- Back to Home »
- মাওলানা রূমি নিয়ে অতীতের কিছু লিখা।
Posted by : Maruf Al Berunee
Wednesday, January 30, 2019
ইউরোপ ও অ্যামেরিকা সহ সারাবিশ্বের অমুসলিমরা যে মানুষটির লেখা সবচেয়ে বেশি পড়েন, তিনি মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি। তাঁর ৫ টি বই ও একটি উপদেশ বাণী রয়েছে।
১। মসনবী, (৬ খণ্ড, ২৬০০০ কবিতার লাইন)
২। দিওয়ানে কবির, (৪০০০০ কবিতার লাইন)
৩। ফিহি মা ফিহি, (বিভিন্ন সভা ও মসলিসে দেয়া বক্তব্য)
৪। মাজালিশ-ই শব, (সাতটি বড় বক্তৃতা)
৫। মাকতুবাত, (১৪৭ টি চিঠি)
আর একটি উপদেশ রয়েছে। উপদেশটি হলো –
"অল্প খাও, স্বল্প ঘুমাও, কম কথা বল। গুনাহ থেকে দূরে থাক, সবসময় কাজ কর। সুখের অনুসন্ধানী মানুষদের থেকে দূরে থাক, এসব মানুষ তোমাকে যন্ত্রণা দিয়ে যাবে। সৎ, ভালো ও সুভাষী মানুষের সাথে থাক। ভালো মানুষ তারা, যাদের দ্বারা সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়। আর, ভালো কথা হলো তাই, যা সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ। সকল প্রশংসা এক মাত্র আল্লাহর।"
---------
একজন জ্ঞানী ব্যক্তি যা যা চিন্তা করে, সব কথা মুখে বলে দেয় না। বরং মুখে যত কথা বলে, সব কথা নিয়ে চিন্তা করে। - মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি।
---------
রূমি বলেন -
ক্ষুধা পেটে ধৈর্য ধরার নাম "রোজা",
দুঃখে সময় ধৈর্য ধরার নাম "দৃঢ়তা",
মানুষের আচরণে ধৈর্য ধরার নাম "সহিষ্ণুতা",
খুব ইচ্ছা হলে ধৈর্য ধরার নাম "দোয়া",
আবেগে ধৈর্য ধরার নাম "অশ্রুজল",
মনে পড়লে ধৈর্য ধরার নাম "একাকীত্ব",
এবং,
প্রিয় মানুষের জন্যে ধৈর্যের নাম "ভালোবাসা"
[২]
অন্যের জন্যে ধৈর্য ধারণ করার নাম ভালোবাসা।
নিজের জন্যে ধৈর্য ধারণ করার নাম আশা।
এবং
আল্লাহর জন্যে ধৈর্য ধারণ করার নাম বিশ্বাস।
----------
ভালোবাসার জ্ঞান নিয়ে আলাপ করতেন রুমি। তাঁর আগে সক্রেটিস আলাপ করতেন জ্ঞানের ভালোবাসা নিয়ে। শুরুটা না হয় হোক 'জ্ঞানের ভালোবাসা' দিয়ে, কিন্তু শেষ তো হবে 'ভালোবাসার জ্ঞান' দিয়ে। শুরুটা না হয় হোক 'إقرا' দিয়ে, কিন্তু শেষে তো চাই তাঁর ভালোবাসা। আর বিশ্বাস (ايمان) -ই তো হলো ভালোবাসার মূলমন্ত্র।
--------
বিচারপতিদের এক বৈঠকে এরদোয়ান বলেন – "আদালত হলো রাষ্ট্রের ছাদ। আদালতের কাজ সম্পর্কে পৃথিবীতে অনেকে দার্শনিক ও রাজনীতিবিদ কথা বলেছেন। তবে সবচেয়ে মূল্যবান কথা বলেছেন মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমি"।
মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমি বলেছেন – “জুতাকে পায়ের নিচে রাখা, আর টুপিকে মাথার উপর রাখা-ই আদালতের কাজ। যখন টুপিকে পায়ের নিচে রাখা হয়, এবং জুতাকে মাথার উপর রাখা হয়, তখন আদালত ভেঙ্গে পড়ে। তিনি আরো বলেন, নায় বিচার হলো গাছে পানি দেয়া, আর, জুলুম হলো আগাছায় পানি দেয়া।”
এরদোয়ান বলেন – "আদালতের কাজ হলো, যে যা প্রাপ্য, তাকে সেটা বুঝিয়ে দেয়া। আর, জুলুম হলো, যে যা প্রাপ্য, তাকে সেটা না দেওয়া। দেশে যখন আদালত প্রতিষ্ঠা থাকে, তখন দেশে শান্তি থাকে। কিন্তু যখন আদালত ভেঙ্গে পড়ে, তখন দেশে অশান্তি শুরু হয়"।
--------
মৃত মাটির থেকে আমি বৃক্ষে উদ্ভাসিত,
উদ্ভিদ হয়ে মরি আমি পশুতে বিকশিত।
পশু হয়ে মরি আমি, মানুষ হয়ে প্রকাশিত,
মানুষ হয়ে মরতে কি ভয়? যদি হই উন্নীত।
- মাওলানা জাল্লালুদ্দিন রুমি।
از جمادی مردم و نامی شدم ** وز نما مردم به حیوان برزدم
مردم از حیوانی و آدم شدم ** پس چه ترسم کی ز مردن کم شدم
I died to the inorganic state and became endowed with growth, and (then) I died to (vegetable) growth and attained to the animal. I died from animality and became Adam (man): why, then, should I fear? When have I become less by dying?
----------
১৫ আগস্ট বাংলাদেশে কারো মৃত্যুবার্ষিকী এবং কারো জন্মবার্ষিকী। মৃত্যুবার্ষিকী-ওয়ালারা জন্মবার্ষিকী-ওয়ালাদেরকে সহ্য করতে পারে না, আবার, জন্মবার্ষিকী-ওয়লারা মৃত্যুবার্ষিকী-ওয়ালাদের সহ্য করতে পারে না। ফলে, এ নিয়ে অনেক তর্কাতর্কি হয়, কখনো কখনো মারামারি এবং রক্তারক্তিও হয়।
এ সমস্যার সমাধান দিয়েছেন আল্লামা জালাল উদ্দিন রূমি। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীকে বলা হয় "শব্বে আরুজ" বা জন্মের রাত্রি বা জন্মবার্ষিকী। কারণ, জালাল উদ্দিন রূমি মনে করতেন, মৃত্যু জীবনের শেষ নয়, বরং মৃত্যুর মাধ্যমে অন্য একটি জীবনের সূচনা ঘটে। তাই রূমির অনুসারীগণ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীকে জন্মবার্ষিকী হিসাবে পালন করেন।
আল্লামা রূমির মতো আমরাও চাইলে কারো কারো মৃত্যুবার্ষিকীকে জন্মবার্ষিকী হিসাবে পালন করতে পারি।
