Popular Post

Posted by : Maruf Al Berunee Wednesday, November 28, 2018

কুমন্ত্রনাদাতার কুমন্ত্রনা থেকে প্রতিপালকের আশ্রয় চেয়ে, সেই এক ও অদ্বিতীয় পরম করুনাময়, দয়াল স্রষ্টার নামে পড়ছি
৪২. তিনি আল্লাহ (একমাত্র তাঁরই এই ক্ষমতা রয়েছে), যিনি মৃত্যু এলে বা ঘুমের সময় আত্মাকে তুলে নেন। তারপর যার মৃত্যু অবধারিত তার আত্মা রেখে দেন। আর অন্যদের আত্মা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ফিরিয়ে দেন। সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগকারীদের জন্যে এর মধ্যে শিক্ষণীয় নিদর্শন রয়েছে!
৪৩. হায়! এরপরও ওরা আল্লাহর পাশাপাশি (অন্যদের স্রষ্টার পরিবর্তে বিধানদাতা, আইন প্রণেতা, ক্ষমতার কাল্পনিক উৎস বানিয়ে) বেছে নিয়েছে সুপারিশকারী হিসেবে।
ওদের জিজ্ঞেস করো, ‘ওদের কোনো ক্ষমতা বা বোঝার শক্তি না থাকলেও?’
৪৪. বলো, ‘সুপারিশ করার ক্ষমতা পুরোপুরিই আল্লাহর এখতিয়ারে। মহাকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব শুধু আল্লাহর। শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।’
এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টায় বিশ্বাসীরা কখনো সার্বভৌমত্ব কোন দেশ, জমিন, কাগজ বা মানুষের হাতে লিখিত কিতাবে আরোপিত করতে পারে না — স্রষ্টার সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করানোর কুটকৌশল হিসেবেই সার্বভৌমত্ব আরোপ করা হয় মানুষের সৃজিত পলিটিক্যাল বাউন্ডারি দিয়ে বিশ্বকে খন্ড বিখন্ড করে, জাতিতে জাতিতে ভেদাভেদকারী রাষ্ট্রের উপর, আরোপিত হয় গণতান্ত্রিক সংবিধানের উপর, সার্বভৌমত্ব ও সুপ্রিম বলা হয় সিকিউরিটি কাউন্সিল বা সেকুলার সুপ্রিম কোর্টকে
৪৫. যারা আখেরাতে জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে না (চিনে রাখুন, এরাই সেই গণতন্ত্রের ধ্বজ্জাধারী সেকুলারিস্ট), শুধু এক আল্লাহর কথা বলা হলে তাদের মন বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয়ে যায়আর আল্লাহ ছাড়া কল্পিত উপাস্যদের কথা উল্লেখ করা হলে ওরা আনন্দে উল্লসিত হয়ে ওঠে।
সারাদিন এদের মুখে স্রষ্টাবিরোধী ‘জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস’ সহ আরো বিভিন্ন তাগুতি স্লোগানের খই ফোটে, অথচ এরা জনগনকে ধোঁকা দেওয়া ও জনগনের অর্থ লুটপাটকেই তাদের রাজনৈতিক ব্যবসায় পরিণত করে — এরাই নব্য মুনাফিক যারা একদিকে ভাব দেখায় জনগনের জন্য তাদের দরদের শেষ নেই, আবার এরাই জনগনের টাকা দেদারছে লুট করে, তাদের সকল অধিকারকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজেদের ভোগবিলাসকেই একমাত্র প্রাধান্য করে; অথচ ভোটের আগে তাদের দুয়ারেই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট ভিক্ষা চায়, ভোটের পর অধিকাংশ সময়েই জনগনকে ভুলে যায় — এই হলো এদের মুনাফেকি বা দুমুখো চরিত্র
৪৬. বলো, ‘হে আল্লাহ! মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা! দৃশ্যমান ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা! তোমার বান্দারা যে-বিষয়ে মতবিরোধ করছে, তুমি এর ফয়সালা করে দিও।’
৪৭. জালেমরা যদি পৃথিবীর সব সম্পদ বা তার দ্বিগুণ সম্পদের মালিকও হয়, তবে মহাবিচার দিবসে তারা কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তির জন্যে মুক্তিপণ হিসেবে তা দিতে চাইবে (কিন্তু তা গ্রহণ করা হবে না)। ওরা তখন এমন অবধারিত বাস্তবতার মুখোমুখি হবে, যা ছিল ওদের কল্পনার বাইরে।
৪৮. ওদের সারাজীবনের দুষ্কর্ম ওদের সামনে দৃশ্যমান হবে আর যে মহাশাস্তি নিয়ে ওরা হাসি-তামাশা করত, তা ওদের ঘিরে ফেলবে।
সুরা যুমার, ৩৯.৪২-৪৭

Leave a Reply

Subscribe to Posts | Subscribe to Comments

Copyright © Technology Is For Us, We Are Not For Technology!!! - - Designed by Maruf Al Berunee -