ও ক্বোরআনের শিক্ষাদানের এবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা করবে।
* সাধ্য মতো জাতি ধর্ম নির্বিশেষে গরীব মিস্কিনদের হালাল মালের যাকাত সদকা দানে সাহায্য করবে। হারাম মালের যাকাত সদকা হয় না।
* সিয়াম সাধনার মাধ্যমে বিগত বছরের পাপ থেকে খাঁটি তওবা করে আগামী এগারো মাস পাপমুক্ত জীবন যাপনের শপথ নিবে।
* অর্থবহ সিয়াম সাধনার মাধ্যমে “শবে ক্বদরের” অন্বেষা এবং এ’তেকাফের অনুশীলন করে আত্মশুদ্ধির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে এবং
* সবশেষে আল্লাহর শুকুরের জন্য রমজান পালনকারীদের সাথে এক কাতার হয়ে ঈদের নামাযান্তে ঈদের আনন্দ উদযাপন করবে। একমাত্র এদের জন্যই “খুশীর ঈদ”।
রমজান মাস গজব ও লা’নতের মাস তাদের জন্য - যারাঃ
# রোজার মাসকে লোক দেখানো ‘মুসলমান’ নামধারী সম্প্র্রদায়ের “ঐচ্ছিক উপবাসের” মাস হিসেবে গন্য করে। ক্বোর'আনের শিক্ষা, দীক্ষা ও কর্মসূচী বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পালন না করে নিরর্থক তারাবী ও ক্বোরআন খতমের প্রহসন করে।
# যে সমস্ত ধর্ম ব্যবসায়ী আলেম রমজান মাসে স্বীয় এবাদত না করে যাকাত ফেত্রার জন্য ফাসেক-ফাজেরদের দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা দেয়।
# যে সমস্ত ধর্ম ব্যবসায়ী বৈধ-অবৈধ নির্বিশেষে বিত্তবানদের নিকট ক্বোর'আন খতম ও সওয়াব বিক্রী করবে এবং তাদের ইফতার পার্টিতে যোগ দিবে।
# যে সমস্ত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা ক্বোরআনকে আল্লাহর দেয়া একমাত্র জীবন বিধান না মেনে জনগনের পয়সায় ইফতার পার্টি, ঈদের জামাত ও ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করে।
# যে সমস্ত রাজনৈতিক দল ও অরাজনৈতিক সংগঠন ইসলাম ও ক্বোরআনে ঈমান রাখে না, রোজাও পালন করে না, অথচ রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্দেশ্যে জনগণকে প্রতারণার জন্য ইফতার পার্টি ও ঈদ পুনর্মিলনী করে।
# যে সমস্ত ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফাখোরীর জন্য দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করে।
# যারা সংযমের মাসে অতিভোজের দ্বারা বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়ায় ও মূল্য বৃদ্ধির কারণ হয়।
# যে সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঈদ ও ভোগের জন্য অফিস আদালতে ঘুষের জন্য ফাইল আটকায়।
# যে সমস্ত মেয়েরা শাড়ি ও ঈদের পোশাকের জন্য পরিবার প্রধানদের অবৈধ উপার্জনে বাধ্য করে।
# যে সমস্ত মেয়েরা রোজার মাসে হাটে-বাজারে বেপর্দা হয়ে উদোম মাংস দেখিয়ে কেনাকাটা করতে বের হয়।
# যে সমস্ত নর-নারী মাহে রমজানের সিয়াম সাধনায় বিশ্বাসী নয়, পালনও করে না, অথচ ইফতার এবং ঈদের ভোগ
ও আনন্দের প্রহসন করে।
# যে সমস্ত ধনী হালাল হারাম নির্বিচারে অর্থোপার্জন করে রোজার মাসে ক্বোরআন খতম ও দোয়ার মজলিস করে এবং জেয়াফত ও যাকাতের কাপড় বন্টনের “শো” করে। কারণ, হারাম পথে অর্জিত সম্পদের মালিকানা হয় না, তাই তার দান-খয়রাতও অবৈধ।
# যে সমস্ত প্রচার মাধ্যম, বেতার, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সিনেমা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রত্যেক্ষ বা পরোক্ষভাবে অশ্লীলতা প্রচারে লিপ্ত থাকে।
# যে সমস্ত লোকেরা ফরজ নামায পড়ে না, ফরজ রোজা রাখে না এবং ক্বোরআনে পাকের বিধি নিষেধ মানে না, অথচ ঈদের বাজারে ভীড় জমায় এবং ঈদের জামাতে প্রথম সারিতে প্রচার মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হয়।
# সবার ঊর্ধ্বে ঐ সমস্ত আলেম ও খতীবদের উপর আল্লাহ, তাঁর ফেরেশ্তারা ও পবিত্র আত্মাদের লা’নত ও ধিক্কার, যারা মাহে রমজানের নাযিলকৃত আল্-ক্বোরআনের অমান্যকারী শাসক ও জনগোষ্ঠির ঈদের জামাতের ইমামতি করে, অথচ, নবী (সঃ)-এর নির্দেশ মতো ঘোষনা করে না-“যারা যথার্থ রমজান পালন করেনি, তারা আমাদের ঈদগাহের কাছেও ঘেঁষবে না। আজ যারা নতুন নতুন পোষাক পরে এসেছো, তাদের জন্য ঈদ নয়। তাঁদের জন্য আজ অভিসম্পাত। যারা সিয়াম সাধনায় উত্তীর্ণ, একমাত্র আজ তাদের জন্য ঈদ”।
হে ঈমানদার নর-নারী ! বিশ্বময় নারী পুরুষের স্বেচ্ছাচারিতার ফলে বিপন্ন মানবজাতির মুক্তি ও তার নেতৃত্ব দানের জন্য আগত মাহে রমজানে আত্মশুদ্ধির সিয়াম সাধনার শপথ নিয়ে তওবা কর। মানব মুক্তির আদি তীর্থ, পবিত্র মক্কা, মদিনাহ্ এবং বাইতুল মাকদিস আজ এক বিশ্ব মুক্তি দাতার আগমনের প্রহর গুনছে। জেরুজালেমের মতো মক্কা মদিনাহ্ অভিশপ্ত ইয়াহুদীবাদ এবং পথভ্রষ্ঠ খৃষ্টবাদের সেবা দাসদের হাতে অবরুদ্ধ, জিম্মী। হযরত ইব্রাহীম ও হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এবং মা হাজেরা ও মা খাদিজার পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার হাট-বাজারও বর্তমানে সারারাত পাপিষ্ঠ নর-নারীর পাপাচারের মেলা।
অতএব, হে ইব্রাহীম, মুহাম্মদ (সঃ), বিবি হাজেরা ও বিবি খাদিজার আদর্শের সন্তানেরা, এসো, এই রমজানেই আমরা ইব্রাহীম ও মুহাম্মদী তওবা করি। কারণ,
(এক) এই রমজান মাসেই সৃষ্টির কল্যাণের পূর্ণ বিধান আল-ক্বোর'আন নাযিল হয়েছে।
(দুই) এই রমজানেই বদরের যুদ্ধের দ্বারা অন্যায় উৎখাতের সশস্ত্র জেহাদের সূচনা হয়, এবং
(তিন) এই রমজানেই ধর্মাবেসাতী কোরেশদের হাত থেকে মক্কা বিজয় ও পবিত্র হয়।
শয়তান কর্তৃক ইসলামে ইয়াহুদীবাদ, খৃস্টবাদ, শিয়া ও সুন্নিবাদের বিভক্তি, খন্ডিত রাষ্ট্রীয় সীমানা, ঘর ভাঙ্গা স্বেচ্ছাচারী নারী ও তাদের পুরুষ দালালদের স্বৈরাচার দ্বারা শোষিত ও প্রতারিত বিশ্ববাসী, এসো, আমরা এই পবিত্র মাসে তওবা ও শপথের মাধ্যমে সকল সংকট উত্তরণ, আল্লাহর রহমত্, মাগফিরাত ও মুক্তি অর্জন করে আখেরী নবী (সঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী বাংলাদেশকে “বিশ্ব তৌহিদী জাগরণের উৎস” রূপ দানে ধন্য হই।
যারা রমজান মাসে নাযিলকৃত ক্বোরআনের নির্দেশাবলীকে মানব সমাজে বর্ণনা না করে, অর্থাৎ গোপন করে, অনুষ্ঠান সর্বস্ব বাৎসরিক পার্বণরুপে রোজার উপবাস করে ও ঈদের উৎসব করে , তারা ভূপৃষ্ঠে নিকৃষ্টতম অভিশপ্ত জাত । প্রমাণ:
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَىٰ مِن بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ ۙ أُولَٰئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ
আল্লাহ বলেন “ আমি গোটা মানব জাতির পথ নির্দেশ রুপে দ্ব্যর্থহীন ভাবে যা’ আল কোরআনে নাযিল করেছি , তাকে যারাই গোপন করে , তাদের সকলকে আমি আল্লাহ স্বয়ং এবং আমার সাথে আমার সৃষ্ট সকল অভিসম্পাতকারী অবশ্যই অভিসম্পাত করে ।” (বাক্বারা ১৫৯)

Copyright © Technology Is For Us, We Are Not For Technology!!! - - Designed by Maruf Al Berunee -